করোনাকালে ওষুধের দামে ত্রাসের রাজত্ব

করোনাকালে ওষুধের দামে ত্রাসের রাজত্ব
- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • ব্যুরো অফিস, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৬ জুন ২০২০, ১৯:২৪

মহামারি করোনার প্রভাবে নাজেহাল চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাত। প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে রোগির সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের করোনা ভীতিকে পুঁজি করে নগরজুড়ে ওষুধের দাম বাড়ানোর বিভিন্ন ফন্দি এঁটে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারক ও বিপণনকারী কোম্পানিসহ পাইকার এবং খুচরা ওষুধ ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন পাইকার এবং খুচরা ওষুধের দোকান ঘুরে দেখা যায়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়ানো হয়েছে বেক্সিমকোর নাপা, স্কয়ারের ফেক্সো, জিমেক্স, সিভিট ট্যাবলেট, বিভিন্ন কোম্পানীর অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন ,করোনায় মোকাবেলায় ব্যবহিত ইভেরা ও ডক্সিসাইক্লিন জাতীয় ওষুধসহ জীবাণুনাশক সামগ্রী ও এবং অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মহামারিতে দেশের সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সচল ছিল মেডিক্যাল সংস্লিষ্ট সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। এই সুযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিজেদের ইচ্ছেমত কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দেশের সাধারণ জনগনের সাথে ন্যায় বিরুদ্ধ কার্য সম্পাদন করছেন। করোনা ভাইরাস জনিত রোগের এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো ওষুধ না থাকলেও অনেক চিকিৎসক ফেসবুক লাইভে এসে জানিয়েছেন বিভিন্ন ওষুধের কথা। তাই সহজেই এই প্রেসক্রিপশন পেয়ে করোনার উপসর্গ থাকা অনেকে ওষুধ সংগ্রহ করছেন। যার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব ওষুধের দাম, ক্ষেত্র বিশেষে ২০ গুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে ওষুধ ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা ও মানবধিকার কর্মী শিক্ষক প্রীতি রঞ্জন বড়ুয়া মানবকন্ঠকে বলেন, বিশ্বের সব দেশ এক হয়ে অদৃশ্য শত্রু করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত। কিন্তু এই যুদ্ধে ৭১'র এর মত রাজাকারদের ভূমিকা পালন করছে কিছু অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ী। করোনা যুদ্ধের হাতিয়ার বিভিন্ন ওষুধ ও সরঞ্জাম এবং অন্য রোগেও ওষুধ চড়া দামে বিক্রয় করে সাধারণ মানুষকে নাজেহাল করছে। সরকারের উচিত এইসব স্বার্থবাজদের আইনের আওতায় আনা।

হাজারীলেইন এর ওষুধ ব্যবসায়ী আবু বক্কর মানবকন্ঠকে বলেন, পরিবহন সংকট এবং উৎপাদন না থাকায় দাম কিছুটা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। যা অনেকটা বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর নির্ধারিত দাম। ৫০ টাকার ইভেরা ৮৫০ টাকা দামে বিক্রয় এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

রমিজ উদ্দিন নামের আরেক ব্যবসায়ী মানবকন্ঠকে বলেন,প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিম্যালেরিয়াল, ভিটামিন সি ট্যাবলেট ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন জাতীয় ওষুধের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ওইসব ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।তাই বাড়তি দামে বিক্রয় করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রামে দায়িত্বরত বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালের এক কর্মকতা মানবকন্ঠকে বলেন, কাচামাল এবং অন্যান্য উৎপাদন সংকটেরর কারনে উৎপাদন একটু কম হলেও দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। পাইকারী ও খুচরা ওষুধ ব্যবসায়ীরা কেন অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে তার কোন যুক্তি সঙ্গত কারণ দেখছেন না বলে জানান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে ডায়বেটিসে নিয়ন্ত্রণের জন্য স্কেফের ইনসুলোটেট ইনসুলিন ব্যবহার করছেন রফিক আহমেদ, তিনি প্রতিনিয়ত ৪৫০ টাকা ইনসুলিন ক্রয় করলেও বর্তমানে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, ক্ষোভ নিয়ে তিনি মানবকন্ঠকে বলেন, বাজার সব ওষুধের দাম বাড়তি নিচ্ছে। এই ব্যাপারে সরকারের বরফ গলা পদক্ষেপকে দায়ী করছেন তিনি।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ গঠিত কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক ডা. আ ন ম মিনহাজুর রহমান বলেন,অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার শরীরের সর্বনাশ ডেকে আনছে। করোনার চিকিৎসা একমাত্র চিকিৎসকদের গাইডলাইন মেনেই চালাতে হয়। শুনে শুনে অনেকে করোনার প্রতিষেধক খাচ্ছে। এর সুযোগ নিয়ে অনেকে বেশি দামে ওষুধ বিক্রয় করছে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads






Loading...