'বিনা অপরাধে' ১০ বছর সাজাপ্রাপ্ত সেই জেলের আকুতি

জেলের আকুতি
- ছবি: প্রতিবেদক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৫৫

জি এম ইব্রাহীম, হাতিয়া : শরীরের বিভিন্ন অংশে পানি জমে ফুলে গেছে, চোখের কোনে ক্ষতের চিহ্ন, হাটতে হয় লাটিতে ভর দিয়ে। এক সময় নদীতে মাছ শিকার করে ভালোই চালাতেন দুই সন্তানসহ ৪ সদস্যের পরিবার, এক ঘটনায় জলদস্যু অপবাদ নিয়ে দীর্ঘদিন সাজা ভোগ করে এখন অসুস্থ অবস্থায় অনাহারে, অর্ধাহারে জীবন কাটছে তার। এটি নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জেলে মো. নুর উদ্দিন মাঝির বর্তমান অবস্থার চিত্র। তিনি একই এলাকার সালা উদ্দিন মাঝির ছেলে।

সরেজমিনে নুর উদ্দিনের বাড়িতে গেলে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে নুরউদ্দিন সেদিনের বর্ননা দেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে নুরউদ্দিন জানান, নদীতে মাছ ধরা অবস্থায় জলদস্যুরা তাকেসহ তিন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। জলদস্যুরা পরিবারের কাছে মুক্তিপন হিসাবে ৩০ হাজার টাকা চায়। যেদিন টাকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার কথা, তার আগের রাতে কোষ্টগার্ড অভিযান চালায়। সে অভিযানে নুর উদ্দিনসহ দুই জলদস্যুকে আটক করে কোষ্টগার্ড। নুর উদ্দিন একাধিক বার নিজেকে নির্দোষ ও সাধারণ জেলে পরিচয় দেয়। কিন্তু তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি সেদিন।

জাহাজমারা ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিন জানান, ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর হাতিয়ার পশ্চিম পাশে বেড়ীরচর থেকে কোষ্টগার্ড দুইজন জলদস্যুসহ নুরউদ্দিনকে আটক করে। এই ঘটনায় কোষ্টগার্ড বাদী হয়ে অস্ত্র ও ডাকাতি আইনে নুর উদ্দিনসহ তিনজনকে আসামি করে হাতিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলাতে নুর উদ্দিন ৫ মাস সাজা ভোগ করে জামিনে মুক্ত হন।

ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিন আরও জানান, পরে নুর উদ্দিনের বিরুদ্বে করা মামলাটি নোয়াখালী বিশেষ ট্রাইবুনালে পরিচালিত হয়। আদালত ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর নুর উদ্দিনসহ দুই জলদস্যুকে ১০ বছর করে সাজা দেন। এসময় তাকে ফের জেলে যেতে হয়। ১৫ দিন পর তিনি হাই কোর্টে করা আপিলের পরিপেক্ষিতে আবারও জামিনে মুক্ত হন। পরে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি।

নুর উদ্দিনের পরিবারের অভিযোগ, কোষ্টগার্ড ও জলদস্যুদের একাধিক প্রহারে নুর উদ্দিনের হাত-পা ও শরীরের অনেকটা অবস হয়ে গেছে। তার দুটি কিডনিতে পানি জমে গেছে। অনেকটা চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর পথে তিনি। বর্তমানে তাকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দি হাসাপাতালে ভর্তী করা হয়েছে।

নুর উদ্দিনের অবশ্য অতি দুঃখে পাথর অবস্থা। তার উপর দিয়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য তিনি কাউকেই অভিযুক্ত না করে দোষ দেন কপালের। আগামী দিনগুলো ভালো ভাবে চলার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জাহাজমারা ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মাছুমবিল্লাহ জানান, নুর উদ্দিনকে কোষ্টগার্ড আটক করার পর এলাকার লোকজনসহ আমরা কোষ্টগার্ডের তমরদ্দি ক্যাম্পে গিয়েছিলাম। তিনি নির্দোষ- এটা বলার পরও তাকে ছাড়া হয়নি। বর্তমানে তিনি খুবই অসুস্থ। তার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই দুর্বল।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...