জৈন্তার প্রকৃতি আপন রূপে ফুটেছে


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৫৪,  আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৪:০০

নাজমুল ইসলাম, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি

নদী, পাহাড় ও চা-পাতা বেষ্টিত পর্যটন ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুরকে প্রকৃতি নিজ রূপে সাজিয়ে তুলেছে। পরিবেশ ও প্রকৃতি প্রেমীদের দাবি ৪ হতে ৫ বছর শ্রীপুর পাথর কোয়ারী বন্ধ রাখা হলে এই পর্যটন স্পটটি তার অতীত ফিরে পাবে। শ্রীপুরে রূপটি ফুটে উঠেছে তাকে ধরে রাখতে হবে। প্রকৃতিকে ধরে না রাখতে পারলে অচিরেই প্রকৃতির বিপর্যয়ের সম্মুখীন হব। উত্তরপূর্ব সিলেটের ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা হিসেবে জৈন্তাপুর চিহ্নিত। সেজন্য প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ না করে বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। প্রকৃতি নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।

সরেজমিনে উপজেলার শ্রীপুর পাথর কোয়ারী এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় বাসিন্ধাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, সিলেটের পর্যটন স্পট এর মধ্যে অন্যতম স্থান ছিল শ্রীপুর। নদী, পাহাড়, অরণ্য বেষ্টিত এবং মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে শ্রীপুর নদী হিসেবে নাম ধারণ করে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের বহু ছবির নির্মাণ করা হয়েছে শ্রীপুরে। জৈন্তাপুর উপজেলার নাম নিলে সবার আগে শ্রীপুর পর্যটন স্পটের নাম সবার মুখে চলে আসত। সময়ের ব্যবধানে তা বিলীন হয়ে গেছে।

২০০০ সনের শুরুর দিক হতে উপজেলার শ্রীপুর পর্যটন স্পট হতে পাথর আহরণ শুরু করে একটি পাথর খেকু মহল। সরকারও রাজস্ব আদায়ের জন্য শ্রীপুর নদীটি ইজারা প্রদান করে। তারই ধারাবাহিকতায় শ্রীপুর পাথর কোয়ারী জন্ম হলে কিছু দিনের মধ্যে শ্রীপুর পর্যটন স্পটটি বিলীন হয়ে যায়। এভাবেই জৈন্তাপুর উপজেলার অন্যতম সৌন্দর্যের পর্যটন স্থানটি ক্রমশ পর্যটকদের ভালো লাগার স্থান হতে বিলুপ্তি ঘটে।

২০১৮ সনের শেষ দিকে শ্রীপুর পাথর কোয়ারীকে সংকটাপন্ন ঘোষণার দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতর, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন সহ বিভিন্ন পরিবেশবিদ সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে দেশের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা শ্রীপুর নদীর সরকারি অংশের তলদেশে ত্রি-মাত্রিক জরিপ পরিচালনা করে আর কোনো পাথরের মজুদ নাই মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ লিজ প্রথা বাতিল করে। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলার শ্রীপুর পর্যটন স্পটটি প্রকৃতি তার আপন মহিমায় সাজিয়ে তুলছে।

প্রকৃতিপ্রেমী ঢাকা উত্তরার বাসিন্ধা গোলজার হোসেন বলেন, একসময় আমরা বাংলা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শ্রীপুরের দৃশ্য দেখেছি। স্থানে ভিজিট করে দেখলাম প্রকৃতি আপন মহিমায় সাজিয়ে রেখেছে। সত্যকথা হল শ্রীপুর ঘুরতে না আসলে রূপের মহিমাটি কখনো দেখা হতো না। সত্যিই এটিকে সংরক্ষণ করা হলে অসাধারণ পর্যটন স্পট হয়ে উঠবে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছি।

 জৈন্তাপুর ইমরান আহমদ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, শ্রীপুর একসময় ছিল উপজেলার জনবহুল স্থানের একটি। কালের বিবর্তনে এই পরিবর্তন হয়েছিল। সম্প্রতি কোয়ারী বন্ধ থাকায় প্রকৃতি নতুন রূপে সাজিয়ে তুলছে তার ক্ষত স্থানকে। সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে ভ্রমণ পিপাসুদের মধ্যে। আরো ৪/৫ বছর এটিকে বন্ধ রাখা হলে বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে রূপান্তরিত হবে। এটি সংরক্ষণের দাবি জানাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে।

সারী নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি পরিবেশবিদ আব্দুল হাই আল হাদি বলেন, শ্রীপুরের বর্তমান চিত্র সরেজমিনে দেখা মিলেছে তা অভাবনীয়। শ্রীপুরে রূপটি ফুটে উঠেছে তাকে ধরে রাখতে হবে। প্রকৃতিকে ধরে না রাখতে পারলে অচিরেই প্রকৃতির বিপর্যয়ের সম্মুখীন হব।


poisha bazar

ads
ads