কন্যা জন্ম দেয়ায় স্ত্রীর মুখে আগুন দিয়ে জীবন্ত পুঁতে রাখেন স্বামী

- ছবি: সংগৃহীত

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১১ জুন ২০২১, ২১:০৫

দিনাজপুরে কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে গলা টিপে অজ্ঞান করার পর মুখে আগুন দিয়ে জীবন্ত পুতে রেখেছিলেন আব্দুর রউফ (৪০) নামে এক ব্যক্তি।

শুক্রবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় আব্দুর রউফ আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে বিরামপুর উপজেলার নয়ানি খসালপুর বাগানের পাশে গাছ লাগানোর গর্ত খুঁড়তে গিয়ে সুমির লাশ দেখতে পান বন বিভাগের কর্মচারীরা। পরে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত সুমি নবাবগঞ্জ উপজেলার খটখটিয়া কৃষ্ট চাঁদপুর গ্রামের মজিবর রহমানের মেয়ে। আর তার স্বামী আব্দুর রউফ বিরামপুর উপজেলার খানপুর বন্ধন আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে বছর তিনেক আগে বিরামপুর উপজেলার খানপুরে নানাবাড়িতে থাকতে শুরু করেন সুমি। আর শালবনের পাশের মাঠে পাম্প ঘর ভাড়া নিয়ে জমিতে সেচ দেয়ার কাজ করতেন আব্দুর রউফ। সেই সুবাদে দেড় বছর আগে খানপুর বাজারে তাদের পরিচয় হয়। এর কিছুদিন পর তারা বিয়ে করেন। সুমি রউফের চতুর্থ স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী মারা যান, দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধন আদর্শ গ্রামে থাকেন।

সুমির সঙ্গে বিয়ের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। এমনকি মাঝে মধ্যে রউফের কর্মস্থল শালবনের পাশে পাম্প ঘরেও রাত কাটাতেন। এরই মধ্যে সুমির গর্ভে সন্তান আসে। ঘটনার ১৩ দিন আগে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন ‍সুমি।

বিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) মতিয়ার রহমান বলেন, প্রায় দশদিন আগে রাত ১০টার দিকে সন্তানকে অন্য কারো কাছে রেখে স্বামীর কাছে যান সুমি। সন্তানসহ তাকে নিজ বাড়িতে নেয়ার জন্য রউফকে চাপ দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমির গলা টিপে ধরেন রউফ। এরপর অজ্ঞান অবস্থায় পাম্প ঘরের পাশে মুখে আগুন লাগিয়ে দেন। পরে লাশ গুম করতে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে বনের জমিতে একটি পানি যাওয়া নালায় জীবন্ত অবস্থায় পুঁতে রাখেন। রউফের দেয়া তথ্যমতে নিজ বাড়ি থেকে ব্যবহৃত কোদাল ও মুখে আগুন দেয়ার ছাই উদ্ধার করা হয়।

বিরামপুর থানার ওসি সুমন কুমার মহন্ত বলেন, কয়েকদিন ধরে রউফের পাম্প ঘরে সন্তানসহ সুমিকে দেখছিলেন না স্থানীয় লোকজন। এছাড়া সুমির লাশ উদ্ধারের দিনে তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে রেখে আসেন রউফ। এমনই একটি সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। পরে রউফের বাড়িতে সেই রাতেই পুলিশ অভিযান চালায়। পরদিন সকালে মুঠোফোন ট্র্যাক করে চড়াইভিটা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ওসি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন রউফ। কিন্তু স্ত্রী সুমির কোলের সন্তান কাকে দত্তক দিয়েছেন সে বিষয়ে কিছুই জানাননি। বাচ্চাটির অনুসন্ধান অব্যাবহত রেখেছে পুলিশ।

মানবকণ্ঠ/এসকে


poisha bazar

ads
ads