টিকা নিয়ে কিশোরগঞ্জের বৃদ্ধের মৃত্যু, সংবাদটি ভিত্তিহীন: সিভিল সার্জন


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৩ মার্চ ২০২১, ২০:২৯

প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণের পর কিশোরগঞ্জে ১২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শামিম আহমেদ (৬৭) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। যিনি টিকা নেয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মারা গেছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে তা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন মজিবুর রহমান।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই সংবাদের বিষয়টি উল্লেখ করে সিভিল সার্জন মজিবুর রহমান বলেন, মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে টিকার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে ‘টিকা নেওয়ার সময় যদি কেউ করোনাভাইরাসে আগে থেকেই আক্রান্ত হয়ে ইনকিউবেশন পিরিয়ডে থাকেন, তবে তিনিও সংক্রমিত হতে পারেন।’

এদিকে মৃত শামিম আহমেদের ছেলে জানান, ৮ ফেব্রুয়ারি টিকা নেওয়ার পর অসুস্থ বোধ করলে ১৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ১৯ ফেব্রুয়ারি তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন ওই হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, প্রথম ডোজ দেওয়ার পরে ১৪-২১ দিন পর শরীরে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এটি তৈরি হলেও করোনার সংক্রমণ হতে পারে। তবে সেটা মৃদু সংক্রমণ হবে। মানুষ মারা যাবে না।

যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড ইউনিভার্সিটি সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েটস, ড. খোন্দকার মেহেদী আকরাম বলেন, এখন পর্যন্ত গোটা পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষকে অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। ভ্যাকসিনের কারণে কারো মৃত্যু হয়েছে এমন তথ্য নেই। ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের ভেতরে হয়তো কয়েকটা মৃত্যুর খবর এসেছে, তবে সেসব মৃত্যুর সাথে ভ্যাকসিনের সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনার টিকা নেওয়ার কারণে কোভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে কোভিশিল্ড টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার ন্যূনতম ১৪ দিন পর থেকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধসক্ষমতা তৈরি হয়। এ সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই করোনার টিকা নেওয়ার পরও মাস্ক ব্যবহারসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এনএস






ads
ads