রঙ্গ রায়েরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্নীতির নানা অভিযোগ

সালথায় দেয়াল টপকে স্কুলভবন 'গিলে খেলো' কারা?
- ছবি: প্রতিবেদক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৩৬

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রঙ্গ রায়েরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র সেমিপাকা ভবনটি গত মাসে হঠাৎ ভেঙে ফেলা হয়েছে। যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানেন না বলে জানা গেছে।

শুধু স্কুলের ভবন ভাঙাই নয়, স্কুলটিতে ভুয়া সনদ নিয়ে চাকরি করছেন কয়েকজন শিক্ষক- এমন অভিযোগও রয়েছে। তাছাড়া ভুয়া আইডি ব্যবহার করে ব্যাংকের হিসাব খুলে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। দুর্নীতির এসব নানা বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

অভিযোগে জানা গেছে, সালথার রঙ্গ রায়েরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন ছিল যা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমুল হাসান লিটু কয়েকজন শিক্ষকের সাথে যোগসাজস করে বিক্রি করে দিয়েছেন। স্কুলে নতুন ভবন হবে এমন কথা বলে তা ভেঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ফলে বিদ্যালয়টিতে বাউন্ডারী থাকলেও ভেতরে কোনো ভবন নেই। যার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুল খুললে বিপাকে পড়বে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্কুলটিতে নতুন ভবন পাশ হলেও স্কুলের জায়গা নিয়ে জটিলতা থাকায় সেই ভবন নির্মাণ স্থগিত রাখে কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া স্কুল বাউন্ডারীর মধ্যে থাকা ১০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানার পর জেলা বন কর্মকর্তা গাছগুলো উদ্ধার করে তার হেফাজতে রাখেন।

হঠাৎ করে কোনো অনুমতি না নিয়ে ভবন বিক্রির বিষয়টি জানেন না সালথা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নিয়ামত হোসেন। তিনি বলেন, আমি সালথায় নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। অনুমতি ছাড়া স্কুল ভবন কেন ভাঙা হলো তার তদন্ত করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে স্কুল ভবন কেন ভাঙ্গা হলো তা তারা জানেন না। এমনকি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাও কিছুই জানেন না। সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে না জানিয়ে কীভাবে একটি স্কুল ভবন ভেঙে ফেলা হলো তার সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

স্কুলের কয়েকজন সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা স্কুলে চাকরি পেয়েছেন তাদের নাম ব্যবহার করে ক্লাস নিচ্ছিলেন অন্যরা- এমন অভিযোগও রয়েছে। এলাকাবাসী জানান, এ নিয়ে অভিযোগ করা হলে বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বেতন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে তদন্ত শেষের আগেই অদৃশ্য শক্তির বলে ফের বেতন চালু হয়েছে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, স্কুলটিতে বর্তমানে কোনো ভবন বা ঘর না থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ নাজমুল হাসান লিটু বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত বাবদ স্লিপ কার্যক্রমের ৭০ হাজার টাকা, রুটিন মেরামতের ৪০ হাজার টাকা, প্রাক প্রাথমিকের জন্য ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। যা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া শিক্ষক সৈয়দ মাহমুদুল হাসান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০০৮ সালে যোগদান করলেও আরেকটি সরকারী চাকরি করছেন। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে তিনি ২০১২ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছেন। যা সরকারী নীতিমালা পরিপন্থি।

স্কুলের ভবন ভাঙ্গাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ নাজমুল হাসান লিটুর সাথে কথা বলার জন্য ফোন করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে/সোহাগ 





ads