সিংগাইরে ঢুকলেই সোজা কোয়ারেন্টাইন

মোস্তাক আহম্মেদ

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক

poisha bazar

  • সংবাদদাতা, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৮ এপ্রিল ২০২০, ১৮:০৪

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তাবলীগ জামাতের ৪ মুসল্লি করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রশাসন সিংগাইর পৌরসভা ও জামির্ত্তা ইউনিয়নকে লকডাউন ঘোষণা করেছে। এ উপজেলায় বহিরাগত কেউ ঢুকলে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ ফরিদপুর থেকে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের বাইতুল মামুর ও মারকাযুল মা‘আরিফ ওয়াদ-দাওয়াহ মাদ্রাসায় তাবলীগ জামাতে এসেছিল ১২ সদস্যর একটি দল। এদের মধ্যে গত শনিবার (৪ এপ্রিল) আব্দুল বাকি নামের ৬০ বছরের এক মুসল্লির শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তাকে ঢাকায় রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা কেন্দ্রে (আইইডিসিআর) পরীক্ষা করালে তার শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে।

আরও পড়তে ক্লিক করুন- মানিকগঞ্জে তাবলিগে আসা ফরিদপুরের সেই ৩ করোনা আক্রান্তকে ঢাকায় স্থানান্তর

পরবর্তীতে গত রবিবার (৫ এপ্রিল) ভোরে ওই মাদরাসাসহ সিংগাইর পৌরসভা লকডাউন করে দেন স্থানীয় প্রশাসন। সেই সাথে তাবলীগ জামাতের ১১ সদস্যকে ওই মাদরাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। একই সাথে তাবলীগ জামাতে সংস্পর্শে আসা স্থানীয় ৬ জনকে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হোমকোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়। সেখানে তাবলীগ জামাতের ৩ ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। তারা প্রত্যেকেই ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

এদিকে গত সোমবার (৬এপ্রিল) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিদর্শক উম্মে কুলসুম (৪৫) ও তার স্বামী। আক্রান্ত দম্পতি স্বপরিবারে ঢাকার মিরপুরের টোলারবাগে থাকেন । বর্তমানে তারা ঢাকার উত্তরায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আইসোলোশনে আছেন।

একই দিনে উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নে চাপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর থেকে কাজ করতে আসা মোজাফফর নামের এক ইটভাটা শ্রমিকের করোনা ভাইরাসে মৃত্যু হওয়ায় ওই ইউনিয়নকে লকডাউন ঘোষণা করেন স্থানীয় প্রশাসন। তবে ইউনিয়নটিতে লকডাউন মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক দূরত্ব অমান্য করে ওই ইউনিয়নে চালু রাখা ৭টি ইটভাটায় শ্রমিকরা কাজ করছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৬ ব্যক্তিই বহিরাগত। এদের মধ্যে ৪ জন তাবলীগ জামাতের মুসল্লি, ১ জন ইটভাটা শ্রমিক ও অপরজন স্বাস্থ্য পরিদর্শক।

সূত্রমতে, বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ করতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেইজবুক পেইজে বহিরাগতদের দেখা মাত্র কোয়ারেন্টাইনে রাখতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে পুলিশ পাহারা জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছেন। পাড়া-মহল্লায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে লকডাউন ঘোষণা করেছেন।

সিংগাইর থানার ওসি আব্দুস সাত্তার মিয়া বলেন, বহিরাগত ঠেকাতে থানা এলাকার সীমান্তবর্তী পুলিশ চেকপোষ্ট বসিয়ে প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেই সাথে একাধিক টহল পুলিশ টিম মাঠে কাজ করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, বহিরাগতরা যাতে এ উপজেলায় ঢুকতে না পারে সে বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ চলছে। এ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাবলীগ জামাতের মুসল্লিসহ ১০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে/মোস্তাক




Loading...
ads






Loading...