মিলছে না খাবার, মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে আকুতি

সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধারে নেমেছে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৯ জুন ২০২২, ১৫:৫৭

খন্দকার আব্দুর রহিম সাবলু: রেকর্ড ভেঙেছে সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি। বন্যার পূর্বাভাস ছিল। নদীর পানির উচ্চতাও বাড়ছিল গত কয়েকদিন ধরে। কিন্তু শুক্রবার নাগাদ এমন পরিস্থিতি হবে- তা ভাবতেই পারেননি সিলেট ও সুনামগঞ্জের মানুষ। টানা বৃষ্টি, ভারত থেকে আসা উজানের ঢল আর নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হার মানিয়েছে সকল প্রস্তুতিকে। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা বলছেন, অতীতে তাদের দেখা সব বন্যার চেয়ে ভয়াবহ এবারের পরিস্থিতি।

সুনামগঞ্জ শহরে এখন একতলা কোনো বাড়িতে পানি উঠতে বাকি নেই। সদরের পাশাপাশি দোয়ারাবাজার, ছাতক, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা ভাসছে বন্যার পানিতে। এদিকে সিলেট শহরের প্রধান রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলি তলিয়ে গেছে পানিতে। বাণের পানিতে ভাসছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা। জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলারও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। পানি বাড়ছে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, জকিগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলায়। এ অঞ্চলের সবগুলো নদীর পানিই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। ওসমানী মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে বন্যার পানি উঠায় দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সিলেট বিভাগের ১৬ উপজেলায়। তবে কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে পানি সরিয়ে গতকাল সন্ধ্যার পর সিলেট নগরীর কিছু স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় সুনামগঞ্জের দু’টি উপকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও কাজ করছে না। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ইন্টারনেট সেবাও। ফলে আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দারা দেশে ও দেশের বাইরে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। দুর্গতদের উদ্ধারে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ৮ উপজেলায় নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। সাথে নেমেছে নৌবাহিনী। কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। চলছে ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি।

এদিকে আকস্মিক বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সিলেটের সঙ্গে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার যোগাযোগও। দুর্ভোগ বর্ণনাতীত। গলা পানিতে ভেসে থাকা মানুষগুলো খড়কুটো ধরে ভেসে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে। উদ্ধারকর্মীদের নৌকা দেখলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে আটকে পড়া মানুষ। পানিতে ভেসে গেছে বাজার ঘাট। ঢলের পানি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে স্থানীয় মুদি দোকানগুলো। একদিকে আশ্রয়ের খোঁজ। অন্যদিকে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে খোলা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই মিলছে না।

সিলেটের সবগুলো উপজেলাই বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, ‘অনেক এলাকায় বাহনের অভাবে পানিবন্দি লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে পারছে না। তাদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী মাঠে নেমেছে। তারা কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়ানঘাট উপজেলায় বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে কাজ করেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে কুমারগাঁও সাবস্টেশন তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এটি তলিয়ে গেলে পুরো সিলেট বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বে। তাই আমরা এই কেন্দ্রটি চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। যাতে অন্তত নগরের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। সিটি করপোরেশন, সেনাবাহিনী ও বিদ্যুৎ বিভাগ একসঙ্গে মিলে এই কেন্দ্র সচল রাখার চেষ্টা করছি। মেয়র জানান, বালির বস্তা দিয়ে কেন্দ্রের চারপাশে বাঁধ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কেন্দ্রে ঢুকে পড়া পানি সেচে সরানোর চেষ্টা চলছে।

সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধারে নেমেছে কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিসও: শুক্রবার থেকে বন্যা দুর্গতদের উদ্ধারে নামে সেনাবাহিনী। আর শনিবার সকাল থেকে উদ্ধার কাজে নেমেছে নৌবাহিনী। এছাড়া বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার ও কোস্টগার্ডের দুটি ডুবুরি দলও উদ্ধার কাজে যুক্ত হচ্ছে। শুক্রবার দুপর থেকে সিলেটে উদ্ধার অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। শনিবার থেকে সুনামগঞ্জেও উদ্ধার কাজ শুরু করে তারা। সেনা সদস্যরা সুনামগঞ্জের দিরাই, জামালগঞ্জ, ছাতক, দোয়ারাবাজার এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। এছাড়া বন্যার কারণে সিলেটের সব ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় অফিসকে বন্যায় অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেন। এ নির্দেশনা মোতাবেক সিলেট ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বন্যায় মানবেতর জীবনযাপন করা অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, নৌবাহিনীর ৩৫ জনের একটি দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বিকেলে ৬০ জনের আরেকটি বড় দল আসবে। কোস্ট গার্ডের দুইটি ক্রুজ দুপুরের পর আসবে। একটি সুনামগঞ্জ যাবে এবং একটি সিলেটে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত হবে। এছাড়া বিমান বাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকবে। তিনি বলেন, নৌ বাহিনীর একটি দল সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে কাজ শুরু করেছে এবং একটি দল কোম্পানীগঞ্জের দিকে রয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনী সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ এবং গোয়াইনঘাটে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

বন্ধ হয়ে গেছে ট্রেন ও বিমান চলাচল: বন্যায় পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেট রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকাগামীসহ অন্যান্য রুটের যাত্রীরা জেলাটির ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও ইউনিয়নের স্টেশন থেকে ট্রেনে করে যেতে পারবেন। শনিবার দুপুর থেকে এই রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একইদিন দুপুরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম জানান, বন্যার কারণে বিভিন্ন জায়গায় রেল লাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাও স্টেশন থেকে যথারীতি সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকবে। বন্যার পানি নেমে গেলে তখন পুনরায় সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে রেল ছেড়ে যাবে ও আসবে। এদিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে পানি উঠে যাওয়ার কারণে সিলেট-লন্ডন ফ্লাইটের সিডিউলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১৮ ও ২১ জুনের দুটি ফ্লাইট পিছিয়ে ২১ ও ২৩ তারিখে নেয়া হয়েছে। শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ।

বন্ধের পর বিদ্যুৎ পুনঃসরবরাহ: সিলেট কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্রে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় পুরো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে পানি সেচে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপকেন্দ্রটি ফের চালু করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জানান।

তিনি বলেন, ‘পানি উঠে যাওয়ায় আপাতত উপকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তারপর আমরা চেষ্টা করে, পানি সেচে সিলেট মহানগরীর কিছু স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছি।’

মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা: বৃষ্টি; সঙ্গে উজানের ঢল। দুটোই থামছে না। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই। জীবন নিয়ে চলছে লড়াই। জেলার সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, সিলেট সদর, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাটের পরিস্থিতি ভয়াবহ। অন্তত ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি। বন্যার কারণে বিদ্যুৎ নেই। রাত কাটে আতঙ্কে। খাবার সংকটও তীব্র। গত দু’দিন ধরে অভুক্ত ৫টি উপজেলার বেশির ভাগ মানুষ। এমন অবস্থা দীর্ঘ হলে সিলেটে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। উজানের ঢলের কারণে স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ চালাতে পারছেন না। মানুষের আর্তনাদ শুনে কেউ এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। বৃহস্পতিবার রাতে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের প্রশাসনের কর্মকর্তারা কয়েকটি স্থানে উদ্ধার কাজ চালিয়েছেন। আটকা বহু মানুষ। কেউ ঘরের চালে, কেউ মাচায়, আবার কেউ গাছের উপরে অবস্থান নিয়েছেন। গবাদি পশুর আশা ছেড়েই দিয়েছেন তারা। চারটি উপজেলায় আশ্রয় কেন্দ্রেও ঠাঁই হচ্ছে না। সবখানেই গাদাগাদি করে অভুক্ত অবস্থায় রয়েছে মানুষ। কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটের অনেক স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে পারছে না সাহায্যকারী টিম। উদ্ধারের জন্য নৌকার সংকটও তীব্র। বড় নৌকা ছাড়া যাওয়াও যাচ্ছে না। এই অবস্থায় সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়। তাৎক্ষণিক সাড়া দিয়ে দুপুরের পরই সেনা সদস্যরা মাঠে কাজ শুরু করে। কখনো সাঁতরে, কখনো পানি ডিঙিয়ে তারা উদ্ধারে নেমেছেন আটকে পড়াদের। স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্যাকবলিত এলাকায় নৌকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে অসহায় মানুষের কাছে খুব একটা যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হওয়া আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া খাদ্যগুদামের আশপাশে পানি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সেখান থেকেও খাদ্যসামগ্রী বের করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী আছে, কেবল পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে দ্রুতই সবখানে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হাসপাতালে পানি, দুর্ভোগে রোগীরা: বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে সিলেট ওসমানী মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। চিকিৎসকরা বলছেন, বন্যার পানি ও বিদ্যুৎ না থাকায় সেবা বিঘিœত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে রোগ নির্ণয় পরীক্ষা। বন্যা পরিস্থিতির কারণে মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ ড. মঈনুল হক বলেন, আবাসিক হল ও কলেজে পানি ঢুকে পড়ায় আপাতত কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে ক্লাস ও পরীক্ষা। শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে হল ছাড়তে শুরু করছেন।

কেউ কারও খবর জানে না: সাদ্দাম মিয়া মৌলভীবাজারের একটি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায়। বন্যা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকা মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাদ্দাম মিয়া বলেন, শেষবার যখন মায়ের সঙ্গে কথা হয়, তখন তিনি জানিয়েছিলেন যে, ঘরের মধ্যে হাঁটু পানি। তাই তিনি ঘরের ভেতর খাটের ওপর বসে আছেন। এরপর থেকে কোনোভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। এদিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ভাটি তাহিরপুরের বাসিন্দা পীযূষ পুরকায়স্থ চাকরিসূত্রে সিলেটে থাকেন। বাড়িতে আছেন বৃদ্ধ বাবা-মা আর ছোট ভাইবোন। সাদ্দাম মিয়ার মতো তিনিও গতকাল শুক্রবার থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। পীযূষ বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে আমাদের বাড়িতে বন্যার পানি উঠতে শুরু করে। শুক্রবার বিকেলে শেষবারের মতো বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। ৩ দিন ধরে আমাদের এলাকা বিদ্যুৎ নেই, মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। কাউকে ফোনে পাচ্ছি না। দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না।

সাদ্দাম মিয়া ও পীযূষের মতো হাজারো মানুষ নিজ পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তারা কেউ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনায়। টেলিকম খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ না থাকায় পোর্টেবল জেনারেটর দিয়ে তারা মোবাইল টাওয়ার সচল রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তা সত্ত্বেও পেরে ওঠা যাচ্ছে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ: বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্গতদের সহযোগিতায় নিকটস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। শুক্রবার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশ দেয়া হয়।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় মৌসুমের তৃতীয় দফা বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। বন্যার কারণে আজ রবিবার থেকে নির্ধারিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে সারাদেশে।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar