ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের খুশি পৌঁছে যাচ্ছে কক্সবাজারে


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭:১২

ভাসানচরের আশ্রয়ন প্রকল্পে প্রত্যাশার তুলনায় উন্নত জীবনমান ও সুযোগ সুবিধা পেয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে স্থানান্তরিত প্রথম বহরের রোহিঙ্গা শরণার্থীরা।

একদিনের মাথাতেই ভাসানচরের সুযোগ সুবিধার বিষয়টি টেকনাফ-উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে থাকা স্বজনদেরও জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (০৪ ডিসেম্বর) এক হাজার ৬৪২ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরের আশ্রয়ন প্রকল্পে স্থানান্তর করে সরকার। ওইদিন সন্ধ্যার আগেই প্রত্যেক পরিবারকে তাদের নির্ধারিত আবাসস্থল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বরাদ্দ পাওয়া কক্ষে সরকারের দেওয়া সকালের নাস্তা দিয়েই শুরু হয়েছে প্রথম বহরে আসা এক হাজার ৬৪২ রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভাসানচরের প্রথমদিন।

এরপর তাদের দেওয়া হয় রান্না করা রাতের খাবার। বরাদ্দ পাওয়া কক্ষে পরিবার পরিজন নিয়ে প্রথম রাত পার করেন ভাসানচরের রোহিঙ্গারা।

শনিবার ভাসানচরের আশ্রয়ন প্রকল্পে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরের বিস্তীর্ণ খোলা জায়গায় খেলা-ধুলায় মেতে রয়েছে রোহিঙ্গা শিশুরা। আর কক্ষগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কেউ শুনছেন গান, কেউ বা আবার সেই গানের তালে বাচ্চাদের নাচের মধ্যে পাচ্ছেন আনন্দ। আর প্রথম দিনেই গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রোহিঙ্গা নারীরা।

অনেকেই মুঠোফোনে কক্সবাজারের শিবিরে থাকা পরিজনদের খোঁজ খবর নিতেও দেখা যায়। একই সঙ্গে নতুন জায়গায় সরকারের দেওয়া সুযোগ সুবিধা পেয়ে তারাও যে ভালো আছে, সে খবরও জানাচ্ছিলেন টেকনাফ-উখিয়া শরণার্থী শিবিরে থাকা স্বজনদের।

কেমন কাটছে ভাসানচরের দিন এমন প্রশ্নে সবার মুখেই শোনা গেছে প্রত্যাশার তুলনায় ভালো থাকার কথা। তারা জানালেন, রাতে তাদের বাসস্থান ও খাবার যথা সময়ে বুঝিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আর সকালে উন্নতমানের নাস্তার সঙ্গে আপেলের মতো ফল থাকায় অনেকটা উৎফুল্লতা প্রকাশ করেন তারা।

কক্সবাজার থেকে ভাসানচরের জীবন ব্যবস্থা অনেক ভালো এমনটা জানিয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশও করেছেন তারা।

ভাসানচরের সুযোগ সুবিধা আর সেবাযত্নে খুশি হওয়া এসব রোহিঙ্গা শরণার্থী বলছেন, কেউ তাদের জোর করে নয়, স্বপ্রণোদিত হয়েই তারা এসেছেন ভাসানচরে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য গড়ে তোলা বাংলাদেশ সরকারের এই আশ্রয়ন প্রকল্পের ব্যাপারে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শর্ত জুড়ে দিলেও তা না মেনে সরকারের সঙ্গে প্রথম ধাপে এই ১ হাজার ৬৪২ জন শরণার্থী নিজেদের ইচ্ছাতেই এসেছেন ভাসানচরে। আর নৌ ও সেনাবাহিনীর সাতটি জাহাজের মাধ্যমে কক্সবাজার থেকে তাদের ভাসানচরে স্থানান্তরিত করা হয়।

মানবকণ্ঠ/এনএস






ads