ধামরাইয়ে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ, আহত ৪


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৪:২১

ঢাকার ধামরাইয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছে। এই ঘটনায় ধামরাই থানায় দুই পক্ষই পাল্টা পাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (২০ অক্টোবর) সকালে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর এলাকার ফকির পাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

আহতরা হলেন ঔই এলাকার লোকমান হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন. হায়দার আলী, নিলা মিয়ার ছেলে মামুন হোসেন ও মেয়ে সোনিয়া বেগম।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়. গত সোমবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৮টার দিকে হযরত অ্যান্ড রবিউল হ্যান্ডিক্যাপ নামে একটি কুটির শিল্প কারখানায় কাজ করার সময় শ্রমিক মামুন ও হায়দারের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনায় বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তাদের নিয়ে মিমাংসা করতে দুই পরিবারের সদস্যা মিলিত হয়। সেখানে মামুন ও তার পিতা নিলামিয়া চলে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে মামুন পিছন থেকে হায়দারের মাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।

এতেই দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয়রা ৯৯৯ এ কল দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় চারজন আহত হলে তাদের উদ্ধার করে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কারখানার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেলে কারখানায় কাজ করার সময় মামুনের মেশিন হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায়। তখন শ্রমিক হায়দার বলেন, তোমার কাছে যে মেশিন যায় সেটাই তুমি নষ্ট করে ফেল। এ কথা বলার শেষ না হতেই মামুন ওই কারখানার মালিকের ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এর প্রতিবাদ করলে হায়দারের উপর চড়াও হয় মামুন। পরে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এসময় মামুনের বোন সোনিয়া এগিয়ে এসে দুইজন মিলে হায়দারকে মারতে থাকে। খবর পেয়ে হায়দারের বড়ভাই ইমরান এগিয়ে আসলে মামুন ও তার বোন সোনিয়া তাদের হাতে থাকা কাঁচি দিয়ে ইমরানকেও মারধর করে। পরে তাদের উদ্ধার করে সাভার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, মারামারির পর শ্রমিক মামুনকে আটক করে রাখে মালিক পক্ষ। ৯৯৯ এর কলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মামুনকে চিকিৎকার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

স্থানীয় মতব্বর সাইফুল ইসলাম বলেন, কারখানায় মারামারির পর উভয় পক্ষই আমাকে ডাকলে সেখানে যায়। উভয় পক্ষকে মিমাংসার কথা বললে তারা রাজি হয়। সুস্থ হওয়ার পর মিমাংসা করে দেব বলি। উভয় পক্ষ দরিদ্র হওয়ায় চিকিৎসার টাকা আমি দিয়েছি। মামুনের পক্ষের লোকজন আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছে। এখন পুরা বিষয়টা দেখি অন্য পর্যায়ে চলে গেছে। এলাকার লোকজন আমাকে মিমাংসার কথা বলেছিলো এখন আর সম্ভব নয়। শুনেছি উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ করেছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে মিমাংসা হলেই ভালো।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষই দরিদ্র। উভয় পক্ষকে মিমাংসার কথা বলে আমি চলে এসেছি।


poisha bazar

ads
ads