আশুলিয়া থানা যুবলীগের শীর্ষ পদ পেতে মরিয়া একাধিক প্রার্থী


poisha bazar

  • ২৬ নভেম্বর ২০২০, ২০:২৫,  আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২০, ২০:৩০

শেফালী মিতু, আশুলিয়া: ঢাকা জেলার আশুলিয়া যুবলীগের সভাপতি পদ পেতে বেশ কয়েকজন মাঠে নামলেও তাদের মধ্যে দু’জনকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি চলছে আলোচনা। তারা হলেন- আশুলিয়া থানা যুবলীগের বর্তমান আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার ও ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু দেওয়ান।

এদেরকে ঘিরেই মূলত এখানে যুবলীগের নেতৃত্বের আলোচনা চলছে নেতাকর্মীদের ভিতরে। স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীদের দাবি, প্রয়োজনে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হোক। সে ক্ষেত্রে যে নির্বাচিত হবে তাকেই নেতা মেনে নেয়া হবে। কিন্তু কেন্দ্র থেকে যেন মনগড়া কোন কমিটি চাপিয়ে দেয়া না হয়।

ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নুরুল আমিন সরকার বলেন, এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন কবির হোসেন সরকার। এখন পর্যন্ত এই পদের জন্য অনেকেই লবিং তদবিরে নামলেও মাঠের রাজনীতি আর তৃণমূলের সমর্থনে অন্য যে কারো চাইতে শক্তিশালি অবস্থানে আছেন কবির।

ইউনিয়ন যুবলীগের নেতারা বলছেন, প্রয়োজনে এখানে কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হোক। সেক্ষেত্রে কবির হোসেন সরকার জয়ী না হলে আমরা অভিযোগ করবো না। কিন্তু মনগড়া কমিটি যেন এখানে না হয়।

ধামসোনা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শামীম মন্ডল জানান, এখানে ২০১৭ সালে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটির আহ্বায়ক হন কবির হোসেন সরকার। এখানে কবির হোসেন সরকারের পক্ষেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি অবস্থান নিয়ে আছেন। রাজনীতির কঠিন সময়ে কবির হোসেন সরকারের নেতৃত্বে আমরা এখানে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি এবং ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতায় আসার পরেও কবির হোসেন এখন পর্যন্ত কোন রকম অসততা বা কোন রকম অন্যায় কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হননি। মৌসুমী পাখির মত যারা এখন সভাপতির পদ পেতে লবিং তদবির করছেন এবং দু’হাতে টাকা ঢালছেন তারা মূলত দলের এই পদবি ব্যবহার করে নিজেদের ভাগ্য গড়তে চাইছেন। কিন্তু কবির হোসেন সরকার সেই ধরনের রাজনীতিবিদ নন। তিনি সব সময় আমাদের সাথে ছিলেন এখনও আছেন।

আশুলিয়া আওয়ামী লীগের প্রবীন এক নেতা জানান, তার দাদা সবেদ আলী সরকার বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করতেন। তিনি ছিলেন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। কবির হোসেন তৎকালীন ঢাকা-১৯এর সংসদ সদস্য তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদের হাত ধরে আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে আসলেও সে সময় ব্যবসায়ীক লাভের হিসাব নিকাশের ফেরে ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বের জেরে অপ্রিয় হয়ে ওঠেন মুরাদ জং এর কাছে। এর পর একের পর এক মামলা হামলার শিকার হতে থাকেন কবির। তবুও আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে যুবলীগকে সু-সংগঠিত করেছেন তিনি।

কবির সরকার বলেন, দলের পদ পদবী ব্যবহার করে নিজের ভাগ্য গড়তে আসিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও তার কন্যা শেখ হাসিনার দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছি। তাই দলের জন্য কেন্দ্রের নির্দেশনাই আমার কাছে বড়।

অন্যদিকে ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু দেওয়ানের পক্ষে রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী। তারা বলছেনর, রাজু দেওয়ানের পুরো পরিবার আওয়ামী পরিবার। তারা দাদা, বাবা, চাচা, সকলেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। রাজু দেওয়ানের বড় ভাই দেওয়ান মেহেদি মাসুদ মঞ্জু সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার ভাই, বোন ভগ্নিপতি ও আওয়ামী রাজনীতি করেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাদের পরিবারের আত্মদানও কম নয়। দলের পদ পদবি ব্যবহার করে রাজু দেওয়ানও কখনো কোন অন্যায় অপকর্মের সাথে জড়িত হননি।

রাজু দেওয়ান জানান, ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতি করছেন তিনি। সাভার কলেজ ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন এবং একই সাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ও সদস্য ছিলেন রাজু দেওয়ান। রাজনীতি করতে গিয়ে মামলা হামলা এমনকি কারাবরনও করেছেন তিনি।

ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, কেন্দ্রের নিদের্শনা অনুযায়ী থানা পর্যায়ে সভা করে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি গঠনের জন্য বলা হয়েছে । তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজ শেষ হলেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের মাধ্যমেই যোগ্যতা প্রমান করে যুবলীগে পদ পেতে হবে। কেননা আশুলিয়া শিল্পনগরী হওয়াতে এর গুরুত্ব অনেক বেশি । সেজন্য কোনরকম র্দূবৃত্তায়ন, অুনুবেশকারী সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে এমন কেউ যুবলীগে আসতে পারবে না।






ads