ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঝলসে গেছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১০ জুন ২০২১, ১৪:৪২,  আপডেট: ১০ জুন ২০২১, ১৫:৫৯

তিন ফসলি জমিকে এক ফসলি দেখিয়ে ইটভাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ও জামির্ত্তা ইউনিয়নে। আর সেই ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঝলসে গেছে কৃষকের শত শত একর জমির সোনালী ধান।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সাহায্যের আশায়। কারণ ধার-দেনা করে নিজের সর্বস্বটুকু দিয়ে যে ধান তিনি ফলিয়েছেন, তা ঘরে তুলতে না পারলে যে তাকে সারা বছর উপোস থাকতে হবে। এর মধ্যে তিন ফসলি জমিতে স্থাপিত ইটভাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ সভাও করেছেন কৃষক। কিন্তু তাতে কোনে কাজ হয়নি। বন্ধ হয়নি ইটভাটা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যাচাইবাছাইয়ে অনেকের নাম বাদ দিয়ে তালিকা তৈরি, ক্ষতিপূরণ কম দেওয়া এবং তালিকায় নাম গেলেও টাকা পায়নি এমন অভিযোগও রয়েছে। কোনো নিয়মনীতিই মানছেন না ইটভাটার মালিকরা। এসব দেখারও যেনো কেউ নেই ।

চান্দহরের রিফাইতপুর, চালতাপাড়া চকের কৃষকরা জানান, ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে প্রায় দেড় শ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। গত বছরও অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া এবারে যে পরিমাণে ক্ষতি হয়েছে তার বদলা পাননি তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে ভাটা মালিকের কাছ থেকে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করে সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে জানিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বাদল বলেন, তার ইউনিয়নে তিন ফসলি জমিতে এসব ইটভাটার ট্রেড লাইসেন্স কিংবা ডিসির অনুমতি পত্রও নেই। অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এরা কোনো আইন মানছে না।

ভোট দেইনি বলে ক্ষতিগ্রস্ত তালিকা থেকে ইউপি চেয়ারম্যান তাদের নাম বাদ দিয়েছেন। গতবারও তাই হয়েছে। প্রকৃত কৃষক হয়েও সরকারি গুদামে ধান বিক্রির কার্ড দেওয়া হয় না তাদের জানিয়ে চাপরাইল চকের কৃষক আছাদ নুর, আবদুল করিম, আবু বকর, হাজি আবুল কালাম, আবদুল মালেক, আনোয়ার হোসেন, আশকার আলী, লোকমান, ফজল হক ও পান্নু মিয়া সহ অনেকেই জানান, ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাসের কারণে কষ্টের ফসল সম্পূর্ণভাবে ঝলসে গেছে। বিঘাপ্রতি যেখানে ২৫ মণ ধান হওয়ার কথা, সেখানে হয়েছে মাত্র পাঁচ মণ। ১২০ বিঘা জমির ধান একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এবার অন্তত ৫ হাজার ৩৬১ মণ ধান কম হয়েছে। এতে ৫ কোটি ৩৬ লাখ ১ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আবুল হোসেন ও প্রকৌশলী আবু সায়েম বলেন, কৃষকদের কথা না ভেবে ইউপি চেয়ারম্যান ইটভাটার মালিকের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে থাকেন। ফলে ক্ষতিপূরণ চেয়ে ইটভাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধনে কৃষকদের অংশ গ্রহণে বাঁধা দেন তিনি। আগামী শুক্রবার (১১ জুন) আবারও মানববন্ধন করবেন তারা। এতেও কাজ না হলে কঠিন কর্মসূচি দেওয়া হবে ।

মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হালিম রাজু বলেন, কোনো কৃষককেই ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করা হয়নি।

জমির্ত্তা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান ও সিনিয়র শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, আগের স্কুল কমিটির সমঝোতায় স্কুলের জমি ইটভাটায় থাকলেও বর্তমানে ঐ জমির ফসল এবং ভাটা মালিকের কাছ থেকে কোনো টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না।

ধান পুড়ে যাওয়া কৃষকদের তালিকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। এতে কারো নাম বাদ দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা টিপু সুলতান স্বপন তিন ফসলি জমিকে এক ফসলি দেখিয়ে ইটভাটার অনুমোদন দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা নয়, তা পরিবেশ অধিদপ্তর দিয়ে থাকে।

পরিবেশ অধিফতরের জেলা উপপরিচালক নুর আলম বলেন, ‘আইনে আছে এক ফসলি কিংবা পতিত জমি ছাড়া ইটভাটা করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদফতর থেকে কৃষি কর্মকর্তা বরাবর চিঠি ইস্যু করা হয়। কৃষি কর্মকর্তা এক ফসলির বিষয় অনুমোদন দিলেই কেবল পরিবেশ অধিদফতর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এ ছাড়া অনুমোদন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু আমরাও দেখি তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা।

মানবকণ্ঠ/আরআই


poisha bazar

ads
ads