১৩ বছরে ৮ বিয়ে, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সায়েম


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:৩৭,  আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৩৮

ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি আবু সায়েম। বয়স হবে ৩০-৩২ বছর। নারী সঙ্গ তার খুবই প্রিয়। যে কারণে আইন-আদালত ও সামাজিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি একের পর এক বিয়ে করেই চলছেন। কখনও বা বিয়ে না করে বিয়ে বহির্ভূত সর্ম্পকে জড়িয়ে যান নারীদের সাথে। তিনি এ পর্যন্ত আটটি বিয়ে করেছেন। গোপনে অনেক নারীর সঙ্গও নিয়েছেন- এমন অভিযোগও রয়েছে।

সায়েমের প্রথম স্ত্রী দুই সন্তানের জননী শাহানাজ পারভীন সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য দিয়েছেন। সায়েমের ৮ বিয়ের বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সায়েমের প্রথম স্ত্রী ভুক্তভোগী শাহানাজ পারভীন স্বামীর এসব বেআইনি, অবৈধ ও নষ্ট কর্মকাণ্ডের বিচার চেয়ে লালমনিরহাট জেলা জজকোর্টে গত ৩ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সায়েম লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে। পেশায় ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। তবে তিনি নিজেকে একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। পোশাক-পরিচ্ছেদে সায়েম নিজের শারীরিক সৌন্দর্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নারী পটান বলে এলাকার অনেকে জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালে সায়েমের সাথে শাহানাজ পারভীনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় যৌতুকের বাহানা। যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনের মধ্যেই দুই সন্তানের জননী হন প্রথম স্ত্রী শাহানাজ।

সায়েম গরিব পিতার মেয়ে স্ত্রী শাহানাজ পারভীনকে ঘায়েল করার অন্যতম উপায় হিসেবে যৌতুককেই বেছে নেন। তাই কারণে-অকারণে যৌতুকের প্রসঙ্গ তুলে প্রথমত মার-ডাং, তারপর বিয়ে করার ভয় দেখান।

এক সময় শুরু হয় তার নষ্টামি। তিনি প্রথম স্ত্রীর সম্মতি না নিয়েই চুয়াডাংগার এক মেয়েকে বিয়ের স্ত্রী পরিচয়ে বাড়িতে তোলেন। জানা গেছে, ওই নারী চুয়াডাংগার দবির উদ্দিনের মেয়ে লিপি বেগম।

শাহানাজ পারভীন তখন উপায় না পেয়ে সবকিছু মেনে নিয়ে সতীন লিপির সংসার করেন। প্রথম স্ত্রীর ভাষ্যমতে দ্বিতীয় স্ত্রীকেও সায়েম নির্যাতন করতে শুরু করেন। নির্যাতনের মাত্রা এতবেশি বেড়ে যায় যে, বিয়ের ২ বছরের মাথায় দ্বিতীয় স্ত্রী স্বামীকে ছেড়ে পালিয়ে বাঁচেন। এরপর সায়েম লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধায় তৃতীয় বিয়েটি করেন।

জানা গেছে, সায়েমের তৃতীয় স্ত্রী হাতীবান্ধার সিংগিমারী এলাকার মিয়াজানের মেয়ে কেয়া মনি। পরে শ্বশুর ৭০ হাজার টাকায় রফাদফা করে কেয়া মনিকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

সায়েম এরপর চতুর্থ বিয়ের জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন। এই অস্থিরতার মধ্যে সায়েমের নজর পড়ে পাটগ্রাম উপজেলার বাউরায় প্রতিষ্ঠিত কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষিকা সাজেদা আক্তার কবিতার উপর। শুরু হয় প্রেমের অভিনয়। এক পর্যায়ে গরিব ঘরের মেয়ে কবিতাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে ভেগে নিয়ে যান সায়েম। বর্তমানে সায়েম কবিতাকে নিয়েই আছেন বলে তার স্ত্রী জানিয়েছেন।

এরপর সায়েম কুড়িগ্রামে গিয়ে বিয়ে করেন। পরে কুড়িগ্রাম থেকে ওই মেয়ের বাবা সায়েমের প্রথম স্ত্রীর কাছে এসে সবকিছু জেনেশুনে ফিরে গিয়ে মেয়েকে ছাড়িয়ে নেন। সায়েমের এসব কর্মকাণ্ডের খোঁজ নিতে তার এলাকায় গেলে বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল। এলাকার অনেকেই তার উপরে ক্ষুব্ধ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এলাকার কয়েকজনের মুখে যা শোনা গেল তা সায়েমের স্ত্রীর মুখে শোনার থেকেও বেশি। এলাকার ওই ব্যক্তিরা জানিয়েছেন সায়েম নারীলোলুপ, ঠক ও প্রতারক টাইপের। সে অনেক নারীর ইজ্জত নষ্ট করেছে।
অনেকের কাছে বিভিন্ন ছলনায় টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। এখন সে কবিতা নামের একজন শিক্ষিকাকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা তার নষ্টামির বিচার চাই।

সায়েমের প্রথম স্ত্রী শাহানাজ জানিয়েছেন, সায়েম আমাকে ও দুই সন্তানকে রেখে এখন কবিতা নামের এক শিক্ষিকাকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। সায়েমকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি। শেষে উপায় না পেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।

সায়েমের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে অনেকেটা ধৃষ্টতার সাথে সায়েম বলেন, তাহলে আপনারা এখন কি করতে চান? আপনাদের কি করার আছে? আদালতে মামলা করেছে, বিষয়টি আদালত দেখবে।

এ প্রসঙ্গে আবু সায়েম বলেন, তার স্ত্রী মামলা করেছেন সেটা আইন আদালতের বিষয়। এ নিয়ে সাংবাদিকদের নিউজ করার কি আছে? তবে একাধিক বিয়ের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন নাই।

এ বিষয়ে বাউড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন জানালেন, শুনেছি সায়েম নামের ওই যুবক সাজেদা বেগম কবিতাকে নিয়ে পালিয়েছে। আমি সাজেদা বেগমের পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এর বেশি কিছু জানি না।

মানবকণ্ঠ/এনএস






ads
ads