বিপন্ন পাহাড়ি কচ্ছপ বাড়ছে

বিপন্ন পাহাড়ি কচ্ছপ বাড়ছে
- ছবি : প্রতিবেদক

poisha bazar

  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : হলুদ শরীরের ভেতর থেকে হঠাৎ হলদেটে মাথা বের করে এদিক সেদিক দেখে, চোখ দুটো কালো রঙের। পিঠের ওপর খোলসের হলদে কালো কালো ছোপ। এক পশলা বৃষ্টির পর রোদ উঠেছে; বড়দের নড়াচড়া কম। খাবার নিয়ে ব্যস্ততার মধ্যেই ছোটরা রোদের খোঁজে চলেছে খাঁচার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। কচ্ছপের ছোট খাঁচাটা চিড়িয়াখানায় প্রবেশপথের ডানপাশে সীমানা দেয়ালঘেঁষা। সেখানে তেমন ভিড় নেই, কয়েকজন শিশু উঁকি দিয়ে দেখছে ব্যতিক্রমী কচ্ছপগুলোকে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার এই খাঁচাতেই বাড়ছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকাভুক্ত অতি বিপন্ন এই ‘হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ’ পরিবার। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে চট্টগ্রামের কোনো পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তিনটি হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ আনা হয়েছিল চিড়িয়াখানায়। তিনি বলেন, এর মধ্যে ২০১৩ সালের শেষ দিকে চারটি কচ্ছপের বাচ্চার জন্ম হয়। এখন মোট সাতটি হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ আছে। যার মধ্যে চারটি পুরুষ আর তিনটি মেয়ে। তিনটি বড় কচ্ছপের বয়স ২০ বছরের মতো। ছোটগুলোর বয়স সাত বছর প্রায়। তবে ২০১৩ সালের পর আর ডিম দেয়নি কচ্ছপগুলো। হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপের ইংরেজি নাম ঊষড়হমধঃবফ ঃড়ৎঃড়রংব আর বৈজ্ঞানিক নাম ওহফড়ঃবংঃঁফড় বষড়হমধঃধ। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ বনে এদের দেখা মেলে। পাহাড়ি ঘন বন, ঝোঁপঝাড় ও ছড়ার আশপাশে থাকে। কিন্তু অন্য কচ্ছপের মতো পানিতে নয় বরং ডাঙাতেই বেশিরভাগ সময় কাটে তাদের।

বাংলাদেশে ছাড়াও ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড উপদ্বীপ, মালয়েশিয়া, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ চীন অঞ্চলে এদের বাস। আইইউসিএনের ২০১৫ সালের তালিকায় লাল তালিকাভুক্ত বিপন্ন এই হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ। ২০২০ সালের তালিকা অনুসারে এরা অতি বিপন্ন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ আহসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আগে এদের দেখেছিলাম। এরা সংখ্যায় খুবই কম হওয়ায় ইদানীং সচরাচর চোখে পড়ে না। এরা মূলত ডাঙাবাসী কচ্ছপ।’

হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপের বৃদ্ধি ধীরে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে বংশবৃদ্ধির উদ্যোগ নিলে আমরা গবেষণা ও বংশ বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারব। স্বাভাবিক চলাফেরার সুযোগ পেলেও এদের বংশবৃদ্ধি ঘটবে।’ প্রাপ্ত বয়স্ক হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ তিন থেকে চার কেজি ওজনের হয়। সদ্য ফোটা বাচ্চারা চার সেন্টিমিটার লম্বা আর ওজন হয় ৩৫ গ্রামের মতো। এদের প্রজননকাল মে থেকে অক্টোবর। স্ত্রী কচ্ছপ প্রতিবারে দুই থেকে চারটি ডিম দেয়। ১৩০ থেকে ১৯০ দিন পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads