বাহুবলে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, ৮৫০ হেক্টর ফসলি জমি


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৩ জুন ২০২২, ২১:৩৪

হবিগঞ্জ জেলার আটটি উপজেলার মধ্যে সাতটিই এখন বন্যাকবলিত। তারমধ্য আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পর নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে মাধবপুর ও বাহুবল উপজেলা। প্রতিদিন ডুবছে নতুন নতুন এলাকা।

পরিবারের সদস্য আর গবাদি পশু নিয়ে মানুষ ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে। পর্যাপ্ত ত্রাণ না পৌঁছায় খাবার সঙ্কটে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বানভাসি মানুষ। উপজেলাগুলোর প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা না আসায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে বহুবল উপজেলার স্নানঘাট, সাতকাপন ও লামাতাশি ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামই এখন নতুন করে প্লাবিত হয়েছে৷ ইতিমধ্যে অমৃতা, খাগাউড়া, কালাপুর, মুদাহরপুর, বাগদাইর, নিধনপুর, লালপুর, হোসেনপুর, শ্যামপুর, গোয়ালবাধা, কাজীহাটা গ্রামগুলো বানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে, বন্যায় উপজেলার ভাটি অঞ্চলের প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই পানি ঢুকে পড়েছে। স্নানঘাট ইউনিয়নের ফতেহপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, সাতকাপন ইউনিয়নের রাসুলপুর সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসা ও সদর ইউনিয়নের দীননাথ ইনস্টিটিউশন সাতকাপন সরকারি হাই স্কুলে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
হাফিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা নূরুল আমীন মানবকন্ঠকে বলেন, আমাদের বিদ্যালয় তথা নিম্নাঞ্চলের সব কয়টি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। কোন কোনটিতে কোমর পানিও আছে। স্কুল বন্ধের সরকারি কোন নির্দেশনা না থাকায় এখনও পানিতে ভিজেই বিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের যেতে হচ্ছে।

শিবপাশা গ্রামের ইজাজুল মিয়া মানবকন্ঠকে জানান, বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছি৷ জরুরি মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু কতটা পারবো সেটা জানি না। হাওরে গত কদিনে পানি বৃদ্ধির ফলে সব ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় যতটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম, এখন ঘরে পানি প্রবেশ করায় পুরোপুরি দিশাহারা হয়ে পড়েছি। সবচেয়ে বেশি বিপদে আছি গবাদি পশু নিয়ে। গবাদি পশু রাখা ও তাদের খাবার যোগান দেয়া মারাত্মক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল মানবকন্ঠকে জানান, উপজেলার নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ করে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ৮৫০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এ পানি আগামী ৩/৪ দিন পর্যন্ত অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকলে ফসলি জমিগুলো শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাহুবল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল মানবকন্ঠকে বলেন, উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তার ধারণা।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মহুয়া শারমিন ফাতেমা মানবকন্ঠকে বলেন, “উপজেলার হাওরাঞ্চলের প্রায় গ্রামই বন্যা কবলিত। গত ক’দিন ধরে স্নানঘাট ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে বন্যার্তদের মাঝে দুই শতাধিক প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি।

মানবকণ্ঠ/এমআই


poisha bazar