সিনহা হত্যা : টেকনাফে তদন্ত প্রতিনিধি দল

মানবকণ্ঠ
- ছবি: প্রতিবেদক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৬ আগস্ট ২০২০, ২১:৩৩

কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ চেকপোস্টে সাবেক মেজর সিনহা হত্যা মামলায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত প্রতিনিধি দল টেকনাফ থানা পরিদর্শন করেছে। দলটি থানায় তিন ঘন্টার বৈঠকে মামলার আলামত সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেনি দলটি।

থানায় বৈঠকের আগে বৃহস্পতিবার সকালে সিনহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করে প্রতিনিধি দলটি।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্তদলের প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত প্রতিনিধি টেকনাফ থানায় পৌছার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় সামনে ভিড় করেন।

পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর ওসি প্রদীপ টেকনাফে যোগদান করেন। এরপর থেকে গত দুইবছরে শুধু টেকনাফে ১৪৪ টি বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। আর এসব বন্দুকযুদ্ধে ২০৪ জন নিহত হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএমএস দোহা বলেন, থানায় তদন্ত প্রতিনিধি দল মামলার আলামত দেখেছেন এবং তিন ঘন্টার বৈঠক শেষে চলে যায়। তবে সেখানে কি আলোচনা হয়েছে, সেবিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি।

টেকনাফ বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মেরিনড্রাইভে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। তবে এসময় তারা সেখানে কারো সঙ্গে কথা বলেনি। এরপর টেকনাফ থানায় যায়।

এদিকে গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনার পর কক্সবাজার পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাশেদ তার পরিচয় দিয়ে 'তল্লাশিতে বাধা দেন'। পরে 'পিস্তল বের করলে' চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। তবে পুলিশের এমন ভাষ্য নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত সাবেক সেনা কর্মকর্তার এক সঙ্গীর বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের ভাষ্যের কিছুটা অমিল রয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। এমন প্রেক্ষাপটে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলিসহ ৩ জনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে র‌্যাব হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। র‍্যাবের করা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে এ রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

যাদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় তারা হলেন- টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস, শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক আইসি লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত। এ মামলায় আত্মসমর্পণ করা বাকি চার আসামি কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এএসআই লিটন মিয়াকে দুই দিন জেলগেইটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন বিচারক। মামলার নয়জন আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন দুই আসামি। তারা হলেন- এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোঃ. মোস্তফা। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৭ আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) বিকেলে তাদেরকে আদালতে তোলা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজারে নেয়া হয় ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে। অপরদিকে, বাহারছড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকতসহ ৮ জনকে কক্সবাজার জুডিশিয়াল আদালতে তোলা হয়। বুধবার (০৫ জুলাই) রাতে সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে প্রত্যাহার কর হয়।

এরআগে, টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে মামলা করেন তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। গতরাতে মামলাটি টেকনাফ থানায় পৌঁছার পর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে

 





ads







Loading...