বাউফলে সরকারি সার্ভেয়ারের অডিও ভাইরাল, এলাকায় আতংক

মানবকণ্ঠ
সার্ভেয়ার মোঃ জাহাঙ্গির সরদার

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৫ জুলাই ২০২০, ২১:১৩,  আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০, ১২:২৮

পটুয়াখালীর বাউফলে এক সরকারি সার্ভেয়ারের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের রামলক্ষণ গ্রামের মৃত সেরাজুল ইসলামের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গির সরদার তার প্রতিপক্ষকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে অর্থের লেনদেনের কথা ওই অডিও কথোপকথনে রয়েছে বলে জানা গেছে। জাহাঙ্গির সরদার বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলার নামদাইল উপজেলা ভূমি অফিসের সারভেয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন।

অডিও সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের রামলক্ষণ গ্রামের মৃত সেরাজুল ইসলাম সরদারের ছেলে সার্ভেয়ার মোঃ জাহাঙ্গির সরদারের সাথে জমিজমা নিয়ে একই বাড়ির মৃত মুনসুর আলী সরদারের ছেলে মোঃ ইসমাইল সরদারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে সার্ভেয়ার জাহাঙ্গির সরদার একই গ্রামের মোঃ সফিক খানের ছেলে সম্রাট খান (২২) ও নুরুল হক হাওলাদারের ছেলে মোঃ সুভো হাওলাদারের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ মোঃ ইসমাইল হোসেন সরদারকে হাত পাঁ ভেঙ্গে পঙ্গু বা হত্যা করার কথা বলে অর্থের চুক্তি করার চেষ্টা করে। এ কাজটি করে দিতে পারলে সম্রাট ও শুভকে তাদের গায়ের ওজন মেপে টাকা দেয়ার প্রস্তাব রাখে। তাছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মস্তফা ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোঃ শাজাহান সিরাজকেও হাত পা ভেঙ্গে দেয়ার প্রস্তাব রাখে।

অডিওতে শোনা যায়, এ সময় সম্রাট ও শুভকে বলে তোমরা চিন্তা করো না। আমি একটি দোতলা লঞ্চ ও একটি ইটভাটার মালিক। অর্থ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তোমরা যদি না পারো তাইলে কাজটি আমার নিজেরই করতে হবে। আমি সরকারী চাকরি করি। অফিসে হাজিরা দিয়ে হেলিকপ্টার ভাড়া করে কাজ করে মুহূর্তের মধ্যে চলে আসব। আমাকে আটকাতে পারবে না। কারণ, অফিসে আমার হাজিরা আছে। এমন কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক তোলপারের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে মোঃ ইসমাইল সরদার ও তার পরিবারবর্গ।

এ ব্যাপারে মোঃ ইসমাইল সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনার পরে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। জাহাঙ্গির সরদার সার্ভেয়ারের প্রভাব বিস্তার করে টাকার জোরে এলাকায় অনেক ওয়ারিশ সম্পতি কিনে অনেক মানুষের সাথে বিরোধ তৈরি করেছেন। আমার সাথেও জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকদিন আগে আমি আইনি সহায়তা চেয়ে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়রি করেছি। এলাকায় টাকার জোর দেখায় সে।

ভাইরাল হওয়া কথোপকথনের অডিও বিষয়ে সার্ভয়ার জাহাঙ্গির সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই কথোপকথোনের অডিও আমার নয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন আমার স্ত্রীর নিকটতম আত্মীয়। তাছাড়া আমার অনেক উপরে হাত আছে। লেখে যা করতে পারেন করেন।

এ ব্যাপারে বাউফল থানার ইনস্পেক্টর (তদন্ত) মোঃ আল মামুন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...