• বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২
  • ই-পেপার

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৩৩

সাইফুল ইসলাম কবির, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বটতলা চন্দনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদারের (৫২) বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত ছাত্রীরা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের ৯৬ নং বটতলা চন্দনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদার ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীকে নিয়মিত যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। গত ৫ জানুয়ারি পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর যৌন হয়রানি করেন তিনি। পরে ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি তার পরিবারকে বলে। সে আর ওই বিদ্যালয়ে যাবেনা এবং জোরপূর্বক পাঠালে সে আত্মহত্যা করবে বলেও হুমকি দেয়। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের দ্বারা একাধিক ছাত্রীর যৌন হয়রানির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

পরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং মোড়েলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) তুহিন মণ্ডলের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে ওই বিদ্যালয় এলাকায় গেলে যৌন হয়রানির শিকার চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানায়, প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদার বিভিন্ন সময় তার কক্ষে ডেকে নিয়ে তাদেরকে আদর করে চুমু দেন, কোলে বসিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন। এ কথা শিক্ষিকা ময়না রানী শিকদারকে জানালে তিনি তাদেরকে বলতেন ওতে কি হয়, স্যার তো তোমাদেরকে একটু আদর করতেই পারে।

জানতে চাইলে শিক্ষকা ময়না রানী শিকদার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে ঘটনার পর থেকে ওই বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত ছাত্রীদের অভিভাবকরা তাদের মেয়েদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদার ইতোপূর্বে জয় বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকাকালে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করে জনতার হাতে মার খেয়েছেন এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে বর্তমান বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন।

তারা আরো জানায়, প্রধান শিক্ষক তার প্রতিবেশী এক গৃহবধুকে ঝাপটে ধরলে ওই গৃহবধু তাকে ঝাড়ুপেটা করেন। স্থানীয় আরেক বাসিন্দার মেয়ে সন্ধ্যায় মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মাঠে বসে ওই মেয়েকে ঝাপটে ধরেন প্রধান শিক্ষক। মেয়েটি বাড়িতে ফিরে ঘটনা জানালে মেয়ের বাবা তাকে মারপিট করেন।

প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদারের কাছে জানতে চাইলে, তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং রাজনৈনিক কারণে তিনি হয়রানী শিকার বলে দাবি করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ দেখতে পারিনি। অভিযোগ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগ সম্পর্কে ওসি (তদন্ত) তুহিন মণ্ডল জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তাদেরকে সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি জানা নেই বললেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন, তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানালেন।

সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বরত উপজেলা শিক্ষা অফিসার সজল মহলীর সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।


poisha bazar

ads
ads