৭০ বছর ধরে টিকে আছে মাখন দই চিড়ার দোকান

- ছবি: প্রতিবেদক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:৫৪

নাম ছাড়াই জনপ্রিয় মাখনের দোকান, নামে কাজ কি, কাজে পরিচয়। এনায়েতবাজার মোড়ের পূর্বপাশের সঞ্জুর দই চিড়া মাখনের দোকানটি সত্যি কোন সাইনবোর্ড ছাড়াই তিনপ্রজন্মের ঐতিহ্য বয়ে ৭০ বছর ধরে টিকে আছে মানুষের ভালবাসায়, দই চিড়া মাখন বিক্রি করেই।

এনায়েত বাজারের সাত দশক পুরনো দই চিড়া মাখন এবং মাঠার দোকান নাম বিহীন হয়েও অত্যন্ত জনপ্রিয়। পরিচিত সর্ব সাধারণের কাছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোক আসেন এই দোকানে।

বর্তমানে যিনি দোকান চালান তার নাম সঞ্জয় দাশ। তৃতীয় প্রজন্মের ধারক। পূর্বপুরুষের ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন বহু কষ্টের বিনিময়ে। হাত বদল করে নি কারো কাছে। বংশানুক্রমিক ধারাবাহিকভাবে তারাই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ দোকানের মাখন অত্যন্ত সুস্বাদু। যুগের পরিবর্তন হলেও মাখন তোলার ধরনের কোনো পরিবর্তন আসেনি। সনাতন পদ্ধতিতে তারা মাখন তুলে থাকেন হাত ঘুরিয়ে।

ক্ষেত্রমোহন দাশ প্রথমে ৬ কেজি দুধ দিয়ে দোকান শুরু করেছিলেন ৬ টাকা ভাড়ায়। বর্তমানে ভাড়া দিচ্ছেন‌ ৬ হাজার টাকা। ক্ষেত্রমোহনের গত হবার পরে দোকানের হাল ধরেন ‌তাঁর ছেলে মদনমোহন‌ দাশ‌। পিতৃপুরুষের ক্যাশবাক্সটিও এখনো সযত্নে আগলে রেখেছেন তারা। এই ক্যাশ তারা‌ সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মনে করে থাকেন। দেখে মনে হলো অবস্থার কোনো হেরফের নেই‌, পারিবারিক ঐতিহ্য বলে কথা। পূর্বপুরুষ পটিয়া নিবাসী।

সনাতন পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসার কোন অভিপ্রায় দেখা গেল না সঞ্জয়ের। দুগ্ধ মন্থনে মাখন উৎপাদন তাদের কাজ। এই কাজটি মেশিনে করতে চান না। প্রতিদিন মাখন ও দুধ মিলে ৫০ থেকে ৬০ লিটার বিক্রি হয়। বিয়ের মৌসুমে তাদের বিক্রি বাট্টা বেড়ে যায়। গরমে তাদের দোকান বেশি চলে। রীতিমত চিড়া মাঠা খেতে ভীড় লেগে যায়। মাখন বিকাল ৩টা থেকে শুরু হলে সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যেই শেষ যায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার দোকানের মাখন পছন্দ করতেন বলে জানালো সঞ্জয় দাশ। বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রাম এলেই তার দোকানে মাখন অর্ডার দিতেন। সাবেক প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন এই দোকানের মাখন ভক্ত। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে কিছু নেই। শুধু এতটুকু লক্ষ্য, তার পূর্ব পুরুষের নাম যেন অক্ষুণ্ণ থাকে এই নাম বিহীন দোকানের।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads