টেকনাফে হোম কোয়ারেন্টিনে জামাতফেরত ৪২, তিনজনের নমুনা সংগ্রহ

মো. শাহীন, টেকনাফ (কক্সবাজার)

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২১:৫৩,  আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০২:১৮

টেকনাফে তাবলীগ জামাত থেকে ফেরা ৪২ জনের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লান পাড়া, সাবরাং ইউনিয়নের মন্ডল পাড়া, কুয়াইনছড়ি পাড়া, নয়া পাড়া, আলীর ডেইল এলাকায় গিয়ে জনসচেতনা কার্যক্রম ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়।

জামাতফেরতদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ থেকে একটি গ্রুপ বুধবার সকালে, আর একটি গ্রুপ নারায়ণগঞ্জ থেকে ৩ এপ্রিল বিকেলে ও অন্য একটি গ্রুপ গত ২২ মার্চ এলাকায় ফিরে আসে। এ ছাড়া কেউ কেউ বিভিন্ন সময়ে এলাকায় চলে আসে।

এদিকে তাবলীগ জামাতের দুজনের মৃত্যু ও বেশ কজন করোনায় আক্রান্তের ফলে নারায়ণগঞ্জ লকডাউন করেছে প্রশাসন। এ খবরটি টেকনাফে উপজেলায় প্রচার হওয়ার পর হতে বিভিন্ন এলাকা হতে টেকনাফে ফিরে আসা তাবলীগ জামাতের লোকজন সম্পর্কে তথ্য আসতে থাকে প্রশাসন, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে ।

এসব তথ্যের ভিত্তেতে বুধবার সকালে টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল মনছুর, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল ও টেকনাফ দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর লে. তোকির আহমেদ, থানা পুলিশের এসআই নাজিম উদ্দিন, এ এস আই মো. অহিদ উল্লাহ, সাবরাং ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেন সহ প্রশাসনিক টিম ছুটে যায় বিভিন্ন এসব এলাকায়।

এসব এলাকা পরিদর্শন করে এ টিম তাবলীগ জামাত হতে আসা সাবরাং লেজির পাড়ার আব্দুল গফুর, নুরুল ইসলাম ও টেকনাফ নতুন পল্লান পাড়ার দুধু মিয়ার নমুনা সংগ্রহ করেন এবং অন্যান্যদেরকে সচেতনামূলক প্রচারপত্র বিলি ও হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেন।

এ প্রসংগে সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, প্রশাসনিকভাবে সাবরাং এলাকায় আসা তাবলীগ জামাত হতে সদ্য এলাকায় আসা লোকজনকে হোম কোয়ানেন্টিন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সেভাবে পরিষদের পক্ষ হতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা টিটু চন্দ্র শীল বলেন, ৪২ জন তাবলীগ জামাতের সদস্যকে পেয়েছি। তাদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এদের মধ্য হতে করোনা সন্দেহে তিন জনের নমুন সংগ্রহ করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, টেকনাফ নৌবাহিনীর দায়িত্বরত লে. তৌকির আহমেদ বলেন, আগের চেয়ে টেকনাফ উপজেলাবাসী অনেক সচেতন হয়েছে। এরা এখন আগের মত বাজারে ও দোকানপাটে বসে আড্ডা দিচ্ছে না। পাশাপাশি আমাদের কার্যত্রম আমরা প্রতিদিন চালিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ এরা আর ঘর হতে আগের মত বের হচ্ছে না।

টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল মনসুর বলেন, টেকনাফে হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে প্রশাসন কাজ করছে। যারা হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে তারা কেউ তার ব্যত্যয় করেনি। যদি করে তবে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

অপর দিকে কক্সবাজার জেলা প্রসক মো: কামাল হোসেন কক্সবাজার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন। তিনি ৮ এপ্রিল বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে এমন তথ্য দিয়ে বলেন, আজ হতে কক্সবাজারে কেউ বর্হিগমন বা আগমন করতে পারবে না। তার ব্যত্যয় ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ডিসি মো: কামাল হোসেন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে/শাহীন




Loading...
ads






Loading...