করোনা আতঙ্কে বিভিন্ন হাসপাতাল, চেম্বারে নেই অনেক চিকিৎসক

করোনা আতঙ্কে বিভিন্ন হাসপাতাল, চেম্বারে নেই অনেক চিকিৎসক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১২ এপ্রিল ২০২০, ১৫:৫৪

হাসপাতালের শহর কুমিল্লায় করোনা আতঙ্কে ডাক্তার শূন্য হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে পড়েছে ছোট ও মাঝারি আকারের হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। এতে চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শত শত সাধারণ মানুষ ও মুমূর্ষু রোগীদেরকে। কুমিল্লার জেলা-উপজেলায় ছোট-বড় পাঁচশতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। রোগীরা একাধিক হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসকদের দেখা পাচ্ছেন না। এদিকে চিকিৎসকদের বন্ধ চেম্বারের নোটিশ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

গত ২৮ মার্চ কুমিল্লার বুড়িচং থেকে এক প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে কুমিল্লায় নিয়ে আসে চিকিৎসার জন্য। ওই প্রসূতি উপজেলার করিমাবাদ এলাকার মেজর আবদুর রউফের ছেলে স্ত্রী। প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার (টাওয়ার) হাসপাতালে নেয়া হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার প্রসূতির স্বজনদের জানান আলট্রাসনোগ্রাফি করানো ছাড়া তিনি কিছুই করতে পারবেন না। ডাক্তার না থাকায় আলট্রাসনোগ্রাফির নেই কোন ব্যবস্থা। পরে গুরুতর অবস্থায় কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফি এবং ডাক্তার কোনটাই পায়নি। নিয়ে যাওয়া হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, সেখানেও আল্ট্রাসনোগ্রাফির জন্য কোন চিকিৎসাসেবা দিতে পারেনি ডাক্তার। শেষ পর্যন্ত ওই প্রসূতি চিকিৎসক এবং আল্ট্রাসনোগ্রাফির অভাবে মৃত্যুবরণ করে।

প্রসূতির শ্বশুর মেজর আবদুর রউফের দাবি ওই দিন হাসপাতালে নেওয়ার পর ভালো ডাক্তার এবং চিকিৎসাসেবা পেলে তার ছেলের বউকে এইভাবে চোখের সামনে হারাতে হতো না।

সরেজমিনে গিয়ে নগরীর কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, টমছম ব্রিজে ইউনাইটেড হাসপাতাল এবং এশিয়া ক্লিনিক নামে এই ধরণের ছোট ও মাঝারি আকারের চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো চিকিৎসকের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার (টাওয়ার) বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডাক্তার এবং রোগী শূন্য। চার ভাগের তিনভাগ চিকিৎসকের দরজা তালাবদ্ধ। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আজিজুল হক, লিভাররোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুর রব সরকার, স্ত্রী ও প্রসূতি বিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন অধ্যাপক শামছুন নাহার, গাইনি বিশেষজ্ঞ কামরুন নাহার, শিশু-কিশোর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আবুল বাশার, অর্থো সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সফিকুর রহমান পাটোয়ারী এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলাল ঘোষণা দিয়ে দরজায় বিজ্ঞপ্তি সাঁটিয়েছেন অনির্দিষ্টকালের জন্য তিনি রোগী দেখবেন না। বাকী অধিকাংশ চিকিৎসকরা ঘোষণা না দিয়েই করোনা আতঙ্কে রোগী দেখছেন না। কুমিল্লার মুন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় একই দৃশ্য।

হাতেগোনা দুই-তিনজন চিকিৎসক ছাড়া অধিকাংশ ডাক্তারদের দরজা তালাবদ্ধ। রোগী না দেখাদের মধ্যে রয়েছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শেখ মারুফুজ্জামান, ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন সারোয়ার হোসেন খান (শুভ), নবজাতক, শিশু ও কিশোর বিশেষজ্ঞ মিয়া মনজুর আহমেদ, শিশু বিশেষজ্ঞ নাজনীন আক্তার এবং সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ছাড়াও অন্যান্য চিকিৎসকরা।

এই ছাড়াও একই অবস্থা কুমিল্লার ট্রমা সেন্টারেও। ট্রমা সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নীহার রঞ্জন মজুমদার ও মোহাম্মদ জহির উদ্দিনসহ বিভিন্ন রোগের অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দরজায় বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে।

এছাড়াও রোগী না দেখার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য, মেডিসিন ও নিউরো মেডিসির বিশেষজ্ঞ পঞ্চানন দাশ, কার্তিক চন্দ্র সূত্রধর। পঞ্চানন দাশ অবশ্য নোটিশে তার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। চেম্বার বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কে এ মান্নান, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ মাহবুবুল আলম এবং এ বি এম খুরশীদ আলম।

কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার (টাওয়ার) হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওমর ফারুক সুজন জানান, করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে চিকিৎসকরা স্বেচ্ছায় হাসপাতালে আসা কমিয়ে দিয়েছেন। রোগী না দেখার যে নোটিশ সাাঁটানো হয়েছে সেটার কারণ বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কর্মীদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার জন্য।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন নিয়াতুজ্জামান জানান, কুমিল্লার ডিসি, এসপি, বিএমএ, স্বাচিপ এবং চিকিৎসক নেতাদের মাধ্যমে ডাক্তারদের একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে করোনার এই দুর্যোগে অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আহ্বান করা হয়েছে চেম্বারে ফিরে আসার জন্য।

মানবকণ্ঠ/আরবি





ads







Loading...