সিলেটে স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে ধর্ষণ করল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:০৫,  আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৯

সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর বালুচর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী তরুণী তার স্বামীকে নিয়ে সিলেটের এমসি কলেজে ঘুরতে আসেন। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তরুণীর স্বামী সিগারেট খাওয়ার জন্য এমসি কলেজের গেটের বাইরে বের হন। এসময় কয়েকজন যুবক তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যেতে চায়। এতে তরুণীর স্বামী প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর শুরু করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এক পর্যায়ে তরুণী ও তার স্বামীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এমসি কলেজ হোস্টেলের ৭ নম্বর ব্লকে নিয়ে যান এবং ওই নারীকে ৬/৭ জন নেতা-কর্মী গণধর্ষণ করে।

পুলিশ ধারণা করছে, তরুণীকে গণধর্ষণের সাথে এমসি কলেজ ছাত্রলীগের ৬/৭ জন নেতা জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে ছয় জনকে চিহ্নিত করে অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের সূত্র মতে অভিযুক্তরা হলেন— এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স অধ্যয়রত শাহ মাহবুবুর রহমান রণি, একই বিভাগে অধ্যয়নরত ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মাছুম, এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা এম সাইফুর রহমান, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা অর্জুন এবং বহিরাগত ছাত্রলীগ নেতা রবিউল ও তারেক।

এদের মধ্যে সাইফুর রহমানের বাড়ি বালাগঞ্জে, রবিউলের বাড়ি দিরাইয়ে, মাহফুজুর রহমান মাছুমের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলায়, অর্জুনের বাড়ি জকিগঞ্জে, রণি হবিগঞ্জের এবং তারেক জগন্নাথপুরের বাসিন্দা। এরা সবাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রঞ্জিত সরকারের অনুসারী।

এদিকে তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের ধরতে সাড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতভর পুলিশ অভিযান চালায়। এমসি কলেজ হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক সাইফুলের কক্ষ থেকে ব্যাপক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে ভোররাতে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অভিযানে একটি বিদেশি বন্দুক, চারটি রামদা, দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।





ads







Loading...