অরক্ষিত ইতিহাসের নির্মম সাক্ষী, ধুয়েমুছে সাফ যুবকের

অরক্ষিত ইতিহাসের নির্মম সাক্ষী, ধুয়েমুছে সাফ যুবকের
- ছবি- আরিফুল ইসলাম সাব্বির

  • আরিফুল ইসলাম সাব্বির
  • ০৯ মে ২০২১, ১১:৪৪,  আপডেট: ১২ মে ২০২১, ২৩:৫৩

১৯৭১ সালের ৯ মে সকাল। ঢাকার ধামরাইয়ে ৮০-৯০ জন যুবক-তরুণকে আটক করে পাক হানাদার বাহিনী। প্রথমে তাদেরকে থানায় রেখে সকালের খাবার সারে তারা। দুপুরের দিকে আটককৃতদের ১৯ জনকে নিয়ে আসা হয় উপজেলার কালামপুর বাজারে। সেখানে সারিবদ্ধ দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয় প্রায় সবাইকে। সেইদিনের রক্তাক্ত স্মৃতি স্মরণে পরে ঘটনাস্থলে তৈরি করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ। বাঙালির ইতিহাসের নির্মম এই অধ্যায়ের সাক্ষীর জায়গাটি পড়ে ছিলো অরক্ষিত অবহেলায়। তবে শোকের সেই দিন স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভটি ধুয়েমুছে সাফ করেছেন স্থানীয় এক যুবক। সন্ধ্যায় শহিদদের মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধাও জানান তিনি।

রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ জাকারিয়া দীপুর মতে, অরক্ষিত রাখা হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে যাবে।

জানা যায়, 'আজকের এইদিনে ১৯৭১ সালের ৮ই মে সকাল এগারটার দিকে ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার ৮০-৯০ জনকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে প্রথমে ধামরাই থানায় নিয়ে থানা চত্বরে আটকে রাখে।'

'পরে দুপুরের দিকে আটককৃতদের অধিকাংশকে ছেড়ে দিয়ে ১৯ জনকে নিয়ে ধামরাইয়ের কালামপুর বাজারের বংশী নদীর পাড়ে নিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। এতে মোট ১৪ জন লোক প্রাণ হারান। তবে ভাগ্যক্রমে মোট ৫ জন লোক বেঁচে যান।'

এদেরই একজন ধামরাই পৌরসভার উত্তরপাতা মহল্লার প্রয়াত মহাদেব পালের মেজ ছেলে নেপাল চন্দ্র পাল বলেন, ১৯৭১ সালের ৮ই মে সকাল ১১টার দিকে আমার উত্তরপাতার নিজ বাড়ি থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যগণ আমাকেসহ আরো ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৯০ জনকে ধরে নিয়ে প্রথমে ধামরাই থানা চত্বরে নিয়ে আটকে রাখে পরবর্তীতে ওইদিনই দুপুরে আটককৃত ৯০ জনের মধ্যে অধিকাংশ লোককে ছেড়ে দিয়ে আমাকে সহ ১৯জনকে ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকায় বংশী নদীর পাড়ে নিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যগণ এতে এ’সময় ১৪ জন লোক প্রাণ হারান। ভাগ্যক্রমে সাতটি গুলি পায়ে লাগার পরও আজও বেঁচে আছি আমি।

তিনি বলেন, শুনেছি ইতিহাসের সাক্ষী ওই বধ্যভূমি ৫/৬বছর আগে ধামরাই উপজেলা প্রশাসন থেকে কালামপুরের ওই জায়গাটি চিন্হিত করে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও ১৯৭১ সালের ৮ই মে তারিখে পাকিস্তানি হানাদার কর্তৃক ব্রাশ ফায়ারে নিহত ও গুলিবিদ্ধ আমিসহ আরো কয়েকজন আহতদের নামও স্মৃতি ফলকে লিখা হয়নি।

এদিকে ৯ মে স্মরণে কালামপুর বাজারের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি ধুয়েমুছে সাফ করা যুবলীগ কর্মী জাকারিয়া দীপু বলেন, সারাবছর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্তম্ভে ধুলা ময়লায় আস্তরণ জমে গেছে। পানি ও ডিটারজেন্ট দিয়ে পুরো স্তম্ভ ধুয়েছি। তবে এরকম একদিন নয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিয়ে সারাবছরই এই জায়গাটি রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।


poisha bazar

ads
ads