কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে তিনজনের মৃত্যু

- ফাইল ফটো

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩১

গত এক সপ্তাহে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ জন্য পর্যটকদের অসতর্কতা ও জোয়ার-ভাটায় লাইফগার্ডের নির্দেশনা অমান্য করাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টম্বর) দুপুরে থেকে বিকেল পর্যন্ত সৈকতের সিগাল পয়েন্টে দুই যুবকের মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। কখন তারা সৈকতে নেমেছিলেন তার কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহতদের মধ্যে শহরের কলাতলীর চন্দ্রিমা এলাকার আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ ইমনের (১৭) পরিচয় মিললেও পরে উদ্ধার হওয়া যুবকের পরিচয় এখনো মেলেনি।

এছাড়াও গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তৌনিক মকবুল (২৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত তৌনিক ঢাকার শ্যামলীর আদাবর এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে। সে ব্রাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রাথমিকভাবে ট্যুরিস্ট, লাইফগার্ড ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, সমুদ্র সৈকতের তিনটি পয়েন্ট কলাতলী, লাবণী ও সুগন্ধায় পর্যটকের চাপ বেশি থাকে। তাই তারা কিছু এলাকাকে গোসল করার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। কিন্তু সে নির্দেশনা না মেনে অনেকে গোসলে নামেন। সে কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে।

এদিকে ১০ নির্দেশনা কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। পানিতে নামার আগে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের উদ্ধোধন করেন ডিসি মো. মামুনুর রশীদ।

সমুদ্রে নামার আগে ১০ সতর্কতা-  

সাঁতার না জানলে সমুদ্রের পানিতে নামার সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন, লাল পতাকায় চিহ্নিত করা পয়েন্টে কোনোভাবে নামা যাবে না, সৈকতে এলাকায় সর্বদা লাইফগার্ডের নির্দেশনা মানতে হবে, বিকেল ৫টার পর সমুদ্রে নামা যাবে না, সমুদ্রে নামার আগে জোয়ার-ভাটাসহ আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা জেনে নিন, লাইফগার্ড নির্দেশিত নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোনো পয়েন্ট থেকে সমুদ্রে নামা যাবে না, সমুদ্রে যেকোনো মুহূর্তে তীব্র স্রোত এবং গুপ্ত গর্ত সৃষ্টি হতে পারে, যেকোনো ভাসমান বস্তু নিয়ে পানিতে নামার আগে বাতাসের গতি সম্পর্কে জেনে নিন, শিশুদের সৈকতে সব সময় সঙ্গে রাখুন, তাকে একা সমুদ্রে নামতে দেবেন না ও অসুস্থ অথবা দুর্বল শরীর নিয়ে সমুদ্রে হাঁটু পানির বেশী নামবেন না।

ডিসি মো. মামুনুর রশীদ বলেন, পর্যটকদের এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। কিন্তু পর্যটকরা নির্দেশনা না মানায় বার বার অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ জন্য ১০ দিনের সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করেছি।

মানবকণ্ঠ/এমএম


poisha bazar

ads
ads