'চালার টিন য্যান ধান চালনীর ছিদ্রর মতো'

'চালার টিন য্যান ধান চালনীর ছিদ্রর মতো'
- ছবি : প্রতিবেদক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ৩১ আগস্ট ২০২০, ১২:১৯

সুজন সেন, শেরপুর : 'ঘরের মধ্যে থাকবার পাই না। বৃষ্টি আইলে টিনের চালা চুইয়্যা পানি পড়ে। পানি ঠেকাতে হাঁড়ি-পাতিল দিয়্যাও লাভ হয় না, ঘরের ভিতর হাঁটুপানি জমে। ঘরে ঢুইক্কা দেহেন, চালার টিন য্যান ধান চালনীর ছিদ্রর মতো।'

কথাগুলো বলছিলেন, শেরপুরের ঝিনাইগাতীর কান্দুলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা হরবলা বেগম। অতি সম্প্রতি এ প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে এসব কষ্টের কথা বর্ণনা করেন ওই নারী।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার ধানশাইল ইউপির সরকারি খাসজমির ওপর নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পটি দীর্ঘ ২০ বছর সময় যাবত সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে মানবেতর জীবন যাপন করছেন প্রকল্পের বাসিন্দারা।

এ অবস্থায় সরকারের কাছে ঘর মেরামত ও প্রকল্পের নিচু এলাকায় মাটি ভরাটের দাবি জানিয়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পে বাসকারিরা। অন্যদিকে সংস্কার কাজ দ্রুতই শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে সরকারি অর্থায়নে ধানশাইল ইউপির কান্দুলী গ্রামে ৮ দশমিক শূণ্য ৮ একর খাস জমির ওপর সেনাবাহিনীর তৎকালীন ৩৭ এসটি ব্যাটালিয়ন ইউনিট কুঞ্জবিলাস কান্দুলী আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মাণ করে। প্রকল্পে মসজিদ, কবরস্থান, পুকুর, সমবায় সমিতির কার্যালয়সহ টিনের তৈরি ছয়টি ব্যারাক রয়েছে। প্রতিটি ব্যারাকে দশটি করে ছোট কক্ষ রয়েছে। ওই সময় ৭ শতাংশ কৃষি ও ২ দশমিক ৫০ শতাংশ আবাসিক জমিসহ প্রতিটি ভূমিহীন পরিবারকে এসব ব্যারাকের একটি করে কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পে দশটি পরিবারের জন্য যৌথভাবে চারটি শৌচাগার ও দুটি গোসলখানা নির্মাণ করে দেয়া হয়। প্রতিটি ব্যারাকের জন্য একটি করে নলক‚প ও একটি কমিউনিটি সেন্টারও নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয় ইউনুস আলী, সবুর মিয়া ও লালন শেখ বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পটি গত ২০ বছর যাবত সংস্কার না হওয়ায় অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। সব কয়টি ব্যারাক জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঘরের ছাউনির টিনগুলো মরিচা পড়ে ছিদ্র হয়ে গেছে। সেগুলো বন্ধ করতে পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর ইট ও লাকড়ি চাপা দেয়া হয়েছে। দরজা-জানালার কপাট ভেঙে গেছে। এসব জানালা-দরজা চটের বস্তা দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

রহমত আলী নামে একজন বলেন, সরকার ভূমিহীনদের পুনর্বাসন করতে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় প্রকল্পের ঘরগুলোতে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। শীতের সময় খুব বেশী ঠান্ডা লাগে।

প্রকল্প সমবায় সমিতির সভাপতি হারুণ মিয়া বলেন, প্রতিটি ব্যারাকের চালের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। এছাড়া বর্ষা মওসুমে প্রকল্প এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তিনি সরকারের কাছে ঘর মেরামত ও মাটি ভরাটের দাবি জানিয়েছেন।
ধানশাইলের ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, সহায়-সম্বলহীন ভূমিহীন ৬০টি পরিবারের সদস্যদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু নির্মাণের দীর্ঘদিন পরও এগুলোর সংস্কার কাজ না হওয়ায় তা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ সম্পর্কে ইউএনও রুবেল মাহমুদ বলেন, প্রকল্পটি সংস্কার করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুনের শেষে সাড়ে চার লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। ওই বরাদ্দ থেকে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পে পানি ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি টাকা দিয়ে অন্যান্য কাজ করা হবে। এছাড়া মাটি ভরাটের জন্য আরো বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads