স্বজনদের অনীহা, জানাজা-দাফন সব করলো ছাত্রলীগ

স্বজনদের অনীহা, জানাজা-দাফন সব করলো ছাত্রলীগ
স্বজনদের অনীহা, জানাজা-দাফন সব করলো ছাত্রলীগ - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২২ এপ্রিল ২০২০, ১৮:৩৪

করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার উত্তমপুর গ্রামের মামুন হাওলাদারের (৩০) লাশ জানাজ ও দাফনে তার স্বজনরা এগিয়ে না আসায় দা‌য়িত্ব নিলেন স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। লাশের ‌গোসল থেকে শুরু করে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করার পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন ছাত্র সংগঠনটির চার নেতাকর্মী।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে দাফন শেষে তাদের ব্যবহৃত পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পুড়িয়ে দিয়ে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে চলে যান।

এ বিষয়ে দাড়িয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমএ জব্বার বাবুল বলেন, নারায়ণগঞ্জে থাকার সময় মামুনের করোনার উপসর্গ দেখা দিলে সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি হয়। ১৯ এপ্রিল সকালে নমুনা সংগ্রহের পর ভয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় মামুন। ওই রাতেই নারায়ণগঞ্জের বাসায় তার মৃত্যু হয়। এরপর তার স্বজন ও এলাকাবাসী অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ বাকেরগঞ্জে পাঠিয়ে দেয়। সোমবার রাতে বাকেরগঞ্জে মরদেহ পৌঁছানোর পর তার স্বজনরা জানাজা ও দাফনে অনীহা প্রকাশ করে। এরপর মামুনের জানাজা ও দাফনে এগিয়ে আসে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ। ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪ জন পিপিই পরে মামুনের গোসল থেকে শুরু করে জানাজা সম্পন্ন করে। জানাজায় ছাত্রলীগের ৪ সদস্যসহ মামুনের এক ভাই উপস্থিত ছিলেন। এরপর তারা মামুনের পারিবারিক গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করে। এখন তারা ১৪ দিন ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ হাওলাদার বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তের পরপরই আমরা উপজেলায় বলেছিলাম এ ধরনের রোগীর কেউ জানাজা ও দাফন না করলে আমরা করবো। এজন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম। মামুনের লাশ গ্রহণে তার স্বজনদের অনীহার খবর পেয়ে আমরা লাশ গ্রহণ করে জানাজা ও দাফনের সব ব্যবস্থা করে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে চলে আসি।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads