অন্তঃসত্ত্বা নন, তবু মিথ্যা রিপোর্ট দেখিয়ে ফাঁসালেন প্রতিবেশীকে


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৯ নভেম্বর ২০২০, ১৮:৫৯,  আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২০, ১৯:০৬

মাদারীপুর শহরে অন্তঃসত্ত্বা না হয়েও শিল্পী বেগম নামে এক নারীকে অন্তঃসত্ত্বা বানিয়ে মিথ্যা রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি সেতারা জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে। সেই রিপোর্ট দেখিয়ে প্রতিবেশি মাসুদ আকনের বিরুদ্ধে সন্তান নষ্টের মিথ্যা মামলা করেছেন শিল্পী বেগম।

এ ঘটনায় সেতারা জেনারেল হাসপাতাল টাকার বিনিময়ে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছে জানিয়ে সিভিল সার্জনের কাছে বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগী মাসুদ আকন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজরাপুর গ্রামের শিল্পী বেগম নামে এক নারীকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শহরের বাবু চৌধুরী জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রাম ও প্রেগনেন্সি টেস্টে গর্ভবতী নয় বলে উল্লেখ করে। এছাড়াও গত ১২ জুলাই শিল্পী বেগম গর্ভবতী না হওয়ার জন্য ইনজেকশন গ্রহণ করেন।

কিন্তু মাদারীপুর শহরের সেতারা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক এনামুল হক গত ৩০ সেপ্টেম্বর শিল্পী বেগমকে গর্ভবতী উল্লেখ করে আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট প্রদান করে। এই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই শিল্পী বেগম গর্ভবতী ছিলেন এবং তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করে মাসুদ আকন নামে একজনের বিরুদ্ধে মাদারীপুর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।

মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজরাপুর গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ আকন বলেন, শিল্পী বেগমের সাথে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়। এই ঝগড়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলায় দাবি করেছে সে গর্ভবতী ছিলেন। অথচ দুই দিনের ব্যবধানে দুই হাসপাতালে দুই রকম রিপোর্ট দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সেতারা হাসপাতালের চিকিৎসক এনামুল হক মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে মিথ্যা রিপোর্ট প্রদান করেছেন। আমরা গরিব মানুষ। এই মিথ্যা রিপোর্টের কারণে আমার পরিবারের সবাই মামলার ভোগান্তিতে পড়েছি। আমরা এই চিকিৎসকের বিচার চাই।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের সেতারা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরু চৌধুরী বলেন, দুই হাসপাতালের রিপোর্ট দুই রকম কেন, সেটা চিকিৎসক ভালো বলতে পারবেন। আমার জানা নেই।

তবে অভিযুক্ত এই চিকিৎসকরে সাথে যোগাযোগ করতে একাধিক দিন হাসপাতালে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর থেকে তিনি সেতারা হাসপাতালে আসেননি।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. সফিকুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






ads