কলাপাড়ায় ১০ টাকা কেজির চাল নিয়ে ডিলারদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭:০২

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শ্রমজীবী মানুষের একমাত্র ভরসা ১০ টাকা কেজি দরের ফেয়ার প্রাইস কার্ডে চাল বিক্রি নিয়েও এবার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তালিকাভুক্ত কার্ডধারীদের এক পঞ্চমাংশ কোন চাল না পেলেও ডিলারদের খাতা কলমে লিপিবদ্ধ তথ্যে মার্চ পর্যন্ত বিতরণ সম্পন্ন রয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বললেন, অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে তালিকা সংশোধন করা হয়। আর ইউএনও বললেন বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা যায়, কলাপাড়ায় ৩২ জন ডিলার ১০টাকা কেজি দরের ফেয়ার প্রাইস’র চাল বিক্রিতে নিয়োজিত রয়েছে। এসব ডিলারের কাছে এ বছরের মার্চ মাসের চাল বিক্রির কাজ চলমান রয়েছে। অথচ মার্চ মাসের চাল বিক্রির খাতাপত্রের হিসাব তারা শেষ করছেন। বছরের মার্চ-এপ্রিল ছাড়াও সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ১০টাকা কেজির চাল বিতরণ করা হয়। ৩২ ডিলার যেন যথাযথভাবে প্রত্যেক কার্ডধারীতে ৩০ কেজি করে চাল ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিশ্চিত করবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে তালিকাভুক্ত কার্ডধারীদের এক পঞ্চমাংশ কোন চাল পায়নি। এ চাল কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

কলাপাড়া খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়ায় মোট ২০ হাজার ১৫৩ কার্ডধারী ১০টাকা কেজি দরে প্রতেকে ৩০ কেজি করে চাল পাবেন। অভিযোগ রয়েছে এর মধ্যে অন্তত: চার হাজার কার্ড রয়েছে ভুয়া। আবার তালিকায় নাম রয়েছে এমন বিত্তবানদের যারা নিজেরাও জানেন না। এছাড়া একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধির আত্মীয়-সজন, বিত্তশালী শত শত মানুষের নাম রয়েছে এ তালিকায়।

সুবিধাভোগীদের কাছে কার্ডগুলো থাকার কথা থাকলেও শত শত কার্ড ডিলারের কাছে থাকছে। ডিলারের দোকানে কার্ডধারীর নামের তালিকা ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশনা থাকার পরও কোন ডিলারের দোকানে এটি দৃশ্যমান পাওয়া যায় না। আর ডিলাররা অধিকাংশ ব্যবসায়ী নয়। সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এসব চাল নিয়ে অনিয়ম করছে। সবচেয়ে বেশি অরাজকতা হয়েছে মার্চ মাসের ফেয়ার প্রাইস কার্ডের চাল বিতরণে। করোনা সংক্রমন এড়াতে শ্রমজীবী মানুষ লকডাউনে থাকায় ৩২ ডিলার তাঁদের ইচ্ছেমতো কালো বাজারে বিক্রী করেছেন। তদারকি কর্মকর্তাদের উদাসীনতা রয়েছে এ ক্ষেত্রে। সরকারের খাদ্যবান্ধব এ কর্মসূচি গরিব মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলেও ক’জন অসৎ মানুষের কারনে তা ভেস্তে যেতে বসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের মাখন লাল বিশ্বাসের নাম রয়েছে এই তালিকায়। যার ক্রমিক নম্বর ২৫৫। এ দরিদ্র মানুষটি মার্চ মাসের ১০ টাকা কেজির কোন চাল পায়নি। তার কার্ডটি পর্যন্ত নেই। কবে চাল পেয়েছেন তা তার মনেও নেই। অথচ নীলগঞ্জের ২৭৬৭ জনের সকলের বিতরণের মার্চ মাসের চাল তিনজন ডিলার তুলে নিয়ে বিতরণ করেছেন বলে জানা গেছে। একই দশা মিঠাগঞ্জের ৬৫০ নম্বর তালিকার ব্যক্তির। তার নিজেরও জানা নেই তার নামে ১০ টাকা কেজির চাল উত্তোলন করা হয়। এ ইউনিয়নে ১১০৫ জন ১০ টাকা কেজি দরের ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। সব কয়টি ইউনিয়নের একই দশা। এসব তালিকা প্রকাশ্যে টানিয়ে দিলে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে বলে সচেতনমহলের দাবি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা বিএম শফিকুল ইসলাম জানান, অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে তালিকা সংশোধন করা হয়। এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। এ বিষয়ে কেউ আমাকে অভিযোগ করেনি। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মানবকণ্ঠ/এইচকে/গোফরান




Loading...
ads






Loading...