ভোটের উন্মাদনায় কাঁপছে নারায়ণগঞ্জ

সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যয় প্রশাসনের


  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ১৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:৪০,  আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:৫১

জাতীয় নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনই সবচেয়ে আলোচিত নির্বাচন হয়ে উঠছে। রাজনীতির নানা হিসেব-নিকাশ যেমন এখানে আছে, তেমনি আছে বিশ্বাস-অবিশ্বাস, প্রত্যাশা ও প্রত্যাখ্যানের দ্বন্দ্ব। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রাণপণ প্রচারণায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে প্রভাবশালী দুই মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার শোডাউনের মাধ্যমে নিজেদের জাহির (শো-অফ) করতে মরিয়া।

তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যেমন দিচ্ছেন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগও চলছে সমানতালে। বড় দুই প্রার্থী জড়িয়ে পড়ছেন বাহাসেও। সবমিলিয়ে ভোটের উš§াদনায় নারায়ণগঞ্জ শহরে বিরাজ করছে নির্বাচনের টান টান উত্তেজনা।

নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থা নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। ভোটের পূর্বমুহূর্তে এই উত্তেজনাকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন তারা। স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নাসিক ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারাও বিদ্যমান পরিবেশে সন্তুষ্ট। ভোটের দিন পর্যন্ত এই পরিবেশ বজায় থাকলে ভোটগ্রহণ ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন বলেই মত তাদের।

এদিকে স্থানীয় জেলা ও পুলিশ প্রশাসন যেকোনো মূল্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ঘোষণা দেয়ায় স্বস্তি এসেছে নির্বাচন কমিশনেও। রাজধানীর উপকণ্ঠের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি ভোটে কোনো শঙ্কা নেই বলে মনে করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাও। গতকাল বুধবার নারায়ণগঞ্জ পরিদর্শন করে তিনি ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে অবহিত হন। এ সময় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নির্বিঘেœ দায়িত্ব পালন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।      

প্রচারণায় প্রাধান্য পাচ্ছে শো-অফ: ভোটের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মেয়র প্রার্থীদের শো-অফ করে ভোটারদের নজর কাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী ও বিএনপি থেকে পদ হারানো স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে এমনটি করা হচ্ছে।

বুধবার কেন্দ্র দখল ঠেকাতে ও ভোট রক্ষায়‘ প্রতিটি কেন্দ্র ‘পাহারা’র জন্য আলাদা করে কমিটি করার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা শুরু করা তৈমুর আলম নগরীতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক নিয়ে বিশাল শোডাউন করেন। ঢাকঢোল ও হাতি প্রতীক নিয়ে তার সমর্থকরা মিছিলে অংশ নেন। এ সময় তৈমুর আলম একটি ছাদখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে রাস্তার দুই পাশের উপস্থিত জনতাসহ বাসাবাড়ির বারান্দায় দাঁড়ানো লোকজনের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তিনি দুই হাত তুলে সবার কাছে দোয়া চান। মিছিলটি খানপুর থেকে শুরু হয়ে মেট্রো হল মোড়, চাষাড়া, বঙ্গবন্ধু রোড হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত তৈমুর আলমকে থামানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনা দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলটি বঙ্গবন্ধু সড়কের সাধাপৌলের গির্জার সামনে এলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত ফেরদৌস তৈমুরের গাড়ি থামান। এ সময় কয়েকজন পুলিশসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তৈমুরের কাছে কিছু বলতে দেখা যায়। নেতা-কর্মীরা এই দৃশ্য দেখে উত্তেজিত হয়ে জোরে জোরে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষুব্ধ মিছিলকারীদের কেউ কেউ গাড়িতে আক্রমণে উদ্যত হলে অন্যরা এসে থামান। উত্তেজনাকর অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িটি দ্রুত চলে যায়।

এদিকে একইদিন নগরীর দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে পিকআপভ্যানে শোডাউন করেন তার কর্মী-সমর্থকরা। নৌকা প্রতীক সম্বলিত টি-শার্ট তৈরি করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয় নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। সেই ভ্যানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ছবিও দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, নৌকা প্রতীকের ব্যানার ফেস্টুনসহ পিকআপভ্যানে করে আইভীর সমর্থকরা নৌকা প্রতীক ও ছবি সম্বলিত টি-শার্ট পরিধানরত অবস্থায় নির্বাচনের প্রচারণা করেন। তারা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ঘুরে ভোটারদের নজর কাড়ার চেষ্টা করেন।

বাহাস চলছেই: প্রচারণা ও পথসভায় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা নিজেদের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেও ছাড়ছেন না। প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে আইভীর অভিযোগ, নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানো হচ্ছে।

অপরদিকে তৈমুর তুলছেন, প্রভাব বিস্তার ও নেতা-কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ। বিএনপির পদ হারানো এই নেতা কেন্দ্র দখল করার পাঁয়তারা চলছে অভিযোগ করে ভোট রক্ষায় নিজস্ব কর্মীবাহিনী দিয়ে কমিটি করে কেন্দ্র পাহাড়া দেয়ারও ঘোষণা দেন।

খানপুরে পথসভায় তৈমুর বলেন, আমি এই সিটি করপোরেশনকে গণমুখী সিটি করপোরেশনে পরিণত করব। এই নগরী হবে একটি নিরাপদ ও আধুনিক নগরী। এই নগরী হবে একটা অসাম্প্র্রদায়িক নগরী। এই নির্বাচনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ত্বরান্বিত হবে।

নারায়ণগঞ্জে আসা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগও করেন তৈমুর আলম। তারা বলেছেন, ঘুঘু দেখেছ, তো ঘুঘুর ফাঁদ দেখনি। এখন আমরা ফাঁদ দেখা শুরু করেছি। আমাদের নেতা-কর্মীদের অনেককে গ্রেফতার করেছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করছে। এতদিন পুলিশ সুপার কোনো গ্রেফতার করেননি। যাঁরা রাজনীতিবিদ, তাঁদের মাদক ব্যবসায়ী বানিয়ে গ্রেফতার করছে। এ অবস্থার অবশ্যই নিরসন হবে।

আইভীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ শহরের প্রতিটি মানুষ এই সিটি করপোরেশন দ্বারা নির্যাতিত। সিটি করপোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি করেছে। পানির লাইনের জন্য অতিরিক্ত দেড় লাখ টাকা নিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে গ্যাস, সুপেয় পানি নেই। রাস্তাঘাটে যানজট, পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ময়লা আবর্জনা নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। পঞ্চবটীতে যেখানে ময়লা ফেলা হতো, সেখানে পার্ক করা হচ্ছে। দ্বিগুবাবুর বাজার পারিবারিকভাবে মুনাফা দেয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন একটা সিন্ডিকেট। ঠিকাদাররা সিটি করপোরেশন চালায়। আমি ওয়াদা করতে চাই আল্লাহ মঞ্জুর করলে আমরা এই সিটি করপোরেশনকে জনগণের কাছে নিয়ে যাব।

এদিকে তৈমুরের এসব সমালোচনার জবাব না দিয়ে নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানোর পাল্টা অভিযোগ আনেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। নগরীর নিতাইগঞ্জ, ডাল পট্রি, খোয়ারপট্রি, কেরোসিনঘাট, টানবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের সময় তিনি বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে এবং ভোটাদের প্রভাবিত করতে কালো টাকার ব্যবহার করা হচ্ছে। সারা বাংলাদেশ জানে আমি গরিব মানুষ। অর্থনৈতিকভাবে আমি সাধারণ জীবনযাপন করি। এটা আমার শত্রুরাও জানে। এমনকি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থীও জানেন। সুতরাং কোথায় কে টাকা ছড়াচ্ছে এটা প্রশাসনের কাছে আমার জিজ্ঞাসা। প্রশাসনকে এই কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ করতে হবে।

নৌকার এ প্রার্থী বলেন, শহরের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য যদি কোনো মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করে তবে সেটি সঠিক কাজ করেছে আইশৃঙ্খলা বাহিনী। এর বাইরে আমি কিছুই জানি না কাকে ধরেছে। কারণ আমি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশ রাখার জন্য যে ব্যবস্থা নিতে হয় প্রশাসন যেন তা নেয়।

আইভী বলেন, আমি জনগণের কাছে যাচ্ছি, ভোট চাচ্ছি। সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে কথা বলা, মন জয় করা, তাদের কাছ থেকে ভোট আনা খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। আমি মনে করি, নির্বাচনী  পরিবেশ অনেক ভালো আছে। আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এ রকম পরিবেশ থাকুক আমি তা-ই চাই। যাতে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক ও উৎসবমুখর পরিবেশে যেন সবাই ভোট দিতে পারে।

পুলিশি হয়রানির অভিযোগ: হাতি মার্কার পক্ষের লোকাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে তৈমুর আলম খন্দকার ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে। নির্বাচনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার জন্য পুলিশ প্রশাসন দায়ী থাকবে জানিয়ে বুধবার পথসভায় তৈমুর বলেন, পুলিশ প্রশাসন আমাদের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় করছে। অনেককে গ্রেফতার করছে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে পলাতক আছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের মানুষ যাতে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারে, কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে যাতে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার বিঘ্ন না ঘটে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পথসভায় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাংসদ এস এম আকরাম। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের এমন হয়রানি কেন? বলা হচ্ছে পুরনো মামলায়, মাদকের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের ধরা হচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে কেন? ১৬ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। গ্রেফতার করতে হলে পরে করেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এ টি এম কামালসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারাও পথসভায় পুলিশি হয়রানির অভিযোগ এনে শান্তিপূর্ণ ভোট করতে প্রশাসনের এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার দাবি জানান।

শঙ্কা দেখছে না ইসি; নির্বিঘ্ন ভোটের আশ্বাস: নাসিকের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছে না নির্বাচন কমিশন। গতকাল বুধবার নারায়ণগঞ্জ পরিদর্শন করে এবং ভোটে দায়িত্ব পালনকারী সেখানকার কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে বৈঠক করে শঙ্কাহীন ভোটের এমন আশ্বাস দেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা।

ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ভোটারের থেকে নিরাপত্তা বাহিনী বেশি থাকবে। পুলিশের বিশেষ বাহিনী এদিন ভোট কেন্দ্রগুলো পাহারা দেবে। দেশবাসী ভালো ভোট দেখবে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে কোনো সমস্যা দেখি না। নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো প্রার্থী তাদের সহনশীলতা এবং নির্বাচনের ব্যাপারেও যে আচরণ এটা আমাকে একটাও প্রশ্নবিদ্ধ করেনি। সুতরাং আমি বিশ্বাস করি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের যথেষ্ট রকমের কর্মতৎপরতা আছে। তারা প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, মিটিং করেছেন। তারা যখনই যেটা দরকার তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন। খুবই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

এর আগে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে তাদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, নির্বাচন পরিচালনার ব্যাপারে আপনার নিরপেক্ষতা সব থেকে বড় অস্ত্র। একজন সচেতন নাগরিক, শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের একেকটা মত থাকতে পারে, একেকটা ব্যক্তির প্রতি দুর্বলতা থাকতে পারে, রাজনৈতিক দলের প্রতি সহানুভূতি থাকতে পারে, দুর্বলতা থাকতে পারে। এটা সবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এটাকে উপেক্ষা করার উপায় নেই। কিন্তু আপনি যখন নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন তখন কে কোন দলের, কে কোন মতের, কে কোন ধর্মের কিংবা গোত্রের এটা আপনার মাথায় থাকে না নিশ্চয়ই। সেভাবেই আপনার দায়িত্ব পালন করতে হয়।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা সবাই তাই করব। ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এটা মনে রাখলেই নির্বাচন অতি সহজভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। ওই বৈঠকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার, জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, জেলা নির্বাচন অফিসার মতিয়ুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরিস্থিতি অনুকূলে রাখার প্রত্যয় প্রশাসনের: ভোটের দিন পর্যন্ত পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, আমরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছি, করব। আপনার ভোট আপনি যাকে খুশি তাকে দিতে পারবেন। এর জন্য যা যা করা দরকার করব। এরই মধ্যে নয়জন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। নির্বাচনের আগে আরো ৩০ জন ম্যাজিস্ট্রেট আসবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে।

তিনি বলেন, যদি নিরপেক্ষ ভোট করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে চলেও যেতে হয়, তাও আমরা করব। এই শহরের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব সবার। আপনারা অভিযোগ জানাবেন, সত্যতা থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ভোটের মাঠে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের গায়ে বুলেট-বোমার আঁচ লাগবে না বলে সিইসিকে আশ্বস্ত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম।

তিনি আরও বলেন, সিটি নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ প্রশাসন কঠোর থাকবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না। কোনো সুযোগ নেই নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা করার। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে তার নাম-সাইনবোর্ড কিছু দেখব না। আমরা নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠু করতে শতভাগ মাঠে কাজ করছি। যেকোনো অভিযোগ পেলে তড়িৎ ব্যবস্থা নেব।


poisha bazar

ads
ads