সাহায্যের জন্য মানুষের হাহাকার!

রাজু খান, ঝালকাঠি

সাহায্যের জন্য মানুষের হাহাকার!

  • ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৭:১৬

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনা ভাইরাস আতঙ্কের পরেও নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সরকারের নির্দেশনার কথা চিন্তা না করেই সাহায্যের জন্য হাহাকার করছেন ঝালকাঠির নিম্নআয়ের পেশাজীবী মানুষ। তারা বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তাদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিচ্ছেন।

কেউ বের হয়েছেন খাবারের সন্ধানে। কেউ আবার খোঁজ নিচ্ছেন কোথাও ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে কিনা। আবার কেউ জটলা সৃষ্টি করে দিচ্ছেন আড্ডা। অনেকে আবার হাট-বাজারে গা মিলিয়ে কেনাকাটা করছেন। প্রতিদিন জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শতর্কবার্তা প্রচার, ভ্রাম্যমাণ আদালত, সেনাবাহিনীর টহল ও স্বেচ্ছাসেবীদের অনুরোধ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ মানছেন না কোনো আইন বা অনুরোধ।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভিড় জমে আছে বৃদ্ধ নারীপুরুষের। ঘরে খাবার না থাকায় এসব নারীরা সহায়তা পাওয়ার আসায় রাস্তায় নেমেছেন বলে তারা জানান। একসঙ্গে জটলাবেধে তারা কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ আবার বসে আছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাগো আল্লায় বাঁচাইবে। গরিবের আল্লা ছাড়া আর কেউ নাই। পেটে খাওন না থাকলে করল্লা (করোনা) এর কথা চিন্তা করবো কখন?

এছাড়াও সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে মানুষের জটলা লেগেই আছে। যানবাহনেও যাতায়াত করছেন একসঙ্গে চার থেকে পাঁচজন। সকাল ৯টার পরে শহরের রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। জরুরি কাজ ছাড়াও অনেকে রাস্তায় হাটছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানেও নিয়ম না মেনে একসঙ্গে জড়ো হয়ে কেনাকাটা করা হচ্ছে। অথচ স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোকানগুলোর সামনে নির্দিষ্ট দূরত্বে গোলবৃত্ত আঁকা রয়েছে। এমন চিত্র শহরের লঞ্চঘাট, বান্ধাঘাটা, বাঁশপট্টি, কাঠপট্টি ট্রলারঘাট, পৌর খেয়াঘাট, কলেজ খেয়াঘাট, চৌমাথা, সাধনার মোড়, ফায়ার সার্ভিস মোড়, কলেজ মোড়, ব্র্যাক মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায়।

সকাল ১০টার দিকে শহরের বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একসঙ্গে অনেকে কেনাকাটা করছেন। তাদের মধ্যে অনেকে মাস্ক ব্যবহার করলেও অনেকের কোনো প্রকার সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি এখনো।

ঝালকাঠির পৌরমেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন আমাদের কাছে সেরকম এক হাজার মানুষের তালিকা রয়েছে। তাদের বাড়িতে গিয়ে আমাদের কর্মীরা চাল, ডাল ও আলু পৌঁছে দিচ্ছে।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক জোহর আলী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন জনসাধারণকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। ঘরের বাইরে প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হলে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ জেলায় ৭ হাজার ৫শ' হতদরিদ্র পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। তাদেরকে ৭৫ মেট্রিকটন চাল ডাল এবং সাড়ে ৮ লাখ টাকা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরবি



poisha bazar

ads
ads