শ্বাসরোধে স্ত্রীকে হত্যা, দুধের জন্য শিশুর হাহাকার


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৪৯,  আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৫৭

ঝালকাঠির রাজাপুরে হাইলাকাঠি গ্রামে শারীরিক নির্যাতনের পর ৭ মাস বয়সী এক কন্যা শিশুর মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তার স্বামী। বর্তমানে মায়ের বুকের দুধ না পেয়ে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়েছে। ক্ষুধা নিবৃত্ত করাতে তাকে গুড়া দুধ খাওয়ানো হচ্ছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার হাইলাকাঠি গ্রামের ছালাম হোসেনের ছেলে মিরাজ হোসেন (২০) পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী আইরিন আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তুলে হত্যা মামলা দায়েরের পর স্বামী মিরাজ হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ওই দম্পতির ৭ মাস বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে। আইরিন শ্বশুরবাড়ির লোকজন এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে দাবি করলেও আইরিনের বাবার পরিবার ও স্বজনরা বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে প্রায়ই শ্বশুরবাড়ির লোকজন আইরিনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। বৃহস্পতিবার বিকেলে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী মিরাজ হাওলাদার তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় নিহতের শাশুড়ি জাহানুর বেগম সাথে ছিলেন।

নিহতের শাশুড়ি জাহানুর বেগম বলেন, দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর ছেলে ও ছেলের বউ তাদের নিজেদের রুমে শুয়ে পড়ে ও ৭ মাস বয়সী নাতি মাহিমাকে নিয়ে আমার ছোট ছেলে বাহিরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে শিশু মাহিমা কান্না শুরু করলে তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য মায়ের কাছে নিয়ে গেলে আমার ছোট ছেলের ডাকে সাড়া না দিলে ছোট ছেলে আমাদের ডাক দেয়। আমরা এসে আইরিনকে অচেতন অবস্থায় পেয়ে মিরাজকে ডাকি। মিরাজ তখন ঘরের বাইরে ছিলো। পরে অচেতন অবস্থায় আইরিনকে নিয়ে সন্ধ্যার কিছু আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, রোগীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে।

নিহত আইরিনের বাবা ইউনুস ভূঁইয়া বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে আইরিন অসুস্থ হয়ে পড়েছে- এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় আইরিনকে সবাই মিলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরে চিকিৎসক আইরিনকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে অসুস্থ ছিলো কি না বা কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, আইরিনের সাথে তার স্বামীর সম্পর্ক ভালো ছিলো না। তাই ধারণা করছি, এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। আইরিনকে হত্যা করা হয়েছে। আইনের কাছে এর বিচার চাই।

রাজাপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের পিতা ইউনুস ভূঁইয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ওই নারীর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

মানবকণ্ঠ/এনএস





ads







Loading...