কিশোর গ্যাংয়ের ধাওয়ায় শীতলক্ষ্যায় ডুবে দুই ছাত্রের মৃত্যু

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১১ আগস্ট ২০২০, ১৪:২০

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ইস্পাহানী ঘাট এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয় দুই কিশোর। নিখোঁজের ৭ ঘণ্টা পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতরা হলো- কলেজ ছাত্র মিহাদ (১৮) ও স্কুল পড়ুয়া ছাত্র জিসান (১৫)। নিহত মিহাদ কদমরসুল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র। সে বন্দরের নাজিম উদ্দিন খানের ছেলে ও বন্দর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কমল খানের ভাতিজা। অপরজন হলো বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিনের ছেলে জিসান। সে বন্দরের বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বন্দরের ইস্পাহানী ঘাট সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীতে আত্মরক্ষার্থে ঝাঁপ দিলে তাৎক্ষণিক তারা তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই মোক্তার হোসেন (৬৭), আহমদ আলী (৬২), কাশেম (২৮), আলবি (১৭), আনোয়ার হোসেন (৪৫) ও শিপলু (২৩) এই ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

ছেলে হত্যার ঘটনায় বন্দর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন বাদি হয়ে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭ জনকে আসামী করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শামীম ও শাকিল নামের দুই কিশোর গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্ত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ধাওয়া খেয়ে জিসান ও নিহাদ ঘাটের একটি নৌকায় ওঠে। কিশোর গ্রুপের প্রতিপক্ষরা ওই নৌকাতে উঠে ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার্থে জিসান ও মিহাদ নদীতে ঝাঁপ দেয়। তাদের দেখাদেখি ভয়ে অন্যরা নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরে তারা সাঁতরে পাড়ে উঠলেও মিহাদ ও জিসান নিখোঁজ হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের লাশ পাওয়া যায় নদীতে।

নিহত মিহাদের চাচা বন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি কমল খান জানান, শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে ইস্পাহানী ঘাট এলাকায় বিকেলে স্থানীয় শামীম ও শাকিল নামের দুই কিশোর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় দুইপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত মিহাদ এবং জিসান ভয়ে আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দেয়। রাতে তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে সংঘর্ষ ও নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার খবর জানতে পারেন। পরে জেলে দিয়ে জাল ফেলে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে নিখোঁজ জিসান ও মিহাদের লাশ উদ্ধার হয়।

বন্দর থানার ওসি ফখরুদ্দিন ভূইয়া জানান, বিকেলে একদল কিশোর অন্য দলকে ধাওয়া করে। সে সময় মিহাদ ও জিসান নামের দুই কিশোর ঘাটের একটি নৌকাতে দৌঁড়ে ওঠে। পরে সেখানেও এই কিশোর দল উঠলে ভয়ে তারা নদীতে ঝাঁপ দিলে তারা নিখোঁজ হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এমনটা জানা গেছে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের লাশ পাওয়া যায়। রাতেই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads







Loading...