মুকিতের বাবার পক্ষে বক্তব্য নিতে মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকি!


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ মে ২০২২, ০৯:৫২,  আপডেট: ২৬ মে ২০২২, ১০:০৬

গাইবান্ধা পলাশবাড়ী উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান মুকিতের বাবার মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে অপর এক মুক্তিযোদ্ধাকে 'হুমকি' ও 'ব্লাকমেইলের' অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে। সেখানে 'মুকিতের পরিবার জামায়াত সংশ্লিষ্ট নয়'- এই মর্মে স্বাক্ষ্য প্রদান করেনি ২৮ জন স্বাক্ষীর কেউই। বরং মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উঠে এসেছে নতুন সব তথ্য।

জানা যায়, 'মুকিতের বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে' -এমন বক্তব্য আদায় করার জন্য এক বয়োজৈষ্ঠ্য মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট ছিনিয়ে নেয়ার হুমকি প্রদান করা হয়। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় বসবাসকারী মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন সরকারের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে।

মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি তার প্রতিবেদন আওয়ামী লীগের গাইবান্ধা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামস উল আলম হীরুর কাছে জমা দেয়।

এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আমার কাছে জমা দিয়েছেন আহবায়ক অ্যাডভোকেট সুলতান আলী মণ্ডল। কেন্দ্রে সেই রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেবে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত মোট ২৮ জনের কাছ থেকে স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে তদন্ত কমিটি। সেখানে মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তার পক্ষে কেউই স্বাক্ষ্য প্রদান করেনি। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- 'মুকিতের পরিবারের সঙ্গে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নেই'-এমন বক্তব্য প্রদান করেননি কোন স্বাক্ষী। তার পরিবারের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা মুক্তিযুদ্ধে স্বপক্ষে লড়াই করবার বিষয়েও তথ্য দিতে পারেনি কেউ। উল্টো এক মুক্তিযোদ্ধাকে চাপ প্রয়োগ করে বক্তব্য আদায়ের অভিযোগ করেছেন এক স্বাক্ষী। সেসঙ্গে তার পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আরো নতুন তথ্য প্রদান করেছেন স্বাক্ষীরা।

সেখানে একজন স্বাক্ষী জানান, মুকিতের বাড়িতে ২০১৩ সালে শিবিরের মেস ছিল। সেই ট্রেনিং সেন্টার থেকে আমার বাসায় হামলা চালানো হয়। আর তার বাবা-মা এই এলাকায় জামায়াতের গোড়া পত্তন করেছে। অপর এক স্বাক্ষী তার বক্তব্যে জানান, মুকিতের বাবা-মা জামায়াত সংশ্লিষ্ট বিষয়টি শতভাগ সঠিক।

জামায়াত সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে তার পরিবারকে ভাড়া বাসা থেকে বের করে দেয়ার বিষয়টিও উঠে আসে একাধিক স্বাক্ষীর কথায়। এর আগে পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টাত অভিযোগ এড়াতে প্রথমে নিজের বাবাকে 'মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে' বলে দাবি করে তা প্রমাণে এক মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্য গ্রহণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে এই মুক্তিযোদ্ধার 'সার্টিফিকেট বাতিল করে দেয়ার' ভয় প্রদর্শন করা হয়েছে।

মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের তদন্ত কমিটির কাছে এই মুক্তিযোদ্ধা জানান, তাকে চাপ প্রয়োগ করে বক্তব্য আদায় করে নেন আশরাফুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় সাংবাদিক। এ সময় এই মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিলের হুমকি দেয়া হয়।

নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, 'ব্লাকমেইল করেছে আমাকে। হাবিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা নয়, আমি জানি। প্রতারণা করেছে তারা আমার সঙ্গে। আমাকে দিয়ে জোর করে কথাগুলো বলিয়েছে।'

তিনি আরো বলেন, এমপিদের কথা বলে ভয় দেখিয়েছে। আমি গরীব মানুষ। ক্ষতি হতে পারে এই ভয়ে তখন কথাটা বলছিলাম। আমার মেয়েটা চাকরি করে সরকারি প্রাইমারিতে। তার টাকা দিয়েই আমার সংসার চলে। তার কোন ক্ষতি হয়ে গেলে চলবো কেমন করে বলেন?

এ কথাগুলো বলার সময় তিনি বেশ ভয় পেয়েই জানান, এমপিরা চাইলে কী করতে পারে অত কিছু তো বাবা বুঝি না। এই শেষ বয়সে এসে আমাদের যেনো কোন ক্ষতি না হয়ে যায়। সর্বশেষ তিনি জানান, ওদের ভয়ে যেই কথাগুলো বলছিলাম, তা সব ভুল এবং সত্যটা জানিয়েছি।

এর আগে মুকিতের পরিবারের বিরুদ্ধে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানের আবেদন জানান আমিনুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা। কেন্দ্র সেই চিঠি আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করে জেলাকে। এরই ধারাবাহিকতায় একে একে বেড়িয়ে আসা মুহিবুল হাসান মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা তথ্য।


poisha bazar