ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যার প্রতিবাদে সোনারগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:৫০

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বস্তল গ্রামের তিন যুবককে অপহরণ করে নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলার ইলমদী এলাকায় ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

শুক্রবার বেলা ১১টায় এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের জামপুরের বস্তল এলাকায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেন নিহতদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।

জানা গেছে, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মফিজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমানের ছেলে জহিরুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার ভোরে বস্তল এলাকা থেকে তারা লেগুনা নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের ইলমদী এলাকায় কারখানার শ্রমিক নিয়ে আসার জন্য বের হন। পরে স্বজনরা খবর পান তাদেরকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

এর প্রতিবাদেই শুক্রবার বিক্ষোভ-মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।

ছেলে হত্যার বিচার চাইতে এসে নিহত জহিরুল ইসলামের বাবা হাবিবুর রহমান চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ‘আমার ছেলে ভোর ৪টায় গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি। পরে জানতে পারি তাকে ইলমদী এলাকায় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি করছি।’

নিহত মফিজুলের আত্মীয় আসাদ মিয়া বলেন, ‘দু’জন যুবককে অপহরণ করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ অঞ্চলে তাদের কোন খারাপ রেকর্ড নেই। বিষয়টি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার দাবি করছি।’

তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু সাইদ বলেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বতন অফিসারদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসল রহস্য উদঘাটন করা হবে। আপনারা সড়ক ছেড়ে যার যার বাসায় চলে যান।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ভোরে আড়াইহাজারের ইলমদী বেনজীরবাগ এলাকায় ডাকাত সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে নেয়ার পথে এবং অপর দু’জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তবে তারা আসলেই ডাকাত কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এলাকাবাসী তাদেরকে ডাকাত বলে চিহ্নিত করলেও পরে নিহতদের স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করেন এবং তারা নিরীহ লোক বলে দাবি করেন। তারা জানান, নিহত নবী হোসেন এবং মফিজুল লেগুনা চালক এবং জহিরুল ওরফে জেসনু লেগুনার মালিক।


poisha bazar

ads
ads