কয়রায় লবণ পানি উত্তোলন

আমন চাষ অনিশ্চিত, হতাশায় কৃষক 


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৪ মে ২০২২, ১১:৩২

ইজারাকৃত মিঠাপানির খালে লবণ পানি উত্তোলনের ফলে স্থানীয় কৃষকদের ১০০ বিঘা জমিতে আমন চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে বিপাকে ও হতাশায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিনাপানী এলাকায় সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় কৃষকেরা প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় প্রশাসের কাছে অভিযোগ করেন। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিনাপানি স্লুইচ গেট দিয়ে উত্তর জোড়শিং খালে লবন পানি উঠানো হয়। পানি উঠানোর কারণে খালের আশে পাশের ১০০ বিঘা কৃষকের আমন চাষের প্রস্তুত প্লাবিত হয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। জমিতে আহাজারি করছেন কৃষকরা। 

একাধিক কৃষকের অভিযোগ, বার বার এ এলাকা দুর্যোগের কবলে পড়ে প্লাবিত হয় বেঁড়িবাধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়। তাই লবণ পানির অগ্রাশন থেকে বাঁচতে তারা মিঠা পানির ফসলের সিদ্ধান্ত নেন। বিগত কয়েক বছর তারা ধান চাষ করে লাভবান হন। কিন্তু উত্তর জোড়শিং খালটি স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল মান্নান কারিগর ইজারা নেওয়ার পর থেকে ব্যক্তিগত মাছ চাষের জন্য বিভিন্ন ভাবে লবণ পানি উঠানোর পায়তারা করে। বাঁধা প্রদান করলে ভয় ভীতি দেখান। গত কয়েক দিন আগে প্রভাব খাটিয়ে লবন পানি উঠালে পাশ্ববর্তী ১০০ বিঘা প্লাবিত হয় লবন পানিতে। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে আমন চাষ। 

কৃষক মৃনাল কান্তি বলেন, খালটি আগে আমি ইজারা নিয়েছিলাম মাছ ও ধান চাষ করতাম আমারসহ পাশের কৃষকদের উপকার হতো। এবার লবণ পানি তোলায় আমাদের আমন চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ধান লবন পানিতে তো হবে না আমরা কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবো, কিভাবে সংসার চলবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।

আমরা মান্নান কারিগরকে মিঠাপানির খালে লবন পানি না উঠাতে  একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও, তিনি শোনেননি।

আরেক কৃষক গোপাল বিশ্বাস বলেন, জোর করে  মাছের ঘেরে (খালে) লবন পানি উঠানোর কারণে আমার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান কারিগর  বলেন, 'আমার বন্ধ জল মহল, এই খালে পানি ঠোকার ও কোন পথ নেই বার হওয়ার কোন পথ নেই পাশের ঘের থেকে পানি চুইয়ে (অভার ফ্লো) হয়ে আসছে। আমি ইচ্ছাকৃত ভাবে পানি উঠাইনি। কারো জমিতে গেলে আমার কি করার।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস জানান, 'বিষয়টি আমি শুনেছি। খোঁজখবর নিচ্ছি। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar


ads