পা রাখারও জায়গা নেই ফেরিতে

পা রাখারও জায়গা নেই ফেরিতে
পা রাখারও জায়গা নেই ফেরিতে - ছবি: প্রতিনিধি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ৩০ মে ২০২০, ১১:০০

ঈদের ছুটি শেষে নদীপথ হয়ে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে। ফেরিতে গাদাগাদি করে যাত্রীরা নদী পারাপার হন। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাদের। ছোট ছোট যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়ায় অনেকে রওনা হন, অনেকে আবার টাকার অভাবে হেঁটেই রওনা হন। সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এভাবে চলাচল করায় করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে শিমুলিয়া ফেরিঘাটে ভিড় লেগে আছে ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরা মানুষের। ভোরের আলো ফুটতেই ঘাটে আসতে শুরু করেছেন লোকজন। লঞ্চ, স্পিডবোট, ট্রলার বন্ধ থাকায় ফেরিই এখন একমাত্র অবলম্বন। তাই গাদাগাদি করে হাজার হাজার মানুষ ফেরিতে করেই পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি, চরম দুর্ভোগ আর অতিরিক্ত ভাড়া ব্যয় করেই কর্মস্থলে যাত্রা করেছেন তারা। আগামীকাল রোববার (৩১ মে) খুলে যাবে অফিস। তাই শেষ সময়ে কর্মস্থলে ফিরছেন মানুষ। সকাল থেকে ১৫টি ফেরি দিয়ে সার্ভিস সচল রাখা হয়েছে। ফেরিগুলো হরদম পার করছে গাড়ি।

এদিকে এখনো সচল হয়নি গণপরিবহন। যাত্রীদের অবর্ণনীয় কষ্ট করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। তারা পদ্মা পাড়ি দিয়ে শিমুলিয়ায় এসে যানবাহন না পেয়ে পড়ছেন বিপাকে। ব্যাগ, ছোট ছেলেমেয়ে কোলে করে হেঁটে রওয়ানা দিয়েছেন কেউ কেউ। এছাড়া গাদাগাদি করে ৪-৫ গুণ বেশি ভাড়ায় সিএনজি, অটো, মোটরসাইকেল, পিকাপ, ট্রাক, ছোটগাড়ি কিংবা মাইক্রোবাস ভাড়া করে গন্তব্যে রওয়ানা দিয়েছেন যাত্রীরা।

এর বাইরে বড় ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকেও যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এরপরও আবার বিপত্তি ঘটায় ট্রাফিক পুলিশ। ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া ভাড়ার গাড়ি চলাচলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা ভাড়ার গাড়িগুলো আটকে দেয়। এতে যাত্রীরা ভয়াবহ যানবাহন সংকটে পড়ে।

বিআইডব্লিউটিএ’র শিমুলিয়া ঘাট ম্যানেজার সাফায়েত হোসেন বলেন, ১৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পার করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি। যাত্রীরা সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি কোনোটাই মানছেন না। যেন কার আগে কে ফেরিতে উঠবে এই প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত।

মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সিরাজুল কবির বলেন, স্পিডবোট কিংবা ট্রলার পদ্মায় চলছে না। আমরা সতর্ক পাহারায় আছি। সার্বক্ষণিক নদীতে অভিযান চলছে। শনিবার সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীর ঢল নামে। ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া ভাড়ার গাড়ি চলাচল নিষেধ থাকায় আমরা বেশ কিছু মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার জব্দ করেছি।

অপরদিকে শনিবার সকাল থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটেও ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে। ফেরিগুলোতে মানুষের ভিড়ে পা রাখার জায়গাও ছিল না। বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। তবে আবহাওয়া ভালো থাকায় স্বাভাবিকভাবে ফেরিগুলো চলাচল করছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ছয়টি রো রো ও পাঁচটি ছোট ফেরি দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। এ ছাড়া চারটি ফেরি ঘাটে রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহার করা হবে।

পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘাটে এসে অনেকে বিপাকে পড়েন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার হেঁটে উথলী, টেপড়া বাসস্ট্যান্ডে এসে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন ছোট যানবাহনে গন্তব্যে যান তারা। অনেকে অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে হেঁটেই ঢাকার দিকে রওনা হন।

সাতক্ষীরা থেকে নানা উপায়ে দৌলতদিয়া ঘাটে আসা আনিসুর রহমান জানান, ঘাট পর্যন্ত পৌঁছাতে পাঁচ-ছয় গুণ বেশি টাকা খরচ হয়েছে। সময়ও লেগেছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মাথায় রাখা অসম্ভব। গার্মেন্টকর্মী নাজমা আক্তার বলেন, ঘরে বসে থাকলে তো আর ভাত পেটে যাবে না। তাই করোনা নিয়ে ভাবার সময় এখন আর নেই।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আবদুল্লাহ রনি বলেন, যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়ায় সকাল পর্যন্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ১০টি ফেরি চলাচল করে। এই চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাড়ে ১১টার পর থেকে ১৩টি ফেরিই চালু করা হয়েছে।




Loading...
ads






Loading...