জৈন্তাপুর থানায় ফোন করে ত্রাণ পেল বন্যার্ত পরিবার


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৭ জুন ২০২২, ২১:২৩

সিলেটের জৈন্তাপুরে মডেল থানায় ফোন করে ফোন করে রাতের আঁধারে ত্রাণ সহায়তা পেল একটি পরিবার৷

জৈন্তাপুর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করে দুর্গম বন্যার্ত এলাকা হতে ফোন আসে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমেদের নিকট৷ ফোনের অপর প্রাপ্ত হতে ক্ষুর্ধাত কন্ঠে চাওয়া হয় ত্রাণ সহায়তা৷ জানানো হয় কারও পক্ষ হতে কোন ত্রাণ আমরা পাইনি৷ বাড়ি ঘরে ফেলে এবং চক্ষু লজ্জার কারণে উঠতে পারিনি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে৷ এছাড়া অনেকেই এমনকি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পাশে যায়নি তাদের৷

সামর্থ থাকার পরও জীবনে প্রথমবার বন্যা আক্রান্ত হয়ে সবকিছু বেশামাল হয়ে পড়ে৷ তাই তারা কি করবে কিভাবে খাবে কোন কিছু করতে পারছিলনা৷ অবশেষে ক্ষুধার্ত কন্ঠে একান্ত বাধ্য হয়ে থানায় ফোন দেয়৷

এদিকে ওসি ফোন পেয়ে সিলেটের মানবিক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম-এর অনুমতি নিয়ে তার টিম নিয়ে রাতের আঁধারে সেই বন্যার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান৷ সরজমিনে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাদের সাথে কথা বলে বন্যার্ত পরিবারটিকে যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন৷

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবারের সদস্য বলেন, আমাদের মত মানুষ ত্রাণ সহায়তা চাওয়া কিংবা পাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই৷ কিন্তু বন্যার পরিস্থিতিতে আটকা পড়ে একান্ত বাধ্য হয়েই পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে হয়েছে৷ সাহায্য চাওয়ার এক ঘন্টার মধ্যে পানি অতিক্রম করে লোকচক্ষুর অন্তরালে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম দস্তগীর আহমেদ ত্রাণ নিয়ে হাজির হন৷ আমি ও আমার পরিবার যতেষ্ট খুশি হয়েছি৷ আমি তাদের সাফল্য কামনা করি৷

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমেদ বলেন, অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি রয়েছে৷ যদি তাদের সক্ষমতা রয়েছে কিন্তু দুর্যোগের কবলে পড়ে তারা কারও কাছে কিছু চাইতে পারছে না৷ তারা সহায়তা পাচ্ছে না৷ অথচ উপজেলার অনেক পরিবার এরকম থাকতে পারে৷ পরিবারটি আমার নিকট সাহায্য চাওয়ায় আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তার পাশে দাঁড়িয়েছি৷

তিনি আরও বলেন, আপনাদের মাধ্যমে উপজেলার বন্যার্তদের জানাচ্ছি কোন পরিবার যদি সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে তাহলে আমাকে ফোন দিলে আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে লোক চক্ষুর আড়ালে সহায়তা পৌঁছে দিব৷ এ বিষয়ে জেলার মন্যবর মানবিক পুলিশ সুপারের বিশেষ অনুমতি রয়েছে পাশাপাশি আমরা প্রস্তুত রয়েছি৷ 

 

মানবকন্ঠ/পিবি


poisha bazar