বাঁশঝাড়ে পাওয়া তরুণীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১০ জুন ২০২১, ০৯:৫৭,  আপডেট: ১০ জুন ২০২১, ০৯:৫৯

ঢাকার সাভারে একটি নির্জন বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, সোমবার বিকেলে বাবার বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি লাখী আক্তার।

বুধবার সকাল ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের সাত ঘন্টা পর সন্ধ্যার দিকে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক সুব্রত রায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে আশুলিয়ার সুবন্দি এলাকায় সামছুল উদ্দিন ডাক্তারের মালিকানাধীন বাঁশঝাড়ের ভিতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন এসআই সুব্রত।

নিহত লাখী আক্তার আশুলিয়া থানাধীন শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোনা পাড়া গ্রামের মুজিবর রহমানের মেয়ে। চার-পাঁচ বছর আগে আশুলিয়া থানাধীন সুবন্দি গ্রামের মো. রফিকের ছেলে মো. জুয়েলের সাথে তার বিয়ে হয়েছিলো। পরে প্রায় এক বছর আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর শিমুলিয়া ইউনিয়নের চাঙ্গিদিয়া গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো. ফিরোজের সাথে গত রমজানে পারিবারিক ভাবে মুঠোফোনে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

পুলিশ জানায়, সকালে বাঁশঝাড়ের ভিতরে ওই তরুনীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানী ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ওই সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোনা পাড়া গ্রামে নিহতের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা, মা ও ভাইকে পাওয়া যায়নি। আশুলিয়া থানা পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

নিহতের খালাতো বোন রহিমা বেগম বলেন, চার-পাঁচ বছর আগে সুবন্দি গ্রামের জুয়েলের সাথে পারিবারিক ভাবে তার বোন লাখীর বিয়ে হয়। এরপর থেকেই জুয়েল তার বোনকে নানাভাবে নির্যাতন করতো। মূলত জুয়েল বখাটে প্রকৃতির ও মাদকসেবী। এ কারণেই এক বছর আগে পারিবারিক ভাবে মেয়েকে জুয়েলের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়। পরে গত রমজান মাসে আমাদের পাশের গ্রাম চাঙ্গিদিয়া এলাকার সিঙ্গাপুর প্রবাসী ফিরোজের সাথে পারিবারিক ভাবে মুঠোফোনে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, কয়েক দিন আগে লাখীর বাবা তাকে শ্বশুড় বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলো। এরপর গতকাল বিকেলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা জানতে পারেন। কিন্তু কোথায় গেছেন সেটা কেউ বলতে পারে না।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত রায় জানান, নিহত তরুণীর পরিচয় শনাক্ত হওয়া গেছে। তার বাড়ি আশুলিয়া থানাধীন শিমুলিয়া ইউনিয়নে। তবে এখনো হত্যার কারণ জানা যায়নি। আমরা তদন্ত করছি, আপাতত এটুকুই।

এর আগে এসআই সুব্রত জানিয়েছিলেন, নিহত তরুনীর বয়স আনুমানিক ২৪-২৫ বছর। তার পড়নে গোলাপী রঙের জামা, ওড়না রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আজ ভোরের দিকে ওই তরুণীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। নিহতের গলায় আঙ্গুলের ছাপ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুন সকালে আশুলিয়ার এনায়েতপুর এলাকায় একটি বাউন্ডারির ভিতর থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর বস্তাবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এখনো পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।

মানবকণ্ঠ/এমএ


poisha bazar

ads
ads