কিশোরীর কোলে নবজাতক : ঘরে তুলতে স্বামীর অস্বীকৃতি

মানবকণ্ঠ
নানীর কোলে রানীমা - ছবি : প্রতিবেদক

poisha bazar

  • সংবাদদাতা, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৫ জুলাই ২০২০, ২০:৫৭

১৪ বছর বয়সে মা হয়েছেন সুরাইয়া নামে এক শিশু। গত রবিবার (১২ জুলাই) কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় সে। সদ্য জন্ম নেয়া পিতৃহীন নবজাতক সন্তানের নামও রেখেছেন রানীমা। রানীমার বয়স এখন মাত্র দশ দিন। জন্ম নেওয়াটাই যেন আজন্ম পাপ তার। সুরাইয়ার কোল জুড়ে ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম নিলেও তার বাবা হয়নি কেউ। সুরাইয়া কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। কে এই নবজাতক সন্তানের বাবা?

এ অবস্থায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। ধর্ষকের সাথে বিয়ের মাধ্যমে নবজাতক কন্যা ফিরে পায় তার পিতার পরিচয়- এ দাবি এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, গত ৬ মাস আগে দুই পরিবারের মধ্যস্থায় সুরাইয়ার বিয়ে হয় মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইনিয়নের দাতিয়াদাহ গ্রামে পাঁচু শেখের ছেলে শুকুরের (৩৫) সাথে। সুরাইয়ার বাবা গরিব ভ্যানচালক নজির শেখ বাড়ি একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী ডুমুরশীয়া গ্রামের।

সুখেই সংসার চলছিলো সুরাইয়ার। হঠাৎ বিয়ের ৬ মাস পার না হতেই গর্ভে দশমাস বয়সের কন্যা সন্তান। জন্ম হয় ফুটফুটে কন্যা সন্তানের রানীমার। এখানেই ঘটে বিপত্তি। নবজাতক জন্মের ঘটনায় ছাড়তে হয়েছে স্বামীর সংসার। মেনে নিতে রাজি নয় শ্বশুর-শাশুড়ি। নির্যাতিত শিশুটিকে ঘরে তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানায় স্বামীও।
অভিযোগ, ছেলের বউ বাড়ি না রাখতে টাকা ঘুস দিতে বিভিন্ন স্থানে ছুটে চলেছেন ছেলের পিতা পাঁচু শেখ।

পরে বাধ্য হয়ে সুরাইয়া বাবার বাড়ি ডুমুরশীয়া গ্রামে চলে আসে। সেখানেও ঠাঁই মেলেনি তার। সামাজের চোখে সে পাপী। এমন অভিযোগে সমাজ তাকে গ্রহণ করতেও নারাজ। চাচা নজরুল শেখ ও স্থানীয়দের কতিপয় লোকের হুমকিতে বাড়ি ছাড়া হয় পরিবারটি। পরে পার্শ্ববতী বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া গ্রামে নানা মানিক শেখের বাড়িতে গিয়ে উঠে।

সন্তানের বাবা কে সেটা মা সুরাইয়া বলতে পারবেন। কিন্তু সুরাইয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সঠিক কারো নাম বলেনি।

ফুটফুটে কন্যা সন্তান রানীমার পিতৃ পরিচয় কী? কে সুরাইয়ার সর্বনাশ করেছে? কে সমাজের চোখে শিশু সুরাইয়াকে পাপী বানিয়েছে? এ দোষ কি শুধু সুরাইয়ার? এমন হাজারো প্রশ্ন সচেতন মহলের।

পিতৃ পরিচয়ের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে শিশুটির পরিবার। আর সন্তানকে কোলে নিয়ে অঝোরে কাঁদছে শিশু মা সুরাইয়া। সন্তানের পিতৃ পরিচয় পাওয়ার জন্য স্থানীয় সালিশদারদের দ্বারস্থ্য হয়েছে শিশুটি ও তার পরিবার। এ ঘটনার পর স্থানীয় সালিশদারদের কাছে বার বার গিয়েও ন্যায়বিচার পায়নি শিশুটি।

সরেজমিনে চৌবাড়িয়া গ্রামে ওই শিশুর নানা বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সন্তান কোলে বসে আছে শিশু সুরাইয়া। মাঝে মাঝে শিশুসুলভ আচরণ করছে। কিছুক্ষণ পর পর অঝোরে কেঁদে ওঠে। এরপর সন্তানকে বিছানায় রেখে বাইরে চলে যায় শিশুটি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনা জানাজানির পর প্রথম দিন শালিশে নজরুল শেখের ছেলে হালিম শেখের কথা বলে সুরাইয়া। সে অসুস্থ হওয়ায় এখন কারো নাম বলতে পারছে না। বরপক্ষকে না জানিয়ে অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকেই বিয়ে দেন মা সালমা আক্তার (৩৫)। পরে বিয়ের ৬ মাসের মাথায় এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এ ঘটনায় নবজাতককে স্বামীর সন্তান বলে দাবি করেন সুরাইয়া।

এ বিষয়ে ১ নং বাবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, মেয়েকে কম বয়সে গোপনে বিয়ে দেয়। নির্যাতিত মেয়েটি সর্বনাশ কে করেছে তার নাম বলছে না। অনুমান ভিত্তিক কারো উপর দোষ চাপাতে পারি না। তার স্বামীও তাকে নিয়ে ঘর করতে রাজি নয়। পরে নির্যাতিত শিশুটির পরিবারটিকে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য বলেছি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...