হাট-বাজার মাঠে স্থানান্তর, তবুও মানা হচ্ছে না 'সামাজিক দূরত্ব'

হাট-বাজার মাঠে স্থানান্তর, তবুও মানা হচ্ছে না 'সামাজিক দূরত্ব'
রাজাপুর উপজেলার পাইলট স্কুলমাঠে অস্থায়ী বাজারে জনসাধারণের হুমড়ি খাওয়া ভিড় - ছবি: প্রতিনিধি

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৯ এপ্রিল ২০২০, ১৩:০২

ঝালকাঠি সদর উপজেলা ও জেলা শহরের বাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্থান সংকুলান না হওয়ায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী হাট বসানো হয়েছে। একইভাবে নলছিটির চায়না মাঠ, রাজাপুরের পাইলট স্কুল মাঠ এবং কাঁঠালিয়ার উপজেলা পরিষদ মাঠেও হাট বসানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন উপজেলা ও পৌরসভা ভিত্তিক স্ব স্ব কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে এ সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এসব হাটে সামাজিক দূরত্ব মানছে না ব্যবসায়ী ও ক্রেতা কেউই।

অপরদিকে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক গ্রাম্য হাট-বাজারে সামাজিক দূরত্ব না মেনে দু-পাঁচজন করে এক জায়গায় বসে আড্ডা দিচ্ছেন। প্রশাসনের খবর পেলেই চলছে যেনো লুকোচুরি খেলা। তবে প্রশাসন সার্বিকভাবে মনিটরিং করে যাচ্ছে।

ঝালকাঠি জেলায় ইউপি সদস্যসহ ইতোমধ্যে চারজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে সদর উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়াও গত ২৫ মার্চ থেকে জেলা প্রশাসন ও যৌথবাহিনীর তৎপরতায় জেলাজুড়ে অঘোষিত লকডাউন চলছে। এ ভাইরাস সম্পর্কে বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে বলা হচ্ছে। প্রশাসন বিভিন্ন এলাকার বাজারে বাজারে তৎপর মানুষের মেলা মেশা ভিড় যাতে না হয় সে ব্যাপারে।

নবগ্রাম, শেখেরহাট, গুয়াটন, কেফাইতনগরসহ শহরের কিংবা শহরের বাহিরের এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনো মানুষ এক স্থানে বসে আড্ডা দিচ্ছে। আবার আত্মীয়-স্বজন বেড়াতে আসছে। বেশিরভাগ মানুষ নির্দেশিত দূরত্ব বজায় রেখে চলছে না।

ঝালকাঠিতে ট্রেডিং করপোরেশন বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য কিনতে ডিলারদের দোকানে ভিড় লেগেই আছে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে ডাল, চিনি, ছোলা ও তেল কিনছে সাধারণ মানুষ। তবে এসব পণ্য কিনতে তারা সামাজিক দূরত্ব মানছে না। লাইনে গাদাগাদি করে তারা পণ্য কিনছে। ডিলাররাও হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতাদের হাতে মালামাল তুলে দিতে।

জানা যায়, ঝালকাঠিতে টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য আটজন ডিলারকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ ওঠে। এ কারণে তাদের পণ্য দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে শহরে তিনজন ডিলার টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন। এদের মধ্যে একজন শহরের আড়ৎদারপট্টি, স্টেশন রোড ও চঁাদকাঠি এলাকায় ডাল, ছোলা, চিনি ও তেল বিক্রি করছেন। তিনজন ডিলারের দোকানেই উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। লম্বা লাইনে দঁাড়িয়ে ক্রেতারা এসব পণ্য কিনছে। তেলের লিটার ৮০ টাকা ছাড়া অন্যসব পণ্য ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে টিসিবিতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আড়ৎদারপট্টিতে সকাল থেকেই লম্বা লাইনে দঁাড়িয়ে আছে শত শত মানুষ। অনেকের মুখে সাধারণ মাস্ক পরা থাকলেও অনেকেই অনিরাপদে কিনছে পণ্য। গায়ের সঙ্গে গা মিলিয়ে পণ্যের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা। লাইনে দঁাড়ানো নিয়ে অনেকের সঙ্গে ঝগড়াও লেগে যাচ্ছে। সামনে যাওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়তে দেখা গেছে অসংখ্য মানুষকে। যারা টিসিবির পণ্য কিনতে এসেছে, তাদের বেশিরভাগই দরিদ্র শ্রেণির মানুষ।

অনেক সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা ভিড় সামলানোর চেষ্টা করেও পারছেন না। যতক্ষণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি থাকে ততক্ষণ লাইন ঠিক থাকে। তঁারা চলে গেলে আবার হ-য-ব-র-ল অবস্থা হয়ে যায়।

শহরের নতুন কলাবাগান এলাকার দিনমজুর সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘আমাগো সব কাম-কাইজ বন্ধ অইয়্যা গ্যাছে। খামু কি, ঘরে কোনো খাবার নাই। সামনে রোজা আইছে, ছোলা, চিনি ও তেল কিনতে আইছি। লাইনে দঁাড়াইছি, কখন কিনতে পারমু জানি না।’ গাদাগাদি করে দঁাড়িয়েছেন কেন জানতে চাইলে সোহাগ বলেন, ‘আমাগের কিছু অইবে না, আল্লায় রক্ষা করবে।’ আড়ৎদারপট্টি এলাকায় মাস্ক না পরে লাইনে দঁাড়ানো এক নারীর কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘মাস্ক লাগে না। লাইনে দঁাড়াইয়্যা থাকলে ঘামাইয়্যা যায়। মাস্ক পরলে শ্বাস বন্ধ হইয়্যা যাইবে।’

এ ব্যাপারে আড়ৎদারপট্টির টিসিবির ডিলার জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুল বলেন, ‘আমরা পণ্য বিক্রির সময় ক্রেতাদের লাইনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দঁাড়ানোর পরামর্শ দেই। এমনকি দূরত্ব বজায় না রাখলে, পণ্য দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেই। কিন্তু কে শোনে কার কথা। কিছুক্ষণ ঠিক থাকলেও আবার হুমড়ি খেয়ে পড়ে।’

গুয়াটন গ্রামের ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রশাসনের তদারকির পাশাপাশি আমাদের সচেতন হতে হবে। অকারণে ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না। এছাড়া সামজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এনডিসি আহমেদ হাসান বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। টিসিবির পণ্য বিক্রি এলাকায় যতক্ষণ আমাদের গাড়ি থাকে, ততক্ষণ সবাই শৃঙ্খলা বজায় রেখে মালামাল ক্রয় করে। গরিব মানুষ এখানে পণ্য কিনতে আসছে, কিন্তু তারা স্বাস্থ্য সুরক্ষা বুঝছে না।’

তিনি আরো জানান, সর্বত্র জনসাধারণকে সচেতন করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেককে জরিমানাও করতে হচ্ছে। এখনও অনেকের মধ্যে সচেতনতা আসেনি। তাই তারা ভুল করছে।\

মানবকণ্ঠ/আরবি



poisha bazar

ads
ads