রেলে কর্মব্যবস্থাপক নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ৩০ জুন ২০২০, ১৫:৪৭

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী কারখানায় কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) পদে জৈষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাহাড়তলী কারখানা বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও এ ধরণের নিয়োগে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

জানা যায়, চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কারখানায় যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগনের মেরামত ও পুনর্বাসন কাজ করা হয়। এ কারখানার উপরই রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী সকল ট্রেনের প্রয়োজনীয় কোচ ও ওয়াগন সরবরাহ নির্ভর করে। ফলে এখানে কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাকে যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগনের মেরামত ও পুনর্বাসন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ যোগান, ক্রয়, বাজেট ব্যবস্থাপনা, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি ও চাকুরি সংক্রান্ত বিষয় ব্যবস্থাপনা, জরুরি বা দুর্যোগকালীন অতিরিক্ত কোচ ও ওয়াগন মেরামতসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সাথে সম্পাদন করতে হয়।

স্বাভাবিকভাবেই কাজের গুরুত্ব বিবেচনায় পাহাড়তলী কারখানার কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) পদে একজন সিনিয়র ও দক্ষ কর্মকর্তাকে পদায়নের রেওয়াজ অতীত থেকেই চলে আসছে। যারা পূর্বে অন্য এক বা একাধিক নির্বাহী পদে কাজ করেছেন এবং উক্ত পদে কাজ করার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) পদে রাশেদ লতিফ নামের এমন একজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে, যিনি ৩৪তম বিসিএস-এর একজন নবীন কর্মকর্তা। যার ইতিপূর্বে কোন নির্বাহী পদে কাজ করার কোন অভিজ্ঞতা নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত ৫/৬ বছরে পাহাড়তলী কারখানার কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) পদে যেসব কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে তারা ১৮তম, ২০তম, ২২তম, ২৪তম ও ২৭তম বিসিএস-এর কর্মকর্তা ছিলেন, যারা পূর্বে একাধিক নির্বাহী পদে কাজ করে কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) পদে কাজ করার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সর্বশেষ ২৭তম বিসিএস-এর ২জন কর্মকর্তা কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) পদে কাজ করলেও হঠাৎ করে কারখানার ইতিহাসে এবারই প্রথম ৩৪তম বিসিএস-এর কোন নবীন ও অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) পদে পদায়ন করা হয়েছে। অথচ পূর্বের ধারাবাহিকতায় এ পদে ২৮-২৯তম বিসিএস’র কোন সৎ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে পদায়ন করা যেত।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, পাহাড়তলী কারখানায় কর্মরত প্রাক্তন বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক এফ এম মহিউদ্দিনের যোগসাজশে প্রাক্তন কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) মো. সাইফুল ইসলাম কর্মকালীন সময়ে তাদের পছন্দের ঠিকাদার নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেন। তারা যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন মেরামত ও পুনর্বাসন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল-যন্ত্রাংশ ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ এফ এম মহিউদ্দিনকেই বর্তমানে প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (পূর্ব), চট্টগ্রাম পদে পদায়ন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে মহিউদ্দিন তার আগের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতেই রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. শামসুজ্জামানের সহযোগিতায় ৩৪তম বিসিএস এর নবীন ও অনভিজ্ঞ কর্মকর্তা রাশেদ লতিফকে পাহাড়তলী কারখানার কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রেলওয়ে কারখানায় একটি বড় সিন্ডিকেট আছে। এরা প্রতি বছর রেলওয়ের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্রয় এবং মেরামতে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে। এই সিন্ডিকেট সক্রিয় রাখতেই কর্মব্যবস্থাপক পদে ২৭ তম বিসিএস কর্মকর্তার পরে সরাসরি ৩৪তম বিসিএসের এক কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। অথচ ২৮-৩০তম বিসিএসের অনেক কর্মকর্তা রয়েছে যারা এ পদের জন্য উপযুক্ত ছিল এবং অভিজ্ঞতাও বেশি ছিল তাদের।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক (এজিএম) জোবেদা আক্তার বলেন, নিয়োগ যেহেতু ডিজি অফিস থেকে দেয়া হয় এ ব্যাপারে উনারাই ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads






Loading...