সীতাকুন্ডে ড্রাম ট্রাক থেকে ছিটকে পড়ছে স্ক্র্যাপ, ঘটছে দূর্ঘটনা


  • উপজেলা প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকন্ঠ
  • ০৫ আগস্ট ২০২২, ২৩:২৪

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এই উপজেলায় রয়েছে শতাধিক মিল কারখানা, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় বিশ হাজারের অধিক বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই উপজেলা দিয়ে পার হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে গড়ে উঠেছে কয়েকটি কন্টেইনার ডিপো, সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, রি-রোলিং মিল্স ও অটো রি-রোলিং মিল্সসহ শতাধিক বিভিন্ন কলকারখানা।

উপজেলার সিটি গেইট হতে সীতাকুন্ডের মধ্যে অর্ধেকের দক্ষিণে মহাসড়কের দুইপাশে শত শত শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের জাহাজের মালামালের দোকান সাড়িবদ্ধভাবে রয়েছে। প্রতিদিন সকাল হইতে বিকাল পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশ দিয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন কিন্টার গার্ডেনের ছোট ছোট শিশুরা যাতায়াত করে। এই যাতায়াতের সময় ড্রাম ট্রাক থেকে ছিটকে পড়ছে স্ক্র্যাপ লোহা, আহত হচ্ছে জনসাধারণ স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা।

জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে দেশের নামিদামি কয়েকটি অটো রি-রোলিং মিল্স। এই অটো রি-রোলিং মিলস গুলো রড তৈরি করতে বিদেশ থেকে কাঁচা মাল (স্ক্যাপ লোহা) আমদানি করতে হয়। এই লোহার স্ক্র্যাপগুলো আমদানি করে নিয়ে আসে চট্টগ্রাম বন্দরে।

প্রতিদিন শত শত তাদের কারখানার নিজস্ব ড্রাম ট্র্যাক ও লরি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মহাসড়ক দিয়ে সীতাকুন্ডে তাদের রি-রোলিং মিলে নিয়ে আসেন। ড্রাম ট্রাক ও লরিগুলো এমনভাবে বোঝাই করে স্ক্র্যাপ নিয়ে আসেন ট্রাকের ধারণ ক্ষমতার চেয়েও বেশি। এতে মহাসড়কে প্রতিদিন ড্রাম ট্রাক থেকে ছিটকে পড়ছে স্ক্র্যাপ লোহা, ঘটছে দূর্ঘটনা। এমনকি ড্রাম ট্রাকের পিছনে থাকা বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে।

ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মোটরসাইকেল আরোহী শয়ন দাশ জানান, আমি একজন ব্যবসায়ী। প্রতিদিন মোটরসাইকেল চালিয়ে ব্যবসার কাজে মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। গত এক সপ্তাহ আগে আমার সামনে অটো রি-রোলিং মিলের নিজস্ব ড্রাম ট্রাক দিয়ে স্ক্র্যাপ নেয়ার সময় ভাটিয়ারী এলাকায় আমার সামনে ২০ কেজি ওজনের একটি স্ক্র্যাপ লোহা ড্রাম ট্রাকের ওপর থেকে আমার সামনে ছিটকে পড়ে। আমি এদিক ঐদিক ছুটতে থাকি। দূর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পায়। আর এই স্ক্র্যাপ লোহটি নেওয়ার জন্য মহাসড়কের পাশ থেকে দৌঁড়ে আসে লোকজন। তারা যে দূর্ঘটনার স্বীকার হবে তাও চিন্তা করে না।

তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে এক মোটরসাইকেল আরোহীর সামনে স্ক্র্যাপ পড়ে দূর্ঘটনার স্বীকার হয়। এই ধরনের ড্রাম ট্রাক গুলো স্ক্র্যাপ কমিয়ে না আনলে আরো বড় ধরনের বিপদ হবে বলে আমি আশংকা করছি।

অটো রি-রোলিং মিলের এক ড্রাম ট্রাকের ড্রাইভার বলেন, আমরা কোম্পানির গাড়ি চালায়। বন্দরে কোম্পানির কর্মকর্তারা থাকেন তারা ড্রাম ট্রাকগুলোতে ধারন ক্ষমতারও স্ক্র্যাপ লোহা দিয়ে দেয়, আমাদের করার কিছুই নেই। আমরা একটু কম দিতে বললে তারা আমাদের বিভিন্ন ধরনের বকাবাকি করে।

মাদামবিবির হাট ট্রাক ড্রাইভার মো. লোকমান বলেন, আমিএকজন ট্রাক ড্রাইভার এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ড্রাম ট্রাক দিয়ে পাহাড়ের মত উচুউচু করে স্ক্র্যাপ নিয়ে যায় বিভিন্ন কারখানাগুলো। মহাসড়ক দিয়ে নেয়ার সময় সড়কের মাঝখানে ড্রাম ট্রাক থেকে স্ক্র্যাপ ছিটকে পড়ে। এতে পিছনে থাকা অন্যঅন্য গাড়িগুলো দুর্ঘটনা শিকার হয়। গত এক সপ্তাকে আগে আমি চট্টগ্রাম থেকে মাদাম বিবির হাট আসার সময় বানুর বাজার এলাকায় অতিক্রম কালে সমনে একটি ড্রাম ট্রাক থেকে একটি স্ক্র্যপ ছিটকে পড়ে। এতে আমার ক্রেনের পিছনের চাকায় স্ক্র্যাপে ঢায়ার কেটে যায়। আমার ক্রেনের একটি চাকা নষ্ট হয়ে যায়। আমার ক্রেনের একটি চাকা কিনতে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা লাগছে। আমার এই টাকাগুলো কে দিবে?


poisha bazar