কুমিল্লায় ত্রাণের তালিকা নিয়ে মেয়র-কাউন্সিলরের অসন্তোষ

কুমিল্লায় ত্রাণের তালিকা নিয়ে মেয়র-কাউন্সিলরের অসন্তোষ
- প্রতিবেদক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৫ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৫৫

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) দরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সিটি কর্পোরেশন থেকে শুধু সদর দক্ষিণ উপজেলার ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। সদর অংশের বাকি ১৮টি ওয়ার্ড কাউন্সিলররা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

এ নিয়ে তাদের মেধ্য অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কোনও ওয়ার্ডকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু।

একটি সূত্র জানায়, শুকনো খাবার বিতরণের জন্য তালিকা করার বিষয়ে গত ২৫ মার্চ কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে কুসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের তালিকা চাওয়া হয়।

এদের মধ্যে ভিক্ষুক, ভবঘুরে, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ আছে।

ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কুসিকের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে সদর দক্ষিণ উপজেলার ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের কোনও চিঠি ছাড়াই মৌখিকভাবে ৫০০ জনের তালিকা করার নির্দেশ দেন মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। তবে সদর অংশের ১৮টি ওয়ার্ডের কোনও তালিকা চাওয়া হয়নি।

এতে করে ১৮টি ওয়ার্ডের ২৪ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর তালিকা করার কোনও চিঠি কিংবা মৌখিক আদেশ পাননি বলে ওই সূত্র জানায়।

এদিকে, একই চিঠি পুনরায় ১ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে সিটি কর্পোরেশনে পাঠানো হয়। সে চিঠিও কোনও কাউন্সিলরকে দেওয়া হয়নি বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, ‌'একই সিটি কর্পোরেশনে দুই নীতি। সদর দক্ষিণের ৯টি ওয়ার্ডকে যেভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হলো, তা মানা যায় না। আমার ওয়ার্ডের অনেক মানুষ রয়েছেন, যার দিনে আনেন দিনে খান। বিশেষ করে মফিজাবাদ কলোনির কথা বলবো। ওখানে শতাধিক পরিবার আছে, যাদের বেশির ভাগ নিম্ন আয়ের। তাদের চেয়ে বেশি কেউ অগ্রাধিকার পেতে পারে না। যদি অগ্রাধিকার পেতে হয়, তবে সদরের ওয়ার্ডগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। কারণ সদরের ওয়ার্ডগুলোতেই দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানগাড়ি চালক, পরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার বেশি।'

বিষয়টি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন খান বলেন, 'ই-মেইলে আমার কাছে একটি তালিকা চেয়েছে। আমি তালিকা দিয়েছি। কেন তালিকা চেয়েছে, কি হবে এই তালিকা দিয়ে তা জানি না।'

বিষয়টি নিয়ে মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‌'কোনও ওয়ার্ডকে আসলে অগ্রাধিকার দিইনি। এখানে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক থেকে পুরো সিটি কর্পোরেশনের জন্য তালিকা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী ই-মেইলে সব কাউন্সিলরদের তালিকার জন্য বলা হয়েছে। আর সদর দক্ষিণ উপজেলার ওই ৯টি ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দ দেবে। সিটি কর্পোরেশন থেকে শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য তালিকা চাওয়া হয়েছে। আমরা ওই ৯টি ওয়ার্ডের সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের কাছে তালিকা চেয়েছি। সিটি কর্পোরেশন থেকে কোনও আলাদা করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে না।'

মানবকণ্ঠ/এআইএস

 





ads







Loading...