ত্রাণ নিয়ে ভ্যানে এমপি, যুবলীগ নেতা আলীসান টয়োটায়

ত্রাণ নিয়ে ভ্যানে এমপি, যুবলীগ নেতা আলীসান টয়োটায়

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১১ এপ্রিল ২০২০, ১২:০১

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় 'লকডাউনে' থাকা দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সামাজিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে দেয়া ত্রাণ কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে সমন্বয়হীনতা। আর এ সমন্বয়হীনতা বাড়ছে দিন দিন।

এতে একদিকে যেমন 'স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে ত্রাণ দেয়ার' সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত হচ্ছে অপরদিকে শহর থেকে তৃণমূল জনপদের নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার বাদ পড়ে যাচ্ছে ত্রাণ সুবিধা থেকে। ত্রাণ বিতরণের নামে চলছে সেলফি, ফটোসেশন। একটি সাবান, টিস্যু দিতে একজন দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে ৮-১০ জন।

এছাড়া স্থানীয় সাংসদ ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ভ্যানে এবং যুবলীগ নেতা আলীসান টয়োটায় ত্রাণ কার্যক্রমের এমন দৃশ্যে স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালনাধীন ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার ছাপ ফুঁটে উঠেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, কলাপাড়ার নিম্ন আয়ের কর্মবিমূখ হয়ে পড়া মানুষের জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ পর্যন্ত ৭৯ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া শিশু ও গো-খাদ্যের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রাপ্ত বরাদ্দের মধ্যে ইতোপূর্বে ৪৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ দুই লাখ টাকা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বিতরণ করে দেয়া হয়েছে। দুস্থদের মাঝে এসব ত্রাণ সামগ্রীর অধিকাংশ বিতরণ করেছে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিগণ। কিছু উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় সাংসদ। বরাদ্দ পাওয়া বাকি ত্রাণ সামগ্রী ১২টি ইউনিয়নে বিতরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারি ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক’টি ছাত্র সংগঠন এসএসসি ১১, এসএসসি ১৩, অদম্য ৯৭, তারুণ্য সামাজিক সংগঠন স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে দুস্থদের মাঝে সীমিত পরিসরে ত্রাণ বিতরণ করেছে।

মহিপুর প্রেসক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিটি ও আবুল হোসেন ফাউন্ডেশন নামের সামাজিক সংগঠন প্রশাসনকে জানিয়ে মহিপুর ও কুয়াকাটা পর্যটন এলাকার ভবঘুরে, ভিক্ষুক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহ করছে। এনজিও ওয়ার্ল্ড কনসার্ন আদিবাসী দুস্থ রাখাইন পরিবারের মাঝে সীমিত পরিসরে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে। এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্দোগে স্থানীয় সাংসদ, কলাপাড়া মেয়র, বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও ধানখালী গ্রামের জাকির নামের এক তরমুজ চাষি কিছু দুস্থ পরিবারে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে।

এদিকে আড়াই লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ উপজেলায় অন্তত অর্ধলক্ষ পরিবার দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে। এদের কেউ প্রান্তিক কৃষক, জেলে, মৎস্য শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা শ্রমিক, অটো শ্রমিক, ঠেলা চালক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, ভ্যান শ্রমিক, বাস-ট্রাক শ্রমিক, চা-পান দোকানি, ভিক্ষুক। এরা দিন এনে দিন খাওয়া পরিবার। উপজেলা থেকে এদের প্রায় ২০ হাজারজনের তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেতে। এ ছাড়া নিম্নবিত্ত অনেক পরিবার রয়েছে। যারা না পারে টিসিবি, ওএমএস কিংবা ফেয়ার প্রাইসের চাল ক্রয়ের লাইনে দাঁড়াতে। না পারে কারও কাছে হাত পাততে। এসব পরিবারগুলো করোনা সংক্রমণ এড়ানোর লাগাতার লকডাউনে কর্মবিমূখ হয়ে পড়ায় চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে। এদের অস্ফুট আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সামাজিক ক’টি সংগঠনের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা যথাযথ হয়েছে। কেন না তারা প্রশাসনকে জানিয়ে বাদপড়া নির্দিষ্ট এলাকায় ত্রাণ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে।

এছাড়া কেউ কেউ ত্রানের নামে সেলফি। কেউ ফটো সেশন। কেউ আলীসান গাড়ি চড়ে ত্রাণ দিচ্ছে। কেউ আগামী নির্বাচনকে মাথায় রেখে ভোট পেতে ত্রাণ দিচ্ছে। কেউ গণমাধ্যমে নেতার নির্দেশে দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে মর্মে গণমাধ্যমের কাভারেজ পেতে ত্রাণ বিতরণ করছে। কেউ করছে দলের পদ বাগাতে। আবার কেউ মনোনয়ন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় এ পর্যন্ত ১১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে এর মধ্যে ৪৫ জনের রিপোর্ট আমরা হাতে পেয়েছি। যার মধ্যে একটি করোনা পজেটিভ এসেছে। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার মত্যুবরণকারী মো. দোলোয়ার হোসেন দুলাল হাওলাদার (৩২) নারায়ণগঞ্জ ফেরত গার্মেন্টসকর্মী ছিল। তার মৃত্যুর পর জেলার দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের দুমকি গ্রামটি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তুপন কুমার ঘোষ বলেন, ’করোনা পরিস্থিতিতে দুস্থ কোনো মানুষ যাতে অভুক্ত না থাকে এজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি। ৭৯ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া শিশু ও গো-খাদ্যের জন্য কিছু বরাদ্দ পাওয়ার কথা রয়েছে।’

ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি আমরা লক্ষ্য করেছি। সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে ত্রাণ দিতে হলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে হবে। সরকারের নির্দেশনা অমান্য করা হলে আমরা কঠোর হতে বাধ্য হবে। কেন না করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নির্দেশনা আমরা যথাযথভাবে অনুসরণ করছি।

মানবকণ্ঠ/আরবি





ads







Loading...