বে-টার্মিনাল এখনো আঁতুড়ঘরে

বে-টার্মিনাল এখনো আঁতুড়ঘরে
- প্রতিনিধি

poisha bazar

  • এম এম খালেদ, চট্টগ্রাম
  • ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৩৮

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও আকার-আয়তন বাড়াতে পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত বে-টার্মিনাল রেলওয়ে সংযোগ প্রকল্পের মেয়াদ তিনবার বৃদ্ধি করার পরও এর নির্মাণকাজ এখনো রয়েছে আঁতুরঘরেই। এই প্রকল্পের ‘সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ (ফিজিবিলিটি স্টাডি) এবং ‘বিশদ নকশা সমীক্ষার’ (ডিটেইল ডিজাইনিং) কাজ মাত্র শেষ হয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী সুবক্তগীন।
তিনি মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘বে-টার্মিনাল রেলওয়ে সংযোগ লাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা সমীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

গত বছরের ২৭ অক্টোবর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এর রিপোর্ট জমা দিয়েছে, যা ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। চায়না রেলওয়ে ডিজাইন করপোরেশন ও মজুমদার ইন্টারপ্রাইজকে এ প্রকল্প বস্তাবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, নির্ধারিত মেয়াদ ২০২১ সালের জুনের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২০ মার্চ রেলমন্ত্রী বে-টার্মিনাল রেলওয়ে সংযোগ প্রকল্পটির অনুমোদন করেন। ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে পারেনি। এরপর ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। বর্ধিত মেয়াদ অনুযায়ী আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে।

দেশের আমদানি-রফতানি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা-হালিশহর সাগর উপক‚লজুড়ে বে-টার্মিনাল গড়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পটির অধীনে ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজসহ ৫৮৩ মিটার দীর্ঘ কন্টেইনার জেটি, ২২০ দীর্ঘ ডলফিন জেটি, ৮৯ হাজার বর্গমিটার আরসিসি ইয়ার্ড, দুই হাজার ১২৮ বর্গমিটার কন্টেইনার শুল্ক স্টেশন, দুই হাজার ১৫০ মিটার লম্বা ৬ মিটার উচ্চ কাস্টম বন্ডেড হাউস, দুই হাজার ৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্র্যাক, ৪২০ মিটার ফ্লাইওভার, এক হাজার ২০০ বর্গমিটার মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ এবং পাঁচ হাজার ৫৮০ বর্গমিটারের অফিস বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে।

এর মধ্যে ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে রেলওয়ে সংযোগ লাইনের কাজটি করছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। এই রেলওয়ে সংযোগ লাইনটির দৈর্ঘ্য হবে ৪ দশমিক ১৫ থেকে ৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ডিজাইন করপোরেশন ও মজুমদার ইন্টারপ্রাইজকে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা সমীক্ষার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। সমীক্ষা শেষে গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সমীক্ষা রিপোর্ট অনুমোদিত হয়েছে। সমীক্ষা রিপোর্টে পাঁচটি প্রস্তাবিত ডিজাইন দিয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। গৃহস্থালি-ঘরবাড়ি, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইন, ট্রাক স্ট্যান্ডসহ যাবতীয় স্থাপনার বিষয়গুলো মাথায় রেখে এই পাঁচটি ডিজাইন দিয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে এক নম্বর ডিজাইনে রেলওয়ে সংযোগ লাইন স্থাপন করলে লাইনটি ৯টি সড়ক ক্রস করবে। দুই নম্বর ডিজাইনে ৮টি সড়ক, ৪ নম্বর ডিজাইনে ৫টি সড়ক এবং ৫ নম্বর ডিজাইনে ৬টি সড়ক ক্রস করবে।

এই সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী সুবক্তগীন বলেন, ইতোমধ্যে সমীক্ষা প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২০ শতাংশ শেষ হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে তারা পাঁচটি প্রস্তাবিত রুট দেখিয়েছে। তবে কোন রুটে রেলওয়ে সংযোগ লাইনটি স্থাপন করা হবে তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। কয়েকদিনের মধ্যে একটি বৈঠক আহŸান করা হবে। এরপরই রুট নির্ধারণ করার পর ওই ডিটেইল ডিজাইন প্রস্তাবনার আলোকে কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, নগরের পতেঙ্গা-হালিশহর এলাকায় সাগর উপক‚লের ৮৭১ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সরকারি জমি ছাড়াও সমুদ্র থেকে জেগে ওঠা আরো ১ হাজার ৬০০ একরসহ ২ হাজার ৫০০ একর জমিতে টার্মিনালটি নির্মাণের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন ৬৮ একর ভ‚মি অধিগ্রহণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের অবশিষ্ট ৮০৩ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমতি মিলেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামোর চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বড় প্রস্তাবিত বে-টার্মিনালের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের বর্তমান অবকাঠামো ৪৫০ একর জমির ওপর। এ বন্দরে সাড়ে ৯ মিটার গভীরতা ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে বড় জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না। বে-টার্মিনাল হলে ভিড়তে পারবে ১২ মিটার গভীরতা ও ২৮০ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যরে জাহাজ। ফলে বন্দরে প্রতিবছর যে পরিমাণ আমদানি-রফতানি পণ্য হ্যান্ডলিং হচ্ছে, বে-টার্মিনালে হ্যান্ডলিং হবে এর চেয়ে পাঁচগুণ বেশি।

 






ads