অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের নিউজ করায় সাংবাদিক গ্রেফতার

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের নিউজ করায় সাংবাদিক গ্রেফতার
- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৩৫

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় প্রভাবশালী বালু উত্তোলনকারীর দায়েরকৃত চাঁদাবাজির মামলায় মো. সেলিম নামে স্থানীয় এক সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোনাইমুড়ি থানা পুলিশের সহযোগিতায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের শিলমুদ গ্রামের বাড়ি থেকে সেলিমকে গ্রেফতার করে।

এর আগে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় সোনাইমুড়ি থানায় তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন গ্রাম চৌকিদার সোলাইমান।

সাংবাদিক মো. সেলিম সোনাইমুড়ি উপজেলার বজরা ইউনিয়নের শিলমুদ গ্রামের মো. সামছুল হকের ছেলে। তিনি দৈনিক আলোকিত সময় ও সংবাদ সংলাপ ডটকমের সোনাইমুড়ি উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়া সোনাইমুড়ি প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

সাংবাদিক সেলিমের বাবা মো. সামছুল হক জানান, চলতি মাসের শুরু থেকেই শিলমুদ গ্রামের উত্তর পাড়ায় কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন সোলাইমান চৌকিদারের ছেলে মো. আবদুল্লাহ। এতে জনসাধারণের ফসলি জমি, গাছ-পালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সেলিমসহ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন।

বিষয়টি জানার পর সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টিনা পাল গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অঙ্গাজাই মারমাকে পাঠিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন। কিন্তু বালু উত্তোলন বন্ধের দু’দিন পরই আবার ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন প্রভাবশালী আবদুল্লাহ। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টম্বর) বিকেলে সংবাদ সংলাপডটকমে আবদুল্লাহর অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক সেলিম। সংবাদ প্রকাশের পর রাতেই সেলিমের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সোনাইমুড়ি থানায় মামলা করেন চৌকিদার সোলাইমান। পুলিশ কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করেই মামলা রেকর্ড করে দেড় ঘণ্টার মধ্যে সেলিমকে রাত ২টার দিকে গ্রেফতার করে।

জেলা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জাকির হোসেন জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে চাঁদাবাজির মামলাটির (মামলা নম্বর-১৮) তদন্ত করছি। সরেজমিন গিয়ে সত্যতা যাচাই-বাছাই শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

এদিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় ‘ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা’ মামলায় সাংবাদিককে গ্রেফতার করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

মানবকণ্ঠ/আরএস

 





ads