বাউফলে এমপি-মেয়র গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২৫


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৮:১৩

পটুয়াখালীর বাউফলে শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে সোমবার সোমবার পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার প্রথম প্রহরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম শহীদ মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ফুলের তোড়া ভাংচুর করা হয়। সন্ধ্যার পর পৌর শহরে মেয়র সমর্থকরা একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিলটি রিকশা স্ট্যান্ড অতিক্রম করার সময় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।

এতে সাংসদ পক্ষের নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও বাউফল পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি (একাংশ) ইব্রাহিম ফারুক (৫৭), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য মো. হারুন অর রশিদ খান (৫০) এবং মেয়র পক্ষের বাউফল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফ রানা (২৫), মো. আরিফ (২২), মো. সিদ্দিকুল্লাহ (৪৫), মো. মেহেদীসহ (২৭) দুইপক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত এক সাংবাদিকসহ দুই পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাংসদ পক্ষের হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে রোববার রাতে মেয়র পক্ষের ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেছেন।

এছাড়াও সাংসদ পক্ষ রোবারের সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের নেতৃত্বে বেলা ১১টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং বাউফল থানার সামনের সড়কে গাছের গুড়ি ও টায়ার চালিয়ে তারা সড়ক অবরোধ করে রাখে। মিছিল শেষে বাউফল থানার পূর্ব পাশে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সমাবেশ স্থলে বাউফল থানার ওসি উপস্থিত হয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় সাংসদ পক্ষ। এ কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। তখন দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, ওই প্রতিবাদ মিছিল থেকে হামলা চালিয়ে বাউফল থানার সামনে গোলাবাড়ি পর্যন্ত ১০টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। ওই সময় হামলাকারীরা দোকানিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তাঁরা একটি প্রাইভেট ব্যাংকের এটিএম বুথে হামলা চালিয়েছে। তবে পাহারাদার সাটার আটকে ফেলায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

কয়েকজন দোকানি অভিযোগ করেছেন, পুলিশের সামনেই মিছিল থেকে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে, লুটপাট করা হয়েছে। পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।

এদিকে হামলা ও ভাঙচুরের ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক দেশবার্তা পত্রিকার সাংবাদিক মো. জাহিদকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকরা হয়েছে।

অপরদিকে সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার পর দুপুর দুইটার দিকে থানার অদূরে উপজেলা সদরের শিশুবন শিশুপার্কে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। নাজিরপুর গ্রামে অবদুল গনির ঘরে হামলা চালানো হয়েছে। তাতে বাধা দিলে আবদুল গনিকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও সর্বত্র থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পৌরসভার মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের কোনো লোক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত না।’

বাউফল থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘একটি মামলা হয়েছে। তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের সামনে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ সত্য না। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।






ads
ads