চিনিকল চালু রাখতে পাবনায় আখ চাষি ও কর্মচারিদের মানববন্ধন


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৮ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৭,  আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৯

চালু থাকলে দেশের ১৫টি চিনিকলই চালু রাখতে হবে। বন্ধ করতে হলে সব চিনিকলই বন্ধ করে দিতে হবে। আর চিনিকল বন্ধ করা হলে চাষি ও কর্মচারিরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

শনিবার(২৮ নভেম্বর) দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদীতে ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন ও পথসভা করেছে আখ চাষি, চাষি সংগঠক ও মিলের শ্রমিক-কর্মচারিরা। তারা সরকারের নীতি নির্ধারকদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মিল রক্ষা করতে তারা প্রয়োজনে আত্মাহুতি দেবেন। শেষে তারা পাবনা-৪ আসনের (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) এমপি নুরুজ্জামান বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি উত্থাপন করেন।

বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আখচাষি কল্যাণ সমিতি পাবনা সুগার মিলস্ লিঃ এর সভাপতি আলহাজ শাজাহান আলী ওরফে পেঁপে বাদশা পথসভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান মিন্টু, ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান, জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম বাবু, আখ চাষি কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী ডিলু, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বকুল, সলিমপুর উইনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু, আখ চাষি মুরাদ মালিথা, আমজাদ হোসেন মালিথা ও হামিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, আসাদুর রহমান, জহুরুল হক, শ্রমিক কর্মচারি ওয়ার্কার্সার ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহিন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্বল প্রমুখ।

বক্তারা বলেছেন, দেশের চিনিকল বন্ধ করার উদ্যোগ কিছু আমলার ষড়যন্ত্র। এটি সরকারের জন্য একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। পাবনা চিনিকল কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত চাষিদের সাথে চুক্তিপত্র সম্পাদন না করে চিনিকল বন্ধ করার একটি সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া। তারা তাদের ৫ দফা দাবিনামাও তুলে ধরেন। তবে আখ চাষি ও কর্মচারি নেতৃবৃন্দ চিনিকলকে লাভজনক করার জন্য সরকারি নীতি নির্ধারকদের সবরকম সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশে বিমান, রেলওয়ে, তাঁতশিল্পে কি লোকসানে নেই? সেগুলো তো বন্ধ হচ্ছে না। ওইসব সেক্টরের তুলনায় সামান্যই লোকসান চিনিকলে। তারপরও মোট চিনিকলের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। সে টাকার বার্ষিক ৪ শতাংশ মুনাফা ধরলেও বছরে বাড়ছে প্রায় ১২ শ’ কোটি টাকা। সে হিসেবে চিনিকলকে অলাভজনক বলাই যাবে না। তারা বলেন, ১৮ মাসের ফসল হলো আখ। চাষির মাঠে এখনো আখ। অথচ এরইমধ্যে বলা হচ্ছে, পাবনাসহ দেশের ৬টি মিল বন্ধ করে দেয়া হবে। তারা বলেন, এ আখ তারা কি করবেন? চিনিকল বন্ধ করতে হলে অন্তত দেড় বছর আগে ঘোষণা দেয়া উচিত ছিলো। তারা বলেন, অনেক চাষি বংশ পরম্পরায় আখ চাষ করে আসছেন। পাবনা চিনিকলসহ ১৫টি চিনিকলে অন্তত সাড়ে দশ হাজার শ্রমিক কর্মচারি রয়েছেন। চিনিকল বন্ধ হলে চাষি ও কর্মকর্তা-কর্মচারিরা সপরিবারে ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়বেন।

বক্তারা বলেন, দেশে চিনিকল চালু আছে তাই আজও চিনির বাজার সহনশীল। চিনিকল বন্ধ ঘোষণার পরদিন থেকেই চিনির দাম চারগুণ বেড়ে যাবে। তারা বলেন, কোনো মহলের বাজার তৈরি করে দেয়ার জন্য এমন ষড়যন্ত্র চলতে পারে।

মানববন্ধন ও পথসভা থেকে জানান হয়, আগামী ১০ দিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। শেষে তারা পাবনা-৪ আসনের এমপি নুরুজ্জামান বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি উত্থাপন করেন। তারা বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য এমপির কাছে আবেদন জানান।

দেশের সুগার মিলগুলোর ক্রমবর্ধমান লোকসান ঠেকাতে ১৬টি সুগার মিলের মধ্যে ৬টি সুগার মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশন। বন্ধের তালিকায় পাবনা সুগার মিল ছাড়াও কুষ্টিয়া, সেতাবগঞ্জ, রংপুর, শ্যামপুর ও পঞ্চগড়ের সুগার মিল রয়েছে। এ বন্ধ প্রক্রিয়ার মধ্যে পাবনা সুগার মিলস্ লিঃ চিনিকলের নাম আসায় মিল সচল রাখতে গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন পাবনা সুগার মিল এলাকার চাষি, শ্রমিক ও কর্মচারিরা।

এদিকে আখ চাষি ও শ্রমিক-কর্মচারিদের আন্দোলন প্রসঙ্গে পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ জানান, আসলে মিল বন্ধ হয়ে যাবে না চালু থাকবে তিনি নিশ্চিত নন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে এ পর্যন্ত কিছু জানাননি। তবে তিনি অন্যদের মতো মুখে মুখে গুঞ্জন শুনছেন বিল বন্ধ হওয়ার বিষয়টি। আর চাষিদের সাথে এ পর্যন্ত চুক্তিপত্র সম্পাদন না হওয়ার বিষয়ে জানান, কার্যত মিল চালু থাকবে কিনা এ নিয়ে সবাই দ্বিধায় থাকায় শ্রমিক বা আখ চাষিরা স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হতে বিলম্ব করছেন। সরকারি সুস্পষ্ট ঘোষণার পরই সব কিছু নিশ্চিত হবে।

মানবকণ্ঠ/এনএস






ads