বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথ

অ্যাম্বুলেন্সবাহী ফেরিতে ঝাঁপিয়ে উঠছে মানুষ, ঘাটে তীব্র জট


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৯ মে ২০২১, ১৫:৩৬

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটে সীমিত আকারে তিনটি ফেরি জরুরি ভিত্তিতে আসা যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে।

রোববার (৯ মে) সকাল ৮টায় কুঞ্জলতা ও সাড়ে ৮টায় কুমিল্লা নামে দুটি ছোট ফেরি শিমুলিয়ার উদ্দেশ্যে ছাড়া হয়। আর শিমুলিয়া থেকেও সকাল ৮টায় ফরিদপুর নামে একটি ছোট ফেরি সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাবাজার ঘাটে এসে পৌঁছায়। এতে কমপক্ষে দেড় হাজার যাত্রী ছিলো।

ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, ফেরি চলাচল বন্ধ। তবে জরুরি প্রয়োজনে আসা এ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি পারাপারের জন্য তিনটি ফেরি চলাচল করছে। এই ফেরিগুলোতে যাত্রীরা ঝাঁপিয়ে উঠছে। যাত্রীদের কোনভাবেই আটকে রাখা যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে বাংলাবাজার ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জামিল আহমেদ বলেন, ‘দিনে ফেরি চলাচল বন্ধ। তবে লাশবাহী গাড়ি ও এ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য সকালে দুটি ছোট ফেরি ছাড়া হয়েছে। সেখানে কিছু মোটরসাইকেল ও কিছু যাত্রী ওঠানো হয়। শিমুলিয়া থেকে ছাড়া একটি ফেরি সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাবাজার ঘাটে আসে। এই ফেরিতে এ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি ফেরিটি ভরা যাত্রী ছিল। এই যাত্রীরা ঈদ উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।

এদিকে দিনে ফেরিতে পণ্যবাহী ট্রাক ও সাধারণ যানবাহন পারাপার না করায় উভয় ঘাটেই আটকা পড়েছে কমপক্ষে দেড় হাজার যানবাহন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।

সরেজমিনে রোববার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বাংলাবাজার ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ২৫টি এ্যাম্বুলেন্স ও শতাধিক মোটরসাইকেল, দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে কুঞ্জলতা ও কুমিল্লা নামে দুটি ফেরি শিমুলিয়ার উদ্দেশ্যে ছাড়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় ফরিদপুর নামে একটি ছোট ফেরি শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে বাংলাবাজার ঘাটে আসে। এই ফেরিতে এ্যাম্বুলেন্স আর দেড় সহস্রাধিক যাত্রী। ঘাটে রো রো ও ডাম্ব ফেরিগুলো নোঙর করে রাখা। টার্মিনাল ভর্তি পণ্যবাহী ট্রাক। ঘাটের সংযোগ সড়কেও আটকা পড়েছে অন্তত কয়েকশ যানবাহন।

বাংলাবাজার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) আশিকুর রহমান বলেন, ‘সকাল থেকে ২৫টির মতো এ্যাম্বুলেন্স দুটি ফেরিতে তোলা হয়। এ ছাড়াও রোগীবাহী কয়েকটি গাড়িও ফেরিতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ঘাটে দিনে বেলায় ফেরি না চলায় বাংলাবাজার ঘাটের টার্মিনালে ৫৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে।’

বিআইডব্লিউটিসি ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে সাধারণত ১৬টি যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে পারপার হয়। চলমান করোনাভাইরাসের লকডাউনে চলায় ১৪ এপ্রিল থেকে সীমিত করা হয় ফেরি চলাচল। লকডাউনের শুরুতে দিনের বেলায় ২ থেকে ৩টি ফেরি পরে ৬ থেকে ৭টি ফেরি ছাড়া হলেও গত শুক্রবার থেকে যাত্রী ও জরুরি প্রয়োজনে আসা যানবাহনের চাপ বেশি থাকা প্রায় সব কয়টি ফেরি চলাচল করে এ নৌপথে। এসব ফেরিতে জরুরি প্রয়োজনে আসা যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাক, কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারের কথা থাকলেও হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী পারাপার হতে দেখা যায় ফেরিতে। এ কারণে বিআইডব্লিউটিসির পক্ষ থেকে গত শনিবার সকাল থেকে দিনের বেলায় ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ঢাকা থেকে আসা ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় তীব্র হওয়ায় শুধু যাত্রী নিয়ে ফেরি ছাড়তে বাধ্য হয় ঘাট কর্তৃপক্ষ। যাত্রী আর জরুরি প্রয়োজনে আসা গাড়ি পারাপারের কারণে উভয় ঘাটেই আটকা পড়েছে দেড় সহস্রাধিক যানবাহন। এর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

মানবকণ্ঠ/এনএস


poisha bazar

ads
ads