নৌকার কারিগর মুন্টু সন্ন্যাসী


  • উপজেলা প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকন্ঠ
  • ২৪ জুন ২০২২, ২০:২৪

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম ঝুপদুয়ার। সবুজ শ্যামল প্রকৃতির মাঝে সরু চিকন গ্রামটিতে মোট ৪০ ঘর মানুষের বসবাস। যেখানে ৩৮ ঘর হিন্দু ও ২ ঘর মুসলমান।

বর্ষাকালে নৌকা বানানোর পাশাপাশি মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এ গ্রামের লোকজনের তেমন কোন জমিজমা নেই বলে কায়িক পরিশ্রম করে সংসার চালাতে হয় এদের। বিশেষ করে নৌকার কারিগর মুন্ট সন্ন্যাসী নৌকা তৈরি করেই সংসার চালায় বারমাস।

বর্ষা শুরুর আগ থেকেই কাঠ লোহা টিন আর গোবর দিয়ে তৈরি করতে থাকে ছোট বড় ও মাঝারি মাপের ফিনিস নৌকা। এ বছর বর্ষা এখনও আসেনি বলে থেমে নেই তার নৌকা বানানোর কাজ। মাছধরা ও মানুষ পারাপারের কাজে ব্যবহৃত হয় মুন্টু সন্ন্যাসীর নৌকা।

ঝুপদুয়ার গ্রামের রাম দয়ালের ছেলে মুন্টু সন্ন্যাসী, যে কিনা নৌকা বানিয়ে বিক্রি করেই জীবিকানির্বাহ করে। মুন্টু সন্ন্যাসীর নৌকা বানানোর কাজে সহায়তা করে সংসার চলে একই গ্রামের আরও ৬ জন। গত বছরের চাইতে নৌকা বানানোর সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর নৌকার খরচ একটু বেশি হলেও নৌকার চাহিদা আগের মত না থাকায় সংসার চালাতে অনেকটা হিমসিম খেতে হয় নৌকার এসব কারিগরদের।

মুন্টু সন্নাসীর সহযোগী সুজন বলেন, বর্ষার এই তিনমাস তেমন কাজকর্ম না থাকায় নৌকা বানানোর কাজে সহযোগিতা করে যে পারিশ্রমিক পায় তা দিয়ে কোনরকম সংসার চলে আমার। ৫২ বছর বয়সী মুন্টু সন্ন্যাসী প্রায় ৩৫ বছর ধরে হাতুড়ি বাটাল কুড়াল নিয়ে বাপদাদার এই পেশার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। অভাব-অনটন সবকিছুর মাঝেও নৌকা বানানোই তার প্রধান পেশা। নেশাও বলা যেতে পারে। নৌকা বানিয়ে বিক্রি করে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রী, মা, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ৬ জনের সংসার তার। মুন্টু সন্নাসীর নৌকার সুনাম আশপাশে চারিদিকে।

মুন্টু সন্নাসী বলেন, শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়ে গেছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। যার ফলে নৌকা বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট পোহাতে হয় তাকে। দশ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ত্রিশ হাজার টাকা মূল্যের নৌকা বানিয়ে বিক্রি করি।


poisha bazar